ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

লংগদুতে দাখিল পরীক্ষার্থী চার শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, অভিযুক্ত ৮ জন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / 121
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লংগদুতে দাখিল পরীক্ষার্থী চার শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, অভিযুক্ত ৮ জন

মেহেদী হাসান, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির লংগদুতে বাগাচতর ইউনিয়নের মহাজনপাড়া মাদ্রাসার চারজন দাখিল পরীক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে স্থানীয় মটর সাইকেল চালক সাগর ও তার স্বজন। সাগর বগাচতর ইউনিয়নের জালিয়াপাড়া এলাকার ওলাকতের ছেলে।

ঘটনাটি ঘটে গত ১০ মে রবিবার। গত দুদিন বিষয়টি কোনরকম জানাজানি না হওয়া এবং কেউ কেউ ইচ্ছা করে চুপ করে থেকে বিষয়টি শেষ করতে চাইলেও, গাড়িয়ানরা বিষয়টি জানান দেয়।

মাদ্রাসার ছাত্র পরীক্ষার্থী সাকিবুল হাছান (১৭), রিফাত ( ১৬), ইয়াছিন (১৭)
রাকিবুল ইসলাম(১৭) তারা জানায়, লংগদু সরকারী উচ্চবিদ্যালয়ে প্রতিদিনের ন্যায় পরীক্ষা শেষ করে, লংগদু ঘাট থেকে নৌকা পার হয়ে মটর সাইকেল স্টেশনে পৌঁছে তারা। মাদ্রসার ছেলে এবং মেয়ে স্টেশনে গাড়ি না পেয়ে একই সাথে হাটতে থাকে।  ছেলেরা সামনে আর মেয়ে শিক্ষার্থীরা একটু পেছনে পেছনে।  ঠিক তখনি সাগর নামের ড্রাইভার আসে। ছেলে শিক্ষার্থীরা ড্রাইভারকে তাদের নিয়ে যেতে বল্লে তিনি বলেন আমার ফোনের ভাড়া আছে। এটা বলে পেছনে এসে মেয়েদেরকে ডাকতে থাকে যাবে কিনা। মেয়ে শিক্ষার্থী দুজন যাওয়ার জন্য তার গাড়িতে উঠে। যখন ছেলেদের অতিক্রম করে গাড়ি যাচ্ছিলো, তখন তারা মেয়েদের কৃষি শিক্ষার খাতা গুলো দিয়ে যেতে বলে মর্মে গাড়ি থামাতে বলে আর ড্রাইভারও গাড়ি থামায়। তখন পাশ থেকে একজন পরীক্ষার্থী ড্রাইভারকে বলে ভাই আমরা যেতে চাইলাম নিলেন না ওদের নিলেন। এতে ড্রাইভার মাথা গরম করে পরীক্ষার্থীর ওপর রাগান্বিত হয়ে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দেয় প্রশ্নকারী শিক্ষার্থীকে। পাশে থাকা বন্ধুরা প্রতিবাদ করলে তাদেরও ধাক্কা মারে এবং ড্রাইভার তার বাবা এবং স্বজনদের ফোন করে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে। স্বজনরা এসে চার শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে নিচে নিয়ে গিয়ে ৮জন মিলে বেধড় মারধর করে তাদের ফেলে চলে যায়।

প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ১২ মে তারা শরীরে জখম, ব্যাথা ও জ্বর নিয়ে পরীক্ষার হলে পরীক্ষা দিতে বসেন। এরপর আবারো আজ পরীক্ষা শেষে তারা লংগদু সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কারা উপস্থিত থেকে মারধর করেছে বলে জানতে চাইলে পরীক্ষার্থীরা জানায়,সাগর (ড্রাইভার), সগরের বাবা ওলাকত,হাসান,সাইমুন,তারা মিয়া, সুরুজ মিয়া, রাজন,আবুল কালাম এছাড়াও আরো অনেকেই ছিলো পাশে।

এবিষয়ে দ্রুত বিচার চায় পরীক্ষার্থীদের গাড়িয়নরা। এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে আসা যাওয়ার নিরাপত্তা ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তার দাবী জানান তারা। এবিষয়ে গাড়িয়ানদের পক্ষ হতে অভিভাবক শাহ আলম  বাদী হয়ে লংগদু থানায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে অভিযুক্ত সাগর বলেন, তাদেরকে গাড়িতে না নিয়ে আসিনি এটা সত্য। যখন আমি মেয়ে দুইজনকে নিয়ে যাত্রা শুরু করি, একটু সামনে গেরে তারা আমাদের দাঁড় করিয়ে মেয়েদেরকে নামতে বলে।  মেয়েরা নামতে চায়নি,ছেলে গুলো মেয়দেরকে বলতেছে এখানে জামেলা হবে তাড়াতাড়ি নামো। পরে মেয়েরা নিচে নামে, আমিও নামি। তারা চারজন আমাকে বারবার মারার চেষ্টা করছে, পরে আমি একজনকে ধাক্কা দেই। ওখান থেকে উঠে এসে তারা আমাকে মারতে মারতে রাস্তা থেকে নিচে নিয়ে যায়। আমিও নিজে রক্ষার জন্য তাদের উপর আক্রমণ করি। আপনি দশ বারো জন মিলে মারধর করছেন ছাত্রদের?  এমন প্রশ্নে সাগর বলেন এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। ঘটনাস্থলে তাদের হুজুরও উপস্থিত ছিলেন।

মাদ্রাসার সুপার মাওলানা হাফেজ মাওলানা শাহজান জানান, আমার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপর এধরণের অত্যাচার ও নির্যাতনের বিচারের দাবী জানাচ্ছি। দ্রুত সময়ে তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।

লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি, গাড়িয়ানদের দেওয়া অভিযোগ হলেই আমরা দ্রুত সময়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর হোসাইন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে গাড়িয়ানরা আজকেই আমাকে জানিয়েছেন।  আমরা দ্রুত সময়ে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

লংগদুতে দাখিল পরীক্ষার্থী চার শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, অভিযুক্ত ৮ জন

আপডেট সময় : ০১:০১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

লংগদুতে দাখিল পরীক্ষার্থী চার শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, অভিযুক্ত ৮ জন

মেহেদী হাসান, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির লংগদুতে বাগাচতর ইউনিয়নের মহাজনপাড়া মাদ্রাসার চারজন দাখিল পরীক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে স্থানীয় মটর সাইকেল চালক সাগর ও তার স্বজন। সাগর বগাচতর ইউনিয়নের জালিয়াপাড়া এলাকার ওলাকতের ছেলে।

ঘটনাটি ঘটে গত ১০ মে রবিবার। গত দুদিন বিষয়টি কোনরকম জানাজানি না হওয়া এবং কেউ কেউ ইচ্ছা করে চুপ করে থেকে বিষয়টি শেষ করতে চাইলেও, গাড়িয়ানরা বিষয়টি জানান দেয়।

মাদ্রাসার ছাত্র পরীক্ষার্থী সাকিবুল হাছান (১৭), রিফাত ( ১৬), ইয়াছিন (১৭)
রাকিবুল ইসলাম(১৭) তারা জানায়, লংগদু সরকারী উচ্চবিদ্যালয়ে প্রতিদিনের ন্যায় পরীক্ষা শেষ করে, লংগদু ঘাট থেকে নৌকা পার হয়ে মটর সাইকেল স্টেশনে পৌঁছে তারা। মাদ্রসার ছেলে এবং মেয়ে স্টেশনে গাড়ি না পেয়ে একই সাথে হাটতে থাকে।  ছেলেরা সামনে আর মেয়ে শিক্ষার্থীরা একটু পেছনে পেছনে।  ঠিক তখনি সাগর নামের ড্রাইভার আসে। ছেলে শিক্ষার্থীরা ড্রাইভারকে তাদের নিয়ে যেতে বল্লে তিনি বলেন আমার ফোনের ভাড়া আছে। এটা বলে পেছনে এসে মেয়েদেরকে ডাকতে থাকে যাবে কিনা। মেয়ে শিক্ষার্থী দুজন যাওয়ার জন্য তার গাড়িতে উঠে। যখন ছেলেদের অতিক্রম করে গাড়ি যাচ্ছিলো, তখন তারা মেয়েদের কৃষি শিক্ষার খাতা গুলো দিয়ে যেতে বলে মর্মে গাড়ি থামাতে বলে আর ড্রাইভারও গাড়ি থামায়। তখন পাশ থেকে একজন পরীক্ষার্থী ড্রাইভারকে বলে ভাই আমরা যেতে চাইলাম নিলেন না ওদের নিলেন। এতে ড্রাইভার মাথা গরম করে পরীক্ষার্থীর ওপর রাগান্বিত হয়ে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দেয় প্রশ্নকারী শিক্ষার্থীকে। পাশে থাকা বন্ধুরা প্রতিবাদ করলে তাদেরও ধাক্কা মারে এবং ড্রাইভার তার বাবা এবং স্বজনদের ফোন করে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে। স্বজনরা এসে চার শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে নিচে নিয়ে গিয়ে ৮জন মিলে বেধড় মারধর করে তাদের ফেলে চলে যায়।

প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ১২ মে তারা শরীরে জখম, ব্যাথা ও জ্বর নিয়ে পরীক্ষার হলে পরীক্ষা দিতে বসেন। এরপর আবারো আজ পরীক্ষা শেষে তারা লংগদু সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কারা উপস্থিত থেকে মারধর করেছে বলে জানতে চাইলে পরীক্ষার্থীরা জানায়,সাগর (ড্রাইভার), সগরের বাবা ওলাকত,হাসান,সাইমুন,তারা মিয়া, সুরুজ মিয়া, রাজন,আবুল কালাম এছাড়াও আরো অনেকেই ছিলো পাশে।

এবিষয়ে দ্রুত বিচার চায় পরীক্ষার্থীদের গাড়িয়নরা। এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে আসা যাওয়ার নিরাপত্তা ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তার দাবী জানান তারা। এবিষয়ে গাড়িয়ানদের পক্ষ হতে অভিভাবক শাহ আলম  বাদী হয়ে লংগদু থানায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে অভিযুক্ত সাগর বলেন, তাদেরকে গাড়িতে না নিয়ে আসিনি এটা সত্য। যখন আমি মেয়ে দুইজনকে নিয়ে যাত্রা শুরু করি, একটু সামনে গেরে তারা আমাদের দাঁড় করিয়ে মেয়েদেরকে নামতে বলে।  মেয়েরা নামতে চায়নি,ছেলে গুলো মেয়দেরকে বলতেছে এখানে জামেলা হবে তাড়াতাড়ি নামো। পরে মেয়েরা নিচে নামে, আমিও নামি। তারা চারজন আমাকে বারবার মারার চেষ্টা করছে, পরে আমি একজনকে ধাক্কা দেই। ওখান থেকে উঠে এসে তারা আমাকে মারতে মারতে রাস্তা থেকে নিচে নিয়ে যায়। আমিও নিজে রক্ষার জন্য তাদের উপর আক্রমণ করি। আপনি দশ বারো জন মিলে মারধর করছেন ছাত্রদের?  এমন প্রশ্নে সাগর বলেন এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। ঘটনাস্থলে তাদের হুজুরও উপস্থিত ছিলেন।

মাদ্রাসার সুপার মাওলানা হাফেজ মাওলানা শাহজান জানান, আমার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপর এধরণের অত্যাচার ও নির্যাতনের বিচারের দাবী জানাচ্ছি। দ্রুত সময়ে তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।

লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি, গাড়িয়ানদের দেওয়া অভিযোগ হলেই আমরা দ্রুত সময়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর হোসাইন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে গাড়িয়ানরা আজকেই আমাকে জানিয়েছেন।  আমরা দ্রুত সময়ে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।