ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রাণীদের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ কি সম্ভব ?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৪:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • / ৫০৩ বার পড়া হয়েছে
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এমন তো প্রায়ই মনে হয় আমাদের- যদি নিজের পোষা কুকুর বা বিড়ালের সঙ্গে কথা বলা যেতো!

তারা কী ভাবছে, কী চায় সব যদি বুঝে নেওয়া যেত!

বাস্তবে এমনটা এখনও সম্ভব হয়নি, তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে যোগাযোগের নতুন পথ তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি ডিজনি ও পিক্সারের নতুন চলচ্চিত্র ‘হপার্স’-এ এই ধারণাটিই তুলে ধরা হয়েছে।

সেখানে বিজ্ঞানীরা মানুষের চেতনা বিশেষ রোবটের মাধ্যমে প্রাণীর জগতে পাঠিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন।

যদিও এটি এখনো কল্পবিজ্ঞান, তবু গবেষকরা বলছেন, প্রাণীদের যোগাযোগ বোঝার ক্ষেত্রে বাস্তব দুনিয়াতেও কিছু অগ্রগতি হচ্ছে।

প্রাণীদের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ কি সম্ভব?

কিছু বিজ্ঞানীর মতে, ভবিষ্যতে মানুষের সঙ্গে প্রাণীর সীমিত ধরনের যোগাযোগ সম্ভব হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক ডেভিড গ্রুভার মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তি প্রাণীদের ভাষা বোঝার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তার নেতৃত্বে থাকা গবেষণা উদ্যোগ প্রজেক্ট সিইটিআই তিমির শব্দ বিশ্লেষণ করে তাদের যোগাযোগ পদ্ধতি বোঝার চেষ্টা করছে।

বিশেষ করে স্পার্ম তিমির শব্দে মানুষের ভাষার মতো গঠন থাকতে পারে বলে গবেষকেরা ধারণা করছেন।

বিশ্বজুড়ে আরও নানা গবেষণা চলছে। বন্দী শিম্পাঞ্জিদের ইশারাভিত্তিক ভাষা শেখানো হয়েছে, কাটলফিশের হাতের ভঙ্গি দিয়ে সংকেত দেওয়ার আচরণ লক্ষ্য করা হয়েছে, আর ডলফিনের শিসধ্বনিতে ভাষার মতো বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে।

তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এসব প্রাণী কিছু শব্দ বা সংকেত বুঝতে পারলেও মানুষের মতো পূর্ণাঙ্গ ভাষা ব্যবহার করে না।

কেন মানুষের মতো ভাষা প্রাণীদের নেই?

গবেষকদের মতে, প্রাণীদের যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও সেটি মানুষের ভাষার মতো জটিল নয়। মানুষের ভাষায় ব্যাকরণ, বাক্যগঠন এবং বিমূর্ত ধারণা প্রকাশের ক্ষমতা আছে। যা এখন পর্যন্ত অন্য প্রাণীর মধ্যে দেখা যায়নি।

উদাহরণ হিসেবে কুকুরকে ধরা যায়। হাজার হাজার বছরের গৃহপালনের ফলে কুকুর মানুষের ইশারা, মুখভঙ্গি বা নির্দেশ অনেকটাই বুঝতে পারে। কিন্তু তাতে তারা মানুষের মতো বাক্য বোঝে বা জটিল ধারণা প্রকাশ করতে পারে এমন প্রমাণ নেই।

আরেকটি বড় বাধা হলো প্রাণীদের পৃথিবী দেখার ধরন মানুষের থেকে একেবারেই আলাদা। তাদের অনুভূতি, অগ্রাধিকার এবং পরিবেশ উপলব্ধির ধরন ভিন্ন হওয়ায় সরাসরি অর্থ মিলিয়ে নেওয়া কঠিন।

প্রযুক্তি কি নতুন দরজা খুলবে?

তবুও বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রাণীদের শব্দ ও সংকেতের সূক্ষ্ম পার্থক্য শনাক্ত করতে পারছে, যা মানুষের পক্ষে ধরা কঠিন।

এই গবেষণার সম্ভাব্য উপকারও অনেক। যদি প্রাণীদের সংকেত ভালোভাবে বোঝা যায়, তাহলে পোষা প্রাণীর প্রয়োজন বোঝা সহজ হবে, খামারের প্রাণীর যত্ন উন্নত হবে, এমনকি বন্য প্রাণী সংরক্ষণেও নতুন পথ খুলতে পারে।

তবে অনেক গবেষকই মনে করেন, মানুষের মতো বসে প্রাণীর সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথন করা হয়তো কখনোই সম্ভব হবে না। তবুও প্রাণীদের যোগাযোগ পদ্ধতি বোঝার চেষ্টা আমাদের তাদের জীবন ও আচরণ সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখাবে- এটাই বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় আশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রাণীদের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ কি সম্ভব ?

