ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

মাদরাসায় মোবাইল ব্যবহার করায় ১৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও এক শিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 70
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোবাইল ফোন ব্যবহার ও শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে বেয়াদবির অভিযোগে গাজীপুরের টঙ্গীতে জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার ১৭ ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ওই মাদরাসার একটি ক্লাসের ১৭ জন শিক্ষার্থী গোপনে মোবাইল ব্যবহার করে আসছিলেন। বিষয়টি শিক্ষকরা জানতে পেরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে ওই শিক্ষার্থীরা গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ক্লাস শুরুর আগে কক্ষে তালা দিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষকদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে তাদের বহিষ্কার করা হয়।

মাদরাসাটির সহকারী শিক্ষক ও দারুল একামা মাওলানা শফী কাসেমী নদভী তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলোর জন্য একটি ইতিহাস তৈরি হলো। আমাদের জামিয়া সকল আসাতিযায়ে কেরামের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে এ বছরের দাওরার সকল ছাত্রদেরকে মোবাইল ব্যবহার, বেয়াদবি ইত্যাদি কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে সকল আসাতিযা সম্পূর্ণ একমত।

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা জাকির হোসেন জানান, দাওরায়ে হাদিসের জামায়াতে মোট  ১৭ জন শিক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে সবাই মোবাইলে আসক্ত। একেতো তারা মোবাইল ব্যবহার করে অপরাধ করেছে। আবার শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার মতো বেয়াদবি করেছে। যার কারণে তাদের বহিষ্কারের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুফতী আহমাদ আব্দুল্লাহ ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষায় জামিয়া নূরীয়ার আপসহীন সিদ্ধান্ত। মাশাআল্লাহ!

সম্প্রতি ‘বেয়াদবি ও মোবাইলকাণ্ডে’ দাওরায়ে হাদিসের সকল ছাত্রকে বহিষ্কারের ঘটনাটি দেশের বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইলমের চেয়েও ‘আদব’ বা শিষ্টাচারকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই হিসেবে, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও পবিত্রতা রক্ষায় কর্তৃপক্ষ যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তা ওলামায়ে কেরাম ও সচেতন মহলের কাছে অত্যন্ত যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী বলে মনে হয়েছে।

​একটি আদর্শিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনোই অনিয়ম বা উস্তাদদের প্রতি অসম্মান সহ্য করতে পারে না। সংখ্যার চেয়ে গুণগত মান এবং চারিত্রিক দৃঢ়তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার।

​এই বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তের জন্য জামিয়া নূরীয়ার সম্মানিত মুহতামিম এবং পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আশা করা যায়, এই দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপটি অন্যান্য তালিবে ইলমদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং দ্বীনি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মাদরাসায় মোবাইল ব্যবহার করায় ১৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও এক শিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

মোবাইল ফোন ব্যবহার ও শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে বেয়াদবির অভিযোগে গাজীপুরের টঙ্গীতে জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার ১৭ ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ওই মাদরাসার একটি ক্লাসের ১৭ জন শিক্ষার্থী গোপনে মোবাইল ব্যবহার করে আসছিলেন। বিষয়টি শিক্ষকরা জানতে পেরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে ওই শিক্ষার্থীরা গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ক্লাস শুরুর আগে কক্ষে তালা দিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষকদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে তাদের বহিষ্কার করা হয়।

মাদরাসাটির সহকারী শিক্ষক ও দারুল একামা মাওলানা শফী কাসেমী নদভী তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলোর জন্য একটি ইতিহাস তৈরি হলো। আমাদের জামিয়া সকল আসাতিযায়ে কেরামের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে এ বছরের দাওরার সকল ছাত্রদেরকে মোবাইল ব্যবহার, বেয়াদবি ইত্যাদি কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে সকল আসাতিযা সম্পূর্ণ একমত।

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা জাকির হোসেন জানান, দাওরায়ে হাদিসের জামায়াতে মোট  ১৭ জন শিক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে সবাই মোবাইলে আসক্ত। একেতো তারা মোবাইল ব্যবহার করে অপরাধ করেছে। আবার শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার মতো বেয়াদবি করেছে। যার কারণে তাদের বহিষ্কারের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুফতী আহমাদ আব্দুল্লাহ ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষায় জামিয়া নূরীয়ার আপসহীন সিদ্ধান্ত। মাশাআল্লাহ!

সম্প্রতি ‘বেয়াদবি ও মোবাইলকাণ্ডে’ দাওরায়ে হাদিসের সকল ছাত্রকে বহিষ্কারের ঘটনাটি দেশের বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইলমের চেয়েও ‘আদব’ বা শিষ্টাচারকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই হিসেবে, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও পবিত্রতা রক্ষায় কর্তৃপক্ষ যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তা ওলামায়ে কেরাম ও সচেতন মহলের কাছে অত্যন্ত যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী বলে মনে হয়েছে।

​একটি আদর্শিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনোই অনিয়ম বা উস্তাদদের প্রতি অসম্মান সহ্য করতে পারে না। সংখ্যার চেয়ে গুণগত মান এবং চারিত্রিক দৃঢ়তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার।

​এই বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তের জন্য জামিয়া নূরীয়ার সম্মানিত মুহতামিম এবং পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আশা করা যায়, এই দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপটি অন্যান্য তালিবে ইলমদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং দ্বীনি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।