ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

মুসলিম ধর্মের বিয়ে নিয়ে ইসলাম কি বলে ?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 337
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ইসলামে বিয়ে (নিকাহ) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং সামাজিক দায়িত্ব। কুরআন-হাদীসে বিয়ের গুরুত্ব, নিয়ম-নীতি ও উদ্দেশ্য খুব স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। নিচে সহজ করে মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো-

 

 

ইসলামে বিয়ের স্থান

বিয়ে সুন্নত এবং অনেক সময় ওয়াজিব হয়—বিশেষ করে যখন কেউ বিবাহ ছাড়া নিজের চরিত্র রক্ষা করতে না পারে।

কুরআনে আল্লাহ বলেন:
“তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদেরকে বিবাহ দাও…” (সূরা নূর ২৪:৩২)

হাদিসে পাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন, হে যুবকদল! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি (বিবাহের অর্থাৎ স্ত্রীর ভরণপোষণ ও রতিক্রিয়ার) সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কারণ, বিবাহ চক্ষুকে দস্ত্তরমত সংযত করে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করে। আর যে ব্যক্তি ঐ সামর্থ্য রাখে না সে যেন রোযা রাখে। কারণ, তা যৌনেন্দ্রিয় দমনকারী। (বুখারী ৫০৬৫)

বিয়ের মূল উদ্দেশ্য

* পবিত্রতা রক্ষা
ব্যাভিচার ও অনৈতিকতা থেকে রক্ষা করা।

* পরিবার গঠন
শান্তিপূর্ণ পরিবার ও সমাজ প্রতিষ্ঠা।

* মমতা ও শান্তি
কুরআনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে বলা হয়েছে মাওয়াদ্দত (ভালোবাসা) ও রাহমত (দয়া)।

 

বিয়ের প্রয়োজনীয় শর্ত

ইসলামে বৈধ বিয়ের জন্য সাধারণত পাঁচটি জিনিস লাগে:

* পক্ষ-দ্বয়ের সম্মতি
জোরজবরদস্তি করে বিয়ে বৈধ নয়।

* কাবুল ও ইজাব (প্রস্তাব ও গ্রহণ)
দুই পক্ষের স্পষ্টভাবে “কবুল” বলা।

*মোহর (মাহর)
স্ত্রীকে সম্মানের নিদর্শন হিসেবে দেওয়া বাধ্যতামূলক।

* ওয়ালী
বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি গুরুত্বপূর্ণ (মাজহাবভেদে পার্থক্য আছে)।

*দুইজন সাক্ষী
দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ সাক্ষী বা একজন পুরুষ + দুই নারী।

বিয়েতে নিষিদ্ধ বিষয়

জিনা বা লিভ-ইন সম্পর্ক।

বিয়ে গোপন রাখা।

সুদ, জুলুম বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন।

মাহরাম (যাদের বিয়ে হারাম) এর সাথে বিয়ে।

অতএব, ইসলামে বিবাহ একটি অপশন বা সুযোগ নয়, বরং এটি একটি সৃষ্টিগত প্রয়োজন, সামাজিক ভিত্তি, আধ্যাত্মিক পূর্ণতা এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধের প্রতীক। এটি মানবজীবনে শৃঙ্খলা, পবিত্রতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সময়মতো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার তৌফিক দান করুন-আমীন।

 

লেখক

বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও মুহাদ্দিস-

হাফেজ মাওলানা মুফতি নুরুল্লাহ আল বাকী
ইমাম ও খতিব: মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদ মুগদা মান্ডা ঢাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মুসলিম ধর্মের বিয়ে নিয়ে ইসলাম কি বলে ?

আপডেট সময় : ০৬:২৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

 

ইসলামে বিয়ে (নিকাহ) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং সামাজিক দায়িত্ব। কুরআন-হাদীসে বিয়ের গুরুত্ব, নিয়ম-নীতি ও উদ্দেশ্য খুব স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। নিচে সহজ করে মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো-

 

 

ইসলামে বিয়ের স্থান

বিয়ে সুন্নত এবং অনেক সময় ওয়াজিব হয়—বিশেষ করে যখন কেউ বিবাহ ছাড়া নিজের চরিত্র রক্ষা করতে না পারে।

কুরআনে আল্লাহ বলেন:
“তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদেরকে বিবাহ দাও…” (সূরা নূর ২৪:৩২)

হাদিসে পাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন, হে যুবকদল! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি (বিবাহের অর্থাৎ স্ত্রীর ভরণপোষণ ও রতিক্রিয়ার) সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কারণ, বিবাহ চক্ষুকে দস্ত্তরমত সংযত করে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করে। আর যে ব্যক্তি ঐ সামর্থ্য রাখে না সে যেন রোযা রাখে। কারণ, তা যৌনেন্দ্রিয় দমনকারী। (বুখারী ৫০৬৫)

বিয়ের মূল উদ্দেশ্য

* পবিত্রতা রক্ষা
ব্যাভিচার ও অনৈতিকতা থেকে রক্ষা করা।

* পরিবার গঠন
শান্তিপূর্ণ পরিবার ও সমাজ প্রতিষ্ঠা।

* মমতা ও শান্তি
কুরআনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে বলা হয়েছে মাওয়াদ্দত (ভালোবাসা) ও রাহমত (দয়া)।

 

বিয়ের প্রয়োজনীয় শর্ত

ইসলামে বৈধ বিয়ের জন্য সাধারণত পাঁচটি জিনিস লাগে:

* পক্ষ-দ্বয়ের সম্মতি
জোরজবরদস্তি করে বিয়ে বৈধ নয়।

* কাবুল ও ইজাব (প্রস্তাব ও গ্রহণ)
দুই পক্ষের স্পষ্টভাবে “কবুল” বলা।

*মোহর (মাহর)
স্ত্রীকে সম্মানের নিদর্শন হিসেবে দেওয়া বাধ্যতামূলক।

* ওয়ালী
বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি গুরুত্বপূর্ণ (মাজহাবভেদে পার্থক্য আছে)।

*দুইজন সাক্ষী
দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ সাক্ষী বা একজন পুরুষ + দুই নারী।

বিয়েতে নিষিদ্ধ বিষয়

জিনা বা লিভ-ইন সম্পর্ক।

বিয়ে গোপন রাখা।

সুদ, জুলুম বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন।

মাহরাম (যাদের বিয়ে হারাম) এর সাথে বিয়ে।

অতএব, ইসলামে বিবাহ একটি অপশন বা সুযোগ নয়, বরং এটি একটি সৃষ্টিগত প্রয়োজন, সামাজিক ভিত্তি, আধ্যাত্মিক পূর্ণতা এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধের প্রতীক। এটি মানবজীবনে শৃঙ্খলা, পবিত্রতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সময়মতো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার তৌফিক দান করুন-আমীন।

 

লেখক

বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও মুহাদ্দিস-

হাফেজ মাওলানা মুফতি নুরুল্লাহ আল বাকী
ইমাম ও খতিব: মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদ মুগদা মান্ডা ঢাকা।