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

এমন তো প্রায়ই মনে হয় আমাদের- যদি নিজের পোষা কুকুর বা বিড়ালের সঙ্গে কথা বলা যেতো!

তারা কী ভাবছে, কী চায় সব যদি বুঝে নেওয়া যেত!

বাস্তবে এমনটা এখনও সম্ভব হয়নি, তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে যোগাযোগের নতুন পথ তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি ডিজনি ও পিক্সারের নতুন চলচ্চিত্র ‘হপার্স’-এ এই ধারণাটিই তুলে ধরা হয়েছে।

সেখানে বিজ্ঞানীরা মানুষের চেতনা বিশেষ রোবটের মাধ্যমে প্রাণীর জগতে পাঠিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন।

যদিও এটি এখনো কল্পবিজ্ঞান, তবু গবেষকরা বলছেন, প্রাণীদের যোগাযোগ বোঝার ক্ষেত্রে বাস্তব দুনিয়াতেও কিছু অগ্রগতি হচ্ছে।

প্রাণীদের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ কি সম্ভব?

কিছু বিজ্ঞানীর মতে, ভবিষ্যতে মানুষের সঙ্গে প্রাণীর সীমিত ধরনের যোগাযোগ সম্ভব হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক ডেভিড গ্রুভার মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তি প্রাণীদের ভাষা বোঝার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তার নেতৃত্বে থাকা গবেষণা উদ্যোগ প্রজেক্ট সিইটিআই তিমির শব্দ বিশ্লেষণ করে তাদের যোগাযোগ পদ্ধতি বোঝার চেষ্টা করছে।

বিশেষ করে স্পার্ম তিমির শব্দে মানুষের ভাষার মতো গঠন থাকতে পারে বলে গবেষকেরা ধারণা করছেন।

বিশ্বজুড়ে আরও নানা গবেষণা চলছে। বন্দী শিম্পাঞ্জিদের ইশারাভিত্তিক ভাষা শেখানো হয়েছে, কাটলফিশের হাতের ভঙ্গি দিয়ে সংকেত দেওয়ার আচরণ লক্ষ্য করা হয়েছে, আর ডলফিনের শিসধ্বনিতে ভাষার মতো বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে।

তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এসব প্রাণী কিছু শব্দ বা সংকেত বুঝতে পারলেও মানুষের মতো পূর্ণাঙ্গ ভাষা ব্যবহার করে না।

কেন মানুষের মতো ভাষা প্রাণীদের নেই?

গবেষকদের মতে, প্রাণীদের যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও সেটি মানুষের ভাষার মতো জটিল নয়। মানুষের ভাষায় ব্যাকরণ, বাক্যগঠন এবং বিমূর্ত ধারণা প্রকাশের ক্ষমতা আছে। যা এখন পর্যন্ত অন্য প্রাণীর মধ্যে দেখা যায়নি।

উদাহরণ হিসেবে কুকুরকে ধরা যায়। হাজার হাজার বছরের গৃহপালনের ফলে কুকুর মানুষের ইশারা, মুখভঙ্গি বা নির্দেশ অনেকটাই বুঝতে পারে। কিন্তু তাতে তারা মানুষের মতো বাক্য বোঝে বা জটিল ধারণা প্রকাশ করতে পারে এমন প্রমাণ নেই।

আরেকটি বড় বাধা হলো প্রাণীদের পৃথিবী দেখার ধরন মানুষের থেকে একেবারেই আলাদা। তাদের অনুভূতি, অগ্রাধিকার এবং পরিবেশ উপলব্ধির ধরন ভিন্ন হওয়ায় সরাসরি অর্থ মিলিয়ে নেওয়া কঠিন।

প্রযুক্তি কি নতুন দরজা খুলবে?

তবুও বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রাণীদের শব্দ ও সংকেতের সূক্ষ্ম পার্থক্য শনাক্ত করতে পারছে, যা মানুষের পক্ষে ধরা কঠিন।

এই গবেষণার সম্ভাব্য উপকারও অনেক। যদি প্রাণীদের সংকেত ভালোভাবে বোঝা যায়, তাহলে পোষা প্রাণীর প্রয়োজন বোঝা সহজ হবে, খামারের প্রাণীর যত্ন উন্নত হবে, এমনকি বন্য প্রাণী সংরক্ষণেও নতুন পথ খুলতে পারে।

তবে অনেক গবেষকই মনে করেন, মানুষের মতো বসে প্রাণীর সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথন করা হয়তো কখনোই সম্ভব হবে না। তবুও প্রাণীদের যোগাযোগ পদ্ধতি বোঝার চেষ্টা আমাদের তাদের জীবন ও আচরণ সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখাবে- এটাই বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় আশা।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক