ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

৫৫ দিনের ম্যাজিক: প্রবাস থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 46
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

আবির মোহাম্মদ

________

দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনের পর দেশে ফেরার মাত্র ৫৫ দিনে বাংলাদেশের রাজনীতির মানচিত্র বদলে দিয়েছেন তারেক রহমান। রাজসিক প্রত্যাবর্তনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তিনি এখন দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী।
২৫ ডিসেম্বর দেশে পা রাখার পর থেকে ভোটে বিজয়—এই ৫৫ দিনের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল সুপরিকল্পিত ও কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর উত্তরসূরি হিসেবে ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
প্রত্যাবর্তন ও ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’
২৫ ডিসেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবতরণে জনস্রোত তৎক্ষণাৎ তার প্রত্যাবর্তনের গুরুত্ব প্রমাণ করে। সংবর্ধনা সমাবেশে তিনি মার্কিন মানবাধিকার কর্মী মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের উক্তি স্মরণ করে বলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী লক্ষ্য ছিল জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। দেশে ফেরার ১৫ দিনে ৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, এরপর ৪৬ দিনে তিনি পুরো দেশকে নির্বাচনী আবহে সক্রিয় করে তোলেন।
প্রতিহিংসা নয়, ঐক্যের ডাক
তারেক রহমানের মূল বার্তা ছিল প্রতিশোধের রাজনীতির অবসান। তিনি বারবার বলেছেন, ‘বিজয়ীর কাছে পরাজিতরা নিরাপদ থাকলে বিজয়ের আনন্দ মহিমান্বিত হয়’। দীর্ঘ রাজনৈতিক দমন-পীড়নের পরও তিনি প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি পরিহারের অঙ্গীকার করে সাধারণ ও ভাসমান ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন। পাশাপাশি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অতীত অবস্থান ও নারী নীতি প্রসঙ্গে কৌশলী বক্তব্য দিয়ে মধ্যপন্থী ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন।
তফসিল ঘোষণা ও ঝটিকা সফর
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঝটিকা সফর করেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এবং সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে বিএনপির পুনর্গঠিত ভাবমূর্তির স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বিএনপিকে উদার ও মধ্যপন্থী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা কৌশল কার্যকর হয়েছে।
তরুণ প্রজন্মের নতুন আইকন
প্রায় সাড়ে ৪ কোটি তরুণ ভোটার নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের জন্য তারেক রহমান প্রণয়ন করেছেন নির্বাচনী ইশতেহার, যেখানে মূল প্রাধান্য:
কর্মসংস্থান: ক্ষমতায় আসার প্রথম ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান।
প্রযুক্তি: ফ্রিল্যান্সারদের জন্য পেপাল ও ওয়াইজ সেবা চালু, প্রতিটি জেলায় আইটি পার্ক, কারিগরি শিক্ষার প্রসার।
শিক্ষা: মাধ্যমিক স্তর থেকেই বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ, বৈশ্বিক দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড: সাধারণ মানুষের আস্থা
গ্রামাঞ্চল ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড: ৫০ লাখ পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তায় আনা।
কৃষক কার্ড: সার, বীজ ও স্বল্পসুদে ঋণ।
দলীয় বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এই দুই উদ্যোগ নীরব ভোটারদের একটি বড় অংশকে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে আনতে সাহায্য করেছে।
মায়ের ছায়া থেকে নিজেই কাণ্ডারী
১৯৬৮ সালে জন্মগ্রহণ করা তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০৭ সালে কারাবন্দী হন, ২০০৮ থেকে লন্ডনে অবস্থান করেন। ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নেতৃত্ব চালান। ২৫ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তন বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করে।
চ্যালেঞ্জ এখন সুশাসন ও অর্থনীতি
বিজয়ের পর তারেক রহমান জানিয়েছেন, ‘দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই আমাদের প্রথম কাজ। আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে’।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “তারেক রহমান নিজেকে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রস্তুত করেছেন। অর্থনীতি সচল করা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।”
নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শিখরে আরোহণ করা তারেক রহমান এখন কোটি মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু। প্রবাসজীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন কি না—এটাই এখন দেশের নজরকাড়া প্রশ্ন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৫৫ দিনের ম্যাজিক: প্রবাস থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০২:১০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

 

আবির মোহাম্মদ

________

দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনের পর দেশে ফেরার মাত্র ৫৫ দিনে বাংলাদেশের রাজনীতির মানচিত্র বদলে দিয়েছেন তারেক রহমান। রাজসিক প্রত্যাবর্তনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তিনি এখন দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী।
২৫ ডিসেম্বর দেশে পা রাখার পর থেকে ভোটে বিজয়—এই ৫৫ দিনের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল সুপরিকল্পিত ও কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর উত্তরসূরি হিসেবে ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
প্রত্যাবর্তন ও ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’
২৫ ডিসেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবতরণে জনস্রোত তৎক্ষণাৎ তার প্রত্যাবর্তনের গুরুত্ব প্রমাণ করে। সংবর্ধনা সমাবেশে তিনি মার্কিন মানবাধিকার কর্মী মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের উক্তি স্মরণ করে বলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী লক্ষ্য ছিল জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। দেশে ফেরার ১৫ দিনে ৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, এরপর ৪৬ দিনে তিনি পুরো দেশকে নির্বাচনী আবহে সক্রিয় করে তোলেন।
প্রতিহিংসা নয়, ঐক্যের ডাক
তারেক রহমানের মূল বার্তা ছিল প্রতিশোধের রাজনীতির অবসান। তিনি বারবার বলেছেন, ‘বিজয়ীর কাছে পরাজিতরা নিরাপদ থাকলে বিজয়ের আনন্দ মহিমান্বিত হয়’। দীর্ঘ রাজনৈতিক দমন-পীড়নের পরও তিনি প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি পরিহারের অঙ্গীকার করে সাধারণ ও ভাসমান ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন। পাশাপাশি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অতীত অবস্থান ও নারী নীতি প্রসঙ্গে কৌশলী বক্তব্য দিয়ে মধ্যপন্থী ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন।
তফসিল ঘোষণা ও ঝটিকা সফর
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঝটিকা সফর করেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এবং সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে বিএনপির পুনর্গঠিত ভাবমূর্তির স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বিএনপিকে উদার ও মধ্যপন্থী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা কৌশল কার্যকর হয়েছে।
তরুণ প্রজন্মের নতুন আইকন
প্রায় সাড়ে ৪ কোটি তরুণ ভোটার নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের জন্য তারেক রহমান প্রণয়ন করেছেন নির্বাচনী ইশতেহার, যেখানে মূল প্রাধান্য:
কর্মসংস্থান: ক্ষমতায় আসার প্রথম ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান।
প্রযুক্তি: ফ্রিল্যান্সারদের জন্য পেপাল ও ওয়াইজ সেবা চালু, প্রতিটি জেলায় আইটি পার্ক, কারিগরি শিক্ষার প্রসার।
শিক্ষা: মাধ্যমিক স্তর থেকেই বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ, বৈশ্বিক দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড: সাধারণ মানুষের আস্থা
গ্রামাঞ্চল ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড: ৫০ লাখ পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তায় আনা।
কৃষক কার্ড: সার, বীজ ও স্বল্পসুদে ঋণ।
দলীয় বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এই দুই উদ্যোগ নীরব ভোটারদের একটি বড় অংশকে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে আনতে সাহায্য করেছে।
মায়ের ছায়া থেকে নিজেই কাণ্ডারী
১৯৬৮ সালে জন্মগ্রহণ করা তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০৭ সালে কারাবন্দী হন, ২০০৮ থেকে লন্ডনে অবস্থান করেন। ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নেতৃত্ব চালান। ২৫ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তন বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করে।
চ্যালেঞ্জ এখন সুশাসন ও অর্থনীতি
বিজয়ের পর তারেক রহমান জানিয়েছেন, ‘দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই আমাদের প্রথম কাজ। আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে’।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “তারেক রহমান নিজেকে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রস্তুত করেছেন। অর্থনীতি সচল করা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।”
নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শিখরে আরোহণ করা তারেক রহমান এখন কোটি মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু। প্রবাসজীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন কি না—এটাই এখন দেশের নজরকাড়া প্রশ্ন।