ঢাকা ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেল ৫ বছরের শিশু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • / 2
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একটি বাচ্চার বয়স যখন পাঁচ বছর হয় তখন সে বড়জোর স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় অথবা খেলার মাঠে বন্ধুদের সাথে দৌড়াদৌড়ি করে। কিন্তু চীনের ছোট্ট এক শিশু সেই বয়সেই স্টিয়ারিং ধরে বসেছে রেসিং গাড়ির। শাও জিয়ান নামের এই ক্ষুদে প্রতিভা মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই পেশাদার রেসিং ড্রাইভারের লাইসেন্স হাতে পেয়েছে, আর হয়ে উঠেছে চীনের সবচেয়ে কম বয়সী লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেশাদার রেসিং ড্রাইভার।

শাও জিয়ানের গাড়ির প্রতি টান শুরু হয়েছিল যখন তার বয়স ছিল মাত্র এক বছর। সেই সময় থেকেই সে রেসিং সিমুলেটর বা ভার্চুয়াল রেসিং গেমের প্রতি ভীষণ আগ্রহী হয়ে ওঠে। যখন অন্যান্য শিশুরা কার্টুন দেখতে ব্যস্ত থাকত, শাও তখন সিমুলেটরের স্ক্রিনে নিবিষ্ট মনে গাড়ি চালানোর কৌশল রপ্ত করত। তার এই আগ্রহ কেবল ঘরের কোণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সে প্রথমবারের মতো আসল রেসিং কার্ট চালানো শুরু করে।

চার বছর বয়সে শাও প্রফেশনাল র‍্যালি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করে। ২০২৩ সালে ‘চায়না র‍্যালি স্প্রিন্ট চ্যাম্পিয়নশিপ’ প্রতিযোগিতায় সে ‘হোপ স্টার অ্যাওয়ার্ড’ জিতে নেয়। শাওয়ের প্রতিভা কেবল আসল ট্র্যাকেই নয়, বরং ভার্চুয়াল জগতেও সমানভাবে উজ্জ্বল। বিশ্বখ্যাত রেসিং সিমুলেটর ‘ডার্ট র‍্যালি ২.০’ এবং ‘ডব্লিউআরসি ১০’ গেমে সে সারা বিশ্বের সেরা ৩০ জন ড্রাইভারের তালিকায় নিজের জায়গা করে নিয়েছে। ছেলের এমন অভাবনীয় পারদর্শিতা দেখে তার বাবা তাকে উৎসাহিত করতে তার জন্য একটি বিশেষ র‍্যালি কার বা রেসিং গাড়ি তৈরি করে দেন।

২০২৩ সালের ৯ এপ্রিল শাও জিয়ানের জীবনে এক স্মরণীয় দিন হয়ে আসে। মাত্র ৫ বছর বয়সে সে ‘রানরেসিং ড্রাইভিং একাডেমি’ থেকে প্রশিক্ষণের সনদপত্র লাভ করে। এই সনদপত্রটি ‘চায়না অটোমোবাইল অ্যান্ড মোটরসাইকেল ফেডারেশন’ দ্বারা স্বীকৃত। এর মাধ্যমেই সে চীনের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ লাইসেন্সধারী রেসিং ড্রাইভার হিসেবে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলে। গত বছর সে বিশেষভাবে মডিফাইড করা একটি গাড়ি নিয়ে ‘চায়না উয়ি অটোমোবাইল র‍্যালি’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং দক্ষ চালক হিসেবে সবার নজর কেড়ে নেয়।

শাওয়ের এই অভাবনীয় অর্জনের নেপথ্যে এক বড় কারিগর হলেন তার বাবা। তিনি ছেলের এই স্বপ্নের পেছনে দুহাত ভরে খরচ করেছেন। জানা গেছে যে তিনি উন্নত মানের সিমুলেটর আর রেসিং গাড়ি তৈরির জন্য প্রায় ৮ লাখ ইউয়ান বা ১ লাখ ১৬ হাজার ডলার খরচ করেছেন। কেবল অর্থ দিয়েই নয়, তিনি সরাসরি ছেলের সাথে প্রতিটি প্রতিযোগিতায় যুক্ত থাকেন। র‍্যালি রেসের সময় তিনি নিজেই শাওয়ের ‘সহকারী চালক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ট্র্যাকে বাবা আর ছেলের এই রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করে।

অনেকের মনেই এই খুদে রেসারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন জাগতে পারে। তবে শাও জিয়ান আইনের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। যদিও সে বড়দের চেয়েও নিখুঁতভাবে গাড়ি চালাতে পারে, তবুও সে কখনোই সাধারণ রাস্তায় স্টিয়ারিং ধরে না। চীনের সড়ক নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী সে কেবল নির্দিষ্ট রেসিং ট্র্যাকেই গাড়ি চালায়। তার রেসিং কারগুলো বড় ট্রেলারে করে প্রতিযোগিতার মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রতিভার কোনো বয়স হয় না। গভীর আগ্রহ আর সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে ছোট থেকেই আকাশছোঁয়া স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। চীনের এই খুদে চালক এখন বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের কাছে এক বিস্ময়কর নাম। ভবিষ্যতে সে আরও বড় কোনো রেকর্ড গড়বে এবং বিশ্বমঞ্চে নিজের দেশের নাম উজ্জ্বল করবে এটাই এখন সবার প্রত্যাশা। শাওয়ের এই দুরন্ত গতি যেন থামার নয়। তার হাতের স্টিয়ারিং যেন আগামীর এক নতুন ইতিহাসের পথ দেখাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেল ৫ বছরের শিশু

আপডেট সময় : ১২:২৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

একটি বাচ্চার বয়স যখন পাঁচ বছর হয় তখন সে বড়জোর স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় অথবা খেলার মাঠে বন্ধুদের সাথে দৌড়াদৌড়ি করে। কিন্তু চীনের ছোট্ট এক শিশু সেই বয়সেই স্টিয়ারিং ধরে বসেছে রেসিং গাড়ির। শাও জিয়ান নামের এই ক্ষুদে প্রতিভা মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই পেশাদার রেসিং ড্রাইভারের লাইসেন্স হাতে পেয়েছে, আর হয়ে উঠেছে চীনের সবচেয়ে কম বয়সী লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেশাদার রেসিং ড্রাইভার।

শাও জিয়ানের গাড়ির প্রতি টান শুরু হয়েছিল যখন তার বয়স ছিল মাত্র এক বছর। সেই সময় থেকেই সে রেসিং সিমুলেটর বা ভার্চুয়াল রেসিং গেমের প্রতি ভীষণ আগ্রহী হয়ে ওঠে। যখন অন্যান্য শিশুরা কার্টুন দেখতে ব্যস্ত থাকত, শাও তখন সিমুলেটরের স্ক্রিনে নিবিষ্ট মনে গাড়ি চালানোর কৌশল রপ্ত করত। তার এই আগ্রহ কেবল ঘরের কোণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সে প্রথমবারের মতো আসল রেসিং কার্ট চালানো শুরু করে।

চার বছর বয়সে শাও প্রফেশনাল র‍্যালি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করে। ২০২৩ সালে ‘চায়না র‍্যালি স্প্রিন্ট চ্যাম্পিয়নশিপ’ প্রতিযোগিতায় সে ‘হোপ স্টার অ্যাওয়ার্ড’ জিতে নেয়। শাওয়ের প্রতিভা কেবল আসল ট্র্যাকেই নয়, বরং ভার্চুয়াল জগতেও সমানভাবে উজ্জ্বল। বিশ্বখ্যাত রেসিং সিমুলেটর ‘ডার্ট র‍্যালি ২.০’ এবং ‘ডব্লিউআরসি ১০’ গেমে সে সারা বিশ্বের সেরা ৩০ জন ড্রাইভারের তালিকায় নিজের জায়গা করে নিয়েছে। ছেলের এমন অভাবনীয় পারদর্শিতা দেখে তার বাবা তাকে উৎসাহিত করতে তার জন্য একটি বিশেষ র‍্যালি কার বা রেসিং গাড়ি তৈরি করে দেন।

২০২৩ সালের ৯ এপ্রিল শাও জিয়ানের জীবনে এক স্মরণীয় দিন হয়ে আসে। মাত্র ৫ বছর বয়সে সে ‘রানরেসিং ড্রাইভিং একাডেমি’ থেকে প্রশিক্ষণের সনদপত্র লাভ করে। এই সনদপত্রটি ‘চায়না অটোমোবাইল অ্যান্ড মোটরসাইকেল ফেডারেশন’ দ্বারা স্বীকৃত। এর মাধ্যমেই সে চীনের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ লাইসেন্সধারী রেসিং ড্রাইভার হিসেবে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলে। গত বছর সে বিশেষভাবে মডিফাইড করা একটি গাড়ি নিয়ে ‘চায়না উয়ি অটোমোবাইল র‍্যালি’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং দক্ষ চালক হিসেবে সবার নজর কেড়ে নেয়।

শাওয়ের এই অভাবনীয় অর্জনের নেপথ্যে এক বড় কারিগর হলেন তার বাবা। তিনি ছেলের এই স্বপ্নের পেছনে দুহাত ভরে খরচ করেছেন। জানা গেছে যে তিনি উন্নত মানের সিমুলেটর আর রেসিং গাড়ি তৈরির জন্য প্রায় ৮ লাখ ইউয়ান বা ১ লাখ ১৬ হাজার ডলার খরচ করেছেন। কেবল অর্থ দিয়েই নয়, তিনি সরাসরি ছেলের সাথে প্রতিটি প্রতিযোগিতায় যুক্ত থাকেন। র‍্যালি রেসের সময় তিনি নিজেই শাওয়ের ‘সহকারী চালক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ট্র্যাকে বাবা আর ছেলের এই রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করে।

অনেকের মনেই এই খুদে রেসারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন জাগতে পারে। তবে শাও জিয়ান আইনের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। যদিও সে বড়দের চেয়েও নিখুঁতভাবে গাড়ি চালাতে পারে, তবুও সে কখনোই সাধারণ রাস্তায় স্টিয়ারিং ধরে না। চীনের সড়ক নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী সে কেবল নির্দিষ্ট রেসিং ট্র্যাকেই গাড়ি চালায়। তার রেসিং কারগুলো বড় ট্রেলারে করে প্রতিযোগিতার মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রতিভার কোনো বয়স হয় না। গভীর আগ্রহ আর সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে ছোট থেকেই আকাশছোঁয়া স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। চীনের এই খুদে চালক এখন বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের কাছে এক বিস্ময়কর নাম। ভবিষ্যতে সে আরও বড় কোনো রেকর্ড গড়বে এবং বিশ্বমঞ্চে নিজের দেশের নাম উজ্জ্বল করবে এটাই এখন সবার প্রত্যাশা। শাওয়ের এই দুরন্ত গতি যেন থামার নয়। তার হাতের স্টিয়ারিং যেন আগামীর এক নতুন ইতিহাসের পথ দেখাচ্ছে।