ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

মাদরাসায় মোবাইল ব্যবহার করায় ১৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও এক শিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 81
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোবাইল ফোন ব্যবহার ও শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে বেয়াদবির অভিযোগে গাজীপুরের টঙ্গীতে জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার ১৭ ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ওই মাদরাসার একটি ক্লাসের ১৭ জন শিক্ষার্থী গোপনে মোবাইল ব্যবহার করে আসছিলেন। বিষয়টি শিক্ষকরা জানতে পেরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে ওই শিক্ষার্থীরা গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ক্লাস শুরুর আগে কক্ষে তালা দিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষকদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে তাদের বহিষ্কার করা হয়।

মাদরাসাটির সহকারী শিক্ষক ও দারুল একামা মাওলানা শফী কাসেমী নদভী তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলোর জন্য একটি ইতিহাস তৈরি হলো। আমাদের জামিয়া সকল আসাতিযায়ে কেরামের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে এ বছরের দাওরার সকল ছাত্রদেরকে মোবাইল ব্যবহার, বেয়াদবি ইত্যাদি কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে সকল আসাতিযা সম্পূর্ণ একমত।

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা জাকির হোসেন জানান, দাওরায়ে হাদিসের জামায়াতে মোট  ১৭ জন শিক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে সবাই মোবাইলে আসক্ত। একেতো তারা মোবাইল ব্যবহার করে অপরাধ করেছে। আবার শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার মতো বেয়াদবি করেছে। যার কারণে তাদের বহিষ্কারের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুফতী আহমাদ আব্দুল্লাহ ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষায় জামিয়া নূরীয়ার আপসহীন সিদ্ধান্ত। মাশাআল্লাহ!

সম্প্রতি ‘বেয়াদবি ও মোবাইলকাণ্ডে’ দাওরায়ে হাদিসের সকল ছাত্রকে বহিষ্কারের ঘটনাটি দেশের বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইলমের চেয়েও ‘আদব’ বা শিষ্টাচারকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই হিসেবে, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও পবিত্রতা রক্ষায় কর্তৃপক্ষ যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তা ওলামায়ে কেরাম ও সচেতন মহলের কাছে অত্যন্ত যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী বলে মনে হয়েছে।

​একটি আদর্শিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনোই অনিয়ম বা উস্তাদদের প্রতি অসম্মান সহ্য করতে পারে না। সংখ্যার চেয়ে গুণগত মান এবং চারিত্রিক দৃঢ়তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার।

​এই বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তের জন্য জামিয়া নূরীয়ার সম্মানিত মুহতামিম এবং পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আশা করা যায়, এই দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপটি অন্যান্য তালিবে ইলমদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং দ্বীনি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মাদরাসায় মোবাইল ব্যবহার করায় ১৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও এক শিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

মোবাইল ফোন ব্যবহার ও শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে বেয়াদবির অভিযোগে গাজীপুরের টঙ্গীতে জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার ১৭ ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ওই মাদরাসার একটি ক্লাসের ১৭ জন শিক্ষার্থী গোপনে মোবাইল ব্যবহার করে আসছিলেন। বিষয়টি শিক্ষকরা জানতে পেরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে ওই শিক্ষার্থীরা গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ক্লাস শুরুর আগে কক্ষে তালা দিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষকদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে তাদের বহিষ্কার করা হয়।

মাদরাসাটির সহকারী শিক্ষক ও দারুল একামা মাওলানা শফী কাসেমী নদভী তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলোর জন্য একটি ইতিহাস তৈরি হলো। আমাদের জামিয়া সকল আসাতিযায়ে কেরামের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে এ বছরের দাওরার সকল ছাত্রদেরকে মোবাইল ব্যবহার, বেয়াদবি ইত্যাদি কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে সকল আসাতিযা সম্পূর্ণ একমত।

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা জাকির হোসেন জানান, দাওরায়ে হাদিসের জামায়াতে মোট  ১৭ জন শিক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে সবাই মোবাইলে আসক্ত। একেতো তারা মোবাইল ব্যবহার করে অপরাধ করেছে। আবার শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার মতো বেয়াদবি করেছে। যার কারণে তাদের বহিষ্কারের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুফতী আহমাদ আব্দুল্লাহ ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষায় জামিয়া নূরীয়ার আপসহীন সিদ্ধান্ত। মাশাআল্লাহ!

সম্প্রতি ‘বেয়াদবি ও মোবাইলকাণ্ডে’ দাওরায়ে হাদিসের সকল ছাত্রকে বহিষ্কারের ঘটনাটি দেশের বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইলমের চেয়েও ‘আদব’ বা শিষ্টাচারকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই হিসেবে, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও পবিত্রতা রক্ষায় কর্তৃপক্ষ যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তা ওলামায়ে কেরাম ও সচেতন মহলের কাছে অত্যন্ত যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী বলে মনে হয়েছে।

​একটি আদর্শিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনোই অনিয়ম বা উস্তাদদের প্রতি অসম্মান সহ্য করতে পারে না। সংখ্যার চেয়ে গুণগত মান এবং চারিত্রিক দৃঢ়তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার।

​এই বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তের জন্য জামিয়া নূরীয়ার সম্মানিত মুহতামিম এবং পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আশা করা যায়, এই দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপটি অন্যান্য তালিবে ইলমদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং দ্বীনি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।