ঢাকা ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo এলজিইডি দিনাজপুরে বিদায়-বরণ সংবর্ধনায় নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত Logo [আপডেট] রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে

যে কারণে কমে যায় টেস্টোস্টেরন হরমোন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 13
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পুরুষদের শরীরে গুরুত্বপূর্ণ একটি হরমোন হলো টেস্টোস্টেরন। এটি পেশি, হাড়, যৌনক্ষমতা, শক্তি এবং মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এর মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে, তবে অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণেও এই হরমোন দ্রুত কমে যেতে পারে।

 

চিকিৎসকদের মতে, টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। চলুন সহজভাবে সেগুলো জেনে নিই-

 

অণ্ডকোষের সমস্যা বা ক্ষতি : টেস্টোস্টেরন মূলত অণ্ডকোষে তৈরি হয়। তাই কোনো কারণে অণ্ডকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই হরমোনের উৎপাদন কমে যায়। দুর্ঘটনা, আঘাত বা জন্মগত সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।

 

সংক্রমণ : মামস বা ভাইরাসজনিত সংক্রমণ অণ্ডকোষে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মামস অরকাইটিস হলে টেস্টোস্টেরন উৎপাদন ব্যাহত হয়।

 

অতিরিক্ত গরমে থাকা : দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত গরম পরিবেশে থাকলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যা টেস্টোস্টেরন উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন খুব গরম জায়গায় কাজ করা বা দীর্ঘসময় তাপের সংস্পর্শে থাকা।

 

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তে শর্করা : যাদের ডায়াবেটিস আছে বা রক্তে শর্করা বেশি, তাদের মধ্যে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি।

 

জিনগত ও জন্মগত কারণ : কেউ জন্মগতভাবে অণ্ডকোষ না থাকা বা সঠিকভাবে গঠিত না হলে হরমোনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

 

হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী গ্রন্থির সমস্যা : মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি বা হাইপোথ্যালামাস ঠিকভাবে কাজ না করলে টেস্টোস্টেরন উৎপাদন কমে যেতে পারে।

 

দীর্ঘমেয়াদি রোগ : লিভারের সমস্যা, কিডনির রোগ বা অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী অসুখ থাকলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

 

জীবনযাত্রার খারাপ অভ্যাস : অতিরিক্ত মদ্যপান, ধূমপান, অনিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ এবং স্থূলতা টেস্টোস্টেরন কমার বড় কারণ।

 

কিছু ওষুধের প্রভাব : মানসিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে।

 

ঘুমের সমস্যা : ঘুম কম হলে বা স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলে টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হয়।

 

কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন

সব ক্ষেত্রে প্রতিরোধ সম্ভব না হলেও কিছু অভ্যাস মেনে চললে ঝুঁকি কমানো যায়

 

নিয়মিত ব্যায়াম করা

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা

অতিরিক্ত গরম ও ক্ষতিকর পরিবেশ এড়িয়ে চলা

ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা

টেস্টোস্টেরন কমে গেলে সব ক্ষেত্রে একই চিকিৎসা নেই। উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ব্যবহার করা হয়, তবে এটি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিতে হবে।

 

সবশেষে বলা যায়, শরীরের ছোট পরিবর্তনগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কারণ সময়মতো কারণ বুঝতে পারলে বড় সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

 

সূত্র: বিবিসি বাংলা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যে কারণে কমে যায় টেস্টোস্টেরন হরমোন

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

পুরুষদের শরীরে গুরুত্বপূর্ণ একটি হরমোন হলো টেস্টোস্টেরন। এটি পেশি, হাড়, যৌনক্ষমতা, শক্তি এবং মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এর মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে, তবে অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণেও এই হরমোন দ্রুত কমে যেতে পারে।

 

চিকিৎসকদের মতে, টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। চলুন সহজভাবে সেগুলো জেনে নিই-

 

অণ্ডকোষের সমস্যা বা ক্ষতি : টেস্টোস্টেরন মূলত অণ্ডকোষে তৈরি হয়। তাই কোনো কারণে অণ্ডকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই হরমোনের উৎপাদন কমে যায়। দুর্ঘটনা, আঘাত বা জন্মগত সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।

 

সংক্রমণ : মামস বা ভাইরাসজনিত সংক্রমণ অণ্ডকোষে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মামস অরকাইটিস হলে টেস্টোস্টেরন উৎপাদন ব্যাহত হয়।

 

অতিরিক্ত গরমে থাকা : দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত গরম পরিবেশে থাকলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যা টেস্টোস্টেরন উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন খুব গরম জায়গায় কাজ করা বা দীর্ঘসময় তাপের সংস্পর্শে থাকা।

 

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তে শর্করা : যাদের ডায়াবেটিস আছে বা রক্তে শর্করা বেশি, তাদের মধ্যে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি।

 

জিনগত ও জন্মগত কারণ : কেউ জন্মগতভাবে অণ্ডকোষ না থাকা বা সঠিকভাবে গঠিত না হলে হরমোনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

 

হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী গ্রন্থির সমস্যা : মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি বা হাইপোথ্যালামাস ঠিকভাবে কাজ না করলে টেস্টোস্টেরন উৎপাদন কমে যেতে পারে।

 

দীর্ঘমেয়াদি রোগ : লিভারের সমস্যা, কিডনির রোগ বা অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী অসুখ থাকলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

 

জীবনযাত্রার খারাপ অভ্যাস : অতিরিক্ত মদ্যপান, ধূমপান, অনিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ এবং স্থূলতা টেস্টোস্টেরন কমার বড় কারণ।

 

কিছু ওষুধের প্রভাব : মানসিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে।

 

ঘুমের সমস্যা : ঘুম কম হলে বা স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলে টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হয়।

 

কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন

সব ক্ষেত্রে প্রতিরোধ সম্ভব না হলেও কিছু অভ্যাস মেনে চললে ঝুঁকি কমানো যায়

 

নিয়মিত ব্যায়াম করা

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা

অতিরিক্ত গরম ও ক্ষতিকর পরিবেশ এড়িয়ে চলা

ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা

টেস্টোস্টেরন কমে গেলে সব ক্ষেত্রে একই চিকিৎসা নেই। উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ব্যবহার করা হয়, তবে এটি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিতে হবে।

 

সবশেষে বলা যায়, শরীরের ছোট পরিবর্তনগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কারণ সময়মতো কারণ বুঝতে পারলে বড় সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

 

সূত্র: বিবিসি বাংলা