ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর-এর মমতাময়ী মায়ের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে সরকার Logo মাদক ও মানব পাচার নির্মূলে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ বরণ Logo কৃষক কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে টাঙ্গাইল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo নারী উদ্যোক্তা এবং প্রবাসীদের নিয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার Logo বাংলার যয়যাত্রাএর হরমুজ প্রণালী পার হতে কেন বাধা দিল ইরান Logo রায়ে ‘অসন্তুষ্ট’ শহীদ আবু সাঈদের পরিবার Logo সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন ১২ মে

আল্লাহতায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত এক প্রেমময় ইবাদত হজ্ব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 22
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হজ মুমিনের জন্য আল্লাহতায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত এক প্রেমময় ইবাদত। হজের আর প্রায় দুই মাস বাকি। আগামী মে মাসের শেষ দিকে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় সমবেত হবেন লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান। ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হজ সামর্থ্যবান মুসলিমদের জন্য ফরজ। তবে প্রত্যেক মুসলিম হজ পালনের স্বপ্ন লালন করেন। হজ শুধু ধর্মীয় বিধান নয়, বরং বিনয়, ভ্রাতৃত্ব এবং স্রষ্টার প্রতি আত্মসমর্পণের এক অনন্য মহিমা।

সম্ভাব্য সময়সূচি

ইসলামী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, জিলহজ মাসে হজ অনুষ্ঠিত হয়। সেই হিসেবে ২০২৬ সালের হজ শুরু হতে পারে ২৫ মে (৮ জিলহজ)। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা অর্থাৎ আরাফাতের দিন হতে পারে ২৬ মে। এর পরের দিন ২৭ মে উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা। তবে সবকিছুই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।

ইতিহাসে হজের শিক্ষা

হজের প্রতিটি আমল জড়িয়ে আছে হজরত ইব্রাহিম (আ.), তার স্ত্রী বিবি হাজেরা এবং পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর স্মৃতি ও ত্যাগের সঙ্গে। আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার বিদায় হজের মাধ্যমে এই পবিত্র ইবাদতের নিয়মগুলো পূর্ণতা দান করেন। হজের সময় সাদা সেলাইবিহীন কাপড় বা ইহরাম পরে যখন বিভিন্ন দেশের মানুষ এক কাতারে দাঁড়ান, তখন সেখানে ধনী-দরিদ্র বা বর্ণভেদের কোনো অবকাশ থাকে না। সবাই তখন সমান।

হজের ধরণ

সাধারণত তিনভাবে হজ পালন করা যায়। অধিকাংশ হাজি ‘হজ-এ-তামাত্তু’ পালন করেন, যেখানে প্রথমে ওমরাহ শেষ করে ইহরাম খুলে ফেলা হয় এবং পরে পুনরায় হজের ইহরাম বাঁধা হয়। এছাড়া রয়েছে ‘হজ-এ-কিরান’ ও ‘হজ-এ-ইফরাদ’। প্রথমবার যারা হজে যাচ্ছেন, তাদের জন্য আলেমগণ প্রায়ই ততামাত্তু হজের পরামর্শ দেন।

আচার ও আনুষ্ঠানিকতা

মক্কায় প্রবেশের আগেই নির্দিষ্ট স্থান বা মিকাত থেকে হাজিদের ইহরাম বাঁধতে হয়। এ সময় সুগন্ধি ব্যবহার, চুল বা নখ কাটা এবং কোনো প্রকার ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া নিষিদ্ধ। মক্কায় পৌঁছে হাজিরা কাবা শরীফ তাওয়াফ করেন এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাঈ করেন।

হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো আরাফাতের ময়দানে অবস্থান। আরাফাতের ময়দানে অবস্থান ছাড়া হজ পূর্ণ হয় না। এরপর হাজিরা মুজদালিফায় রাত কাটান এবং জামারাতে শয়তানের উদ্দেশ্যে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করেন। পশু কোরবানি এবং মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে হাজিরা নতুন জীবনের সংকল্প নিয়ে হজের মূল কাজগুলো শেষ করেন। হজের নিবন্ধন

হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক সময়ে নিবন্ধন করা। সৌদি আরব প্রতিটি দেশের জন্য নির্দিষ্ট কোটা বরাদ্দ করে থাকে। সরকারি বা বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে যথাযথ নথিপত্র জমা দিয়ে এই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। হজের খরচ প্যাকেজ এবং সুযোগ-সুবিধার ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন হয়। আন্তর্জাতিক প্যাকেজগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত ভালো মানের আবাসন ও যাতায়াতসহ জনপ্রতি খরচ কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

সতর্কতা

হজ আর্থিক ও শারীরিক ইবাদত। এই ইবাদতের জন্য শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকে কষ্টের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হয়। তাই হজে যাওয়ার আগে শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং হজের নিয়মকানুনগুলো ভালোভাবে শিখে নেওয়া জরুরি। অনেক সময় ভিড়ের মধ্যে অনেকে পথ হারিয়ে ফেলেন বা ভুল করে ফেলেন, তাই ধৈর্য ধরা এবং অভিজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত প্রয়োজন।

আলেমদের মতে, হজের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি। অপ্রয়োজনীয় ছবি তোলা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মগ্ন না থেকে ইবাদতে মনযোগী হওয়াকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আল্লাহতায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত এক প্রেমময় ইবাদত হজ্ব

আপডেট সময় : ১২:৪৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

হজ মুমিনের জন্য আল্লাহতায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত এক প্রেমময় ইবাদত। হজের আর প্রায় দুই মাস বাকি। আগামী মে মাসের শেষ দিকে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় সমবেত হবেন লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান। ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হজ সামর্থ্যবান মুসলিমদের জন্য ফরজ। তবে প্রত্যেক মুসলিম হজ পালনের স্বপ্ন লালন করেন। হজ শুধু ধর্মীয় বিধান নয়, বরং বিনয়, ভ্রাতৃত্ব এবং স্রষ্টার প্রতি আত্মসমর্পণের এক অনন্য মহিমা।

সম্ভাব্য সময়সূচি

ইসলামী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, জিলহজ মাসে হজ অনুষ্ঠিত হয়। সেই হিসেবে ২০২৬ সালের হজ শুরু হতে পারে ২৫ মে (৮ জিলহজ)। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা অর্থাৎ আরাফাতের দিন হতে পারে ২৬ মে। এর পরের দিন ২৭ মে উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা। তবে সবকিছুই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।

ইতিহাসে হজের শিক্ষা

হজের প্রতিটি আমল জড়িয়ে আছে হজরত ইব্রাহিম (আ.), তার স্ত্রী বিবি হাজেরা এবং পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর স্মৃতি ও ত্যাগের সঙ্গে। আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার বিদায় হজের মাধ্যমে এই পবিত্র ইবাদতের নিয়মগুলো পূর্ণতা দান করেন। হজের সময় সাদা সেলাইবিহীন কাপড় বা ইহরাম পরে যখন বিভিন্ন দেশের মানুষ এক কাতারে দাঁড়ান, তখন সেখানে ধনী-দরিদ্র বা বর্ণভেদের কোনো অবকাশ থাকে না। সবাই তখন সমান।

হজের ধরণ

সাধারণত তিনভাবে হজ পালন করা যায়। অধিকাংশ হাজি ‘হজ-এ-তামাত্তু’ পালন করেন, যেখানে প্রথমে ওমরাহ শেষ করে ইহরাম খুলে ফেলা হয় এবং পরে পুনরায় হজের ইহরাম বাঁধা হয়। এছাড়া রয়েছে ‘হজ-এ-কিরান’ ও ‘হজ-এ-ইফরাদ’। প্রথমবার যারা হজে যাচ্ছেন, তাদের জন্য আলেমগণ প্রায়ই ততামাত্তু হজের পরামর্শ দেন।

আচার ও আনুষ্ঠানিকতা

মক্কায় প্রবেশের আগেই নির্দিষ্ট স্থান বা মিকাত থেকে হাজিদের ইহরাম বাঁধতে হয়। এ সময় সুগন্ধি ব্যবহার, চুল বা নখ কাটা এবং কোনো প্রকার ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া নিষিদ্ধ। মক্কায় পৌঁছে হাজিরা কাবা শরীফ তাওয়াফ করেন এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাঈ করেন।

হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো আরাফাতের ময়দানে অবস্থান। আরাফাতের ময়দানে অবস্থান ছাড়া হজ পূর্ণ হয় না। এরপর হাজিরা মুজদালিফায় রাত কাটান এবং জামারাতে শয়তানের উদ্দেশ্যে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করেন। পশু কোরবানি এবং মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে হাজিরা নতুন জীবনের সংকল্প নিয়ে হজের মূল কাজগুলো শেষ করেন। হজের নিবন্ধন

হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক সময়ে নিবন্ধন করা। সৌদি আরব প্রতিটি দেশের জন্য নির্দিষ্ট কোটা বরাদ্দ করে থাকে। সরকারি বা বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে যথাযথ নথিপত্র জমা দিয়ে এই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। হজের খরচ প্যাকেজ এবং সুযোগ-সুবিধার ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন হয়। আন্তর্জাতিক প্যাকেজগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত ভালো মানের আবাসন ও যাতায়াতসহ জনপ্রতি খরচ কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

সতর্কতা

হজ আর্থিক ও শারীরিক ইবাদত। এই ইবাদতের জন্য শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকে কষ্টের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হয়। তাই হজে যাওয়ার আগে শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং হজের নিয়মকানুনগুলো ভালোভাবে শিখে নেওয়া জরুরি। অনেক সময় ভিড়ের মধ্যে অনেকে পথ হারিয়ে ফেলেন বা ভুল করে ফেলেন, তাই ধৈর্য ধরা এবং অভিজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত প্রয়োজন।

আলেমদের মতে, হজের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি। অপ্রয়োজনীয় ছবি তোলা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মগ্ন না থেকে ইবাদতে মনযোগী হওয়াকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।