ঢাকা ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জ্বালানি সাশ্রয়ে বুধ-বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারকাজ চলবে ভার্চুয়ালি Logo এনসিপিতে যোগদানের হিড়িক Logo ৫ দফা দাবী সহ শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের মানববন্ধন কর্মসূচি Logo পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াবে বাংলাদেশ Logo পাম্প থেকে তেল নিতে অগ্রাধিকার চায় পুলিশ Logo খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পদক নিলেন জাইমা রহমান Logo ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর-এর মমতাময়ী মায়ের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে সরকার Logo মাদক ও মানব পাচার নির্মূলে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ বরণ

নতুন শত্রু খুঁজছে ইসরাইল, তালিকায় দুই মুসলিম দেশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 34
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ইসরাইলি এক বিশ্লেষক বলেছেন, ভবিষ্যতে ইসরাইলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইরানের পরিবর্তে তুরস্ক বা পাকিস্তান উঠে আসতে পারে।

ইসরাইলের দৈনিক মারিভ-এ প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি মধ্যপ্রাচ্যের ‘পরিবর্তনশীল বাস্তবতা’র কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ায় ইসরাইলের প্রধান শত্রুর ভূমিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।

নিবন্ধে দাবি করা হয়, আলি খামেনির নেতৃত্বে ইরান দীর্ঘ তিন দশক ধরে ইসরাইলের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে দেশটির সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় সম্ভাব্য নতুন প্রতিপক্ষ হিসেবে তুরস্ক ও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেন গোলানি। তার ভাষায়, ‘প্রতিযোগিতা এখন তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, দুটি দেশই জনসংখ্যায় বড়, সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ, শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও ভালো—যা ইসরাইলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দেশের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করছেন।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানর বিরুদ্ধে কুর্দি জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনা করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ইসরাইল-তুরস্ক প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত সিরিয়াকে ঘিরেই কেন্দ্রীভূত হতে পারে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের স্বার্থের সংঘাত রয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান ইরান যুদ্ধ চলাকালে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সক্রিয় ছিল এবং দেশটির বিভিন্ন কর্মকর্তা ইসরাইলের কড়া সমালোচনা করে আসছেন। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক পোস্টে ইসরাইলকে ‘শয়তান’ ও ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ বলে উল্লেখ করেন।  যদিও পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়।

গোলানি তার নিবন্ধে সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হলে ইসরাইলকে নতুন কোনো দেশের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে যাকেই বেছে নেওয়া হোক, সিদ্ধান্তটি আমাদের হাতে নয় এবং উভয় বিকল্পই প্রায় সমানভাবে খারাপ।’

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নতুন শত্রু খুঁজছে ইসরাইল, তালিকায় দুই মুসলিম দেশ

আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

 

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ইসরাইলি এক বিশ্লেষক বলেছেন, ভবিষ্যতে ইসরাইলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইরানের পরিবর্তে তুরস্ক বা পাকিস্তান উঠে আসতে পারে।

ইসরাইলের দৈনিক মারিভ-এ প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি মধ্যপ্রাচ্যের ‘পরিবর্তনশীল বাস্তবতা’র কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ায় ইসরাইলের প্রধান শত্রুর ভূমিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।

নিবন্ধে দাবি করা হয়, আলি খামেনির নেতৃত্বে ইরান দীর্ঘ তিন দশক ধরে ইসরাইলের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে দেশটির সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় সম্ভাব্য নতুন প্রতিপক্ষ হিসেবে তুরস্ক ও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেন গোলানি। তার ভাষায়, ‘প্রতিযোগিতা এখন তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, দুটি দেশই জনসংখ্যায় বড়, সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ, শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও ভালো—যা ইসরাইলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দেশের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করছেন।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানর বিরুদ্ধে কুর্দি জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনা করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ইসরাইল-তুরস্ক প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত সিরিয়াকে ঘিরেই কেন্দ্রীভূত হতে পারে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের স্বার্থের সংঘাত রয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান ইরান যুদ্ধ চলাকালে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সক্রিয় ছিল এবং দেশটির বিভিন্ন কর্মকর্তা ইসরাইলের কড়া সমালোচনা করে আসছেন। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক পোস্টে ইসরাইলকে ‘শয়তান’ ও ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ বলে উল্লেখ করেন।  যদিও পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়।

গোলানি তার নিবন্ধে সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হলে ইসরাইলকে নতুন কোনো দেশের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে যাকেই বেছে নেওয়া হোক, সিদ্ধান্তটি আমাদের হাতে নয় এবং উভয় বিকল্পই প্রায় সমানভাবে খারাপ।’

সূত্র: মিডল ইস্ট আই