ঢাকা ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo এলজিইডি দিনাজপুরে বিদায়-বরণ সংবর্ধনায় নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত Logo [আপডেট] রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে

কিডনির চুক্তি ছিলো ১০ লাখের, কিন্তু দেয়া হলো ৫০ হাজার টাকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 13
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে কিডনি কেনার প্রলোভন দেখিয়ে এক দিনমজুরকে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে একটি মানব অঙ্গ পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ, নেপালে নিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি অপসারণ করা হলেও প্রতিশ্রুত অর্থের পরিবর্তে তাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। বাকি টাকা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। ভুক্তভোগী মন্টু মিয়া গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৩ জুন জয়পুরহাটের ৫ নম্বর আমলি আদালতে মামলা করেন মন্টু মিয়া। আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে কালাই থানাকে নির্দেশ দেন। পরে ১৪ জুন মামলাটি কালাই থানায় এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। তবে মামলার নথি পাওয়া গেছে গত মঙ্গলবার। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

 

নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা-খানপাড়া গ্রামের সাব্বির আহমেদ, শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক মল্লিকপাড়া গ্রামের সুমন আলী, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের কথিত কিডনি দালাল আব্দুল মান্নান ও সাইদুর রহমান, লওনা-বহুতি গ্রামের আব্দুস ছাত্তার এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছোট হোসেনপুর রাজাগঞ্জ এলাকার তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরী।

 

এজাহারে বলা হয়েছে, এনজিও ও স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের চাপে আর্থিক সংকটে পড়েন মন্টু মিয়া। সেই সুযোগে অভিযুক্তরা তাকে জানান, ঢাকার এক ধনী নারীর জন্য একটি কিডনি প্রয়োজন এবং এর বিনিময়ে তিনি ১০ লাখ টাকা পাবেন। দারিদ্র্য থেকে মুক্তির আশায় তিনি প্রস্তাবে সম্মতি দেন।

 

পরে অভিযুক্তরা তাকে ঢাকায় এনে পাসপোর্ট তৈরি করে দেন। চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে তাকে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। এরপর ভারত হয়ে নেপালের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি অপসারণ করা হয়।

 

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসার অজুহাতে কয়েকদিন নেপালে রাখার পর চুক্তির বাকি অর্থ না দিয়েই তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

 

দেশে ফিরে মন্টু মিয়া বাকি সাড়ে ৯ লাখ টাকা দাবি করলে অভিযুক্তরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে তিনি আদালতে মামলা করেন।

 

জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট উজ্জ্বল হোসেন বলেন, অসহায় মানুষের দারিদ্র্যকে পুঁজি করে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বেচাকেনা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রয়োগ প্রয়োজন।

 

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কিডনির চুক্তি ছিলো ১০ লাখের, কিন্তু দেয়া হলো ