ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জ্বালানি সাশ্রয়ে বুধ-বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারকাজ চলবে ভার্চুয়ালি Logo এনসিপিতে যোগদানের হিড়িক Logo ৫ দফা দাবী সহ শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের মানববন্ধন কর্মসূচি Logo পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াবে বাংলাদেশ Logo পাম্প থেকে তেল নিতে অগ্রাধিকার চায় পুলিশ Logo খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পদক নিলেন জাইমা রহমান Logo ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর-এর মমতাময়ী মায়ের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে সরকার Logo মাদক ও মানব পাচার নির্মূলে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ বরণ

মাদরাসায় মোবাইল ব্যবহার করায় ১৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও এক শিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 19
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোবাইল ফোন ব্যবহার ও শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে বেয়াদবির অভিযোগে গাজীপুরের টঙ্গীতে জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার ১৭ ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ওই মাদরাসার একটি ক্লাসের ১৭ জন শিক্ষার্থী গোপনে মোবাইল ব্যবহার করে আসছিলেন। বিষয়টি শিক্ষকরা জানতে পেরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে ওই শিক্ষার্থীরা গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ক্লাস শুরুর আগে কক্ষে তালা দিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষকদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে তাদের বহিষ্কার করা হয়।

মাদরাসাটির সহকারী শিক্ষক ও দারুল একামা মাওলানা শফী কাসেমী নদভী তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলোর জন্য একটি ইতিহাস তৈরি হলো। আমাদের জামিয়া সকল আসাতিযায়ে কেরামের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে এ বছরের দাওরার সকল ছাত্রদেরকে মোবাইল ব্যবহার, বেয়াদবি ইত্যাদি কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে সকল আসাতিযা সম্পূর্ণ একমত।

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা জাকির হোসেন জানান, দাওরায়ে হাদিসের জামায়াতে মোট  ১৭ জন শিক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে সবাই মোবাইলে আসক্ত। একেতো তারা মোবাইল ব্যবহার করে অপরাধ করেছে। আবার শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার মতো বেয়াদবি করেছে। যার কারণে তাদের বহিষ্কারের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুফতী আহমাদ আব্দুল্লাহ ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষায় জামিয়া নূরীয়ার আপসহীন সিদ্ধান্ত। মাশাআল্লাহ!

সম্প্রতি ‘বেয়াদবি ও মোবাইলকাণ্ডে’ দাওরায়ে হাদিসের সকল ছাত্রকে বহিষ্কারের ঘটনাটি দেশের বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইলমের চেয়েও ‘আদব’ বা শিষ্টাচারকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই হিসেবে, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও পবিত্রতা রক্ষায় কর্তৃপক্ষ যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তা ওলামায়ে কেরাম ও সচেতন মহলের কাছে অত্যন্ত যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী বলে মনে হয়েছে।

​একটি আদর্শিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনোই অনিয়ম বা উস্তাদদের প্রতি অসম্মান সহ্য করতে পারে না। সংখ্যার চেয়ে গুণগত মান এবং চারিত্রিক দৃঢ়তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার।

​এই বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তের জন্য জামিয়া নূরীয়ার সম্মানিত মুহতামিম এবং পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আশা করা যায়, এই দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপটি অন্যান্য তালিবে ইলমদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং দ্বীনি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মাদরাসায় মোবাইল ব্যবহার করায় ১৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও এক শিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

মোবাইল ফোন ব্যবহার ও শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে বেয়াদবির অভিযোগে গাজীপুরের টঙ্গীতে জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার ১৭ ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ওই মাদরাসার একটি ক্লাসের ১৭ জন শিক্ষার্থী গোপনে মোবাইল ব্যবহার করে আসছিলেন। বিষয়টি শিক্ষকরা জানতে পেরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে ওই শিক্ষার্থীরা গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ক্লাস শুরুর আগে কক্ষে তালা দিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষকদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে তাদের বহিষ্কার করা হয়।

মাদরাসাটির সহকারী শিক্ষক ও দারুল একামা মাওলানা শফী কাসেমী নদভী তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলোর জন্য একটি ইতিহাস তৈরি হলো। আমাদের জামিয়া সকল আসাতিযায়ে কেরামের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে এ বছরের দাওরার সকল ছাত্রদেরকে মোবাইল ব্যবহার, বেয়াদবি ইত্যাদি কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে সকল আসাতিযা সম্পূর্ণ একমত।

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা জাকির হোসেন জানান, দাওরায়ে হাদিসের জামায়াতে মোট  ১৭ জন শিক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে সবাই মোবাইলে আসক্ত। একেতো তারা মোবাইল ব্যবহার করে অপরাধ করেছে। আবার শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার মতো বেয়াদবি করেছে। যার কারণে তাদের বহিষ্কারের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুফতী আহমাদ আব্দুল্লাহ ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষায় জামিয়া নূরীয়ার আপসহীন সিদ্ধান্ত। মাশাআল্লাহ!

সম্প্রতি ‘বেয়াদবি ও মোবাইলকাণ্ডে’ দাওরায়ে হাদিসের সকল ছাত্রকে বহিষ্কারের ঘটনাটি দেশের বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইলমের চেয়েও ‘আদব’ বা শিষ্টাচারকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই হিসেবে, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও পবিত্রতা রক্ষায় কর্তৃপক্ষ যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তা ওলামায়ে কেরাম ও সচেতন মহলের কাছে অত্যন্ত যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী বলে মনে হয়েছে।

​একটি আদর্শিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনোই অনিয়ম বা উস্তাদদের প্রতি অসম্মান সহ্য করতে পারে না। সংখ্যার চেয়ে গুণগত মান এবং চারিত্রিক দৃঢ়তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার।

​এই বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তের জন্য জামিয়া নূরীয়ার সম্মানিত মুহতামিম এবং পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আশা করা যায়, এই দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপটি অন্যান্য তালিবে ইলমদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং দ্বীনি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।