ঢাকা ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর-এর মমতাময়ী মায়ের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে সরকার Logo মাদক ও মানব পাচার নির্মূলে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ বরণ Logo কৃষক কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে টাঙ্গাইল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo নারী উদ্যোক্তা এবং প্রবাসীদের নিয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার Logo বাংলার যয়যাত্রাএর হরমুজ প্রণালী পার হতে কেন বাধা দিল ইরান Logo রায়ে ‘অসন্তুষ্ট’ শহীদ আবু সাঈদের পরিবার Logo সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন ১২ মে

রাঙামাটির দারুস সালাম ইসলামিয়া একাডেমীতে বরাদ্দে বড় অনিয়মের চিত্র

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 505

ছবি : দেশবর্ন ।

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি :

রাঙামাটিতে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত খাদ্যশস্য বরাদ্দ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে রাঙামাটি দারুস সালাম ইসলামিয়া একাডেমী হেফজখানা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. শামসুল আলম।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এতিমদের কল্যাণের কথা উল্লেখ করে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যশস্য বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও বরাদ্দের পরিমাণের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২০ জন এতিম শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যের তুলনায় দ্বিগুণ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দের নিয়ম থাকলেও মাওলানা শামসুল আলমকে চার দফায় মোট ৬ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ। এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তিন দফায় মোট ২ মেট্রিক টন এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতেই (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) আরও ১.৫ মেট্রিক টন বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

নথির মন্তব্য কলামেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, এক অর্থবছরে ৩ মেট্রিক টনের বেশি বরাদ্দ দেওয়ার বিধান নেই। তবুও সেই নিয়ম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদান করায় সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে—কেন এবং কার নির্দেশে এই বরাদ্দ দেওয়া হলো।

এদিকে সচেতন মহল বলছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের বরাদ্দ প্রদানের ফলে জেলার অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান অনুদানের অভাবে শিক্ষাকার্যক্রম ও সেবামূলক কার্যক্রম ঠিকমতো পরিচালনা করতে পারছে না।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাঙামাটির দারুস সালাম ইসলামিয়া একাডেমীতে বরাদ্দে বড় অনিয়মের চিত্র

আপডেট সময় : ০৪:৪২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি :

রাঙামাটিতে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত খাদ্যশস্য বরাদ্দ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে রাঙামাটি দারুস সালাম ইসলামিয়া একাডেমী হেফজখানা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. শামসুল আলম।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এতিমদের কল্যাণের কথা উল্লেখ করে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যশস্য বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও বরাদ্দের পরিমাণের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২০ জন এতিম শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যের তুলনায় দ্বিগুণ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দের নিয়ম থাকলেও মাওলানা শামসুল আলমকে চার দফায় মোট ৬ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ। এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তিন দফায় মোট ২ মেট্রিক টন এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতেই (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) আরও ১.৫ মেট্রিক টন বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

নথির মন্তব্য কলামেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, এক অর্থবছরে ৩ মেট্রিক টনের বেশি বরাদ্দ দেওয়ার বিধান নেই। তবুও সেই নিয়ম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদান করায় সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে—কেন এবং কার নির্দেশে এই বরাদ্দ দেওয়া হলো।

এদিকে সচেতন মহল বলছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের বরাদ্দ প্রদানের ফলে জেলার অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান অনুদানের অভাবে শিক্ষাকার্যক্রম ও সেবামূলক কার্যক্রম ঠিকমতো পরিচালনা করতে পারছে না।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন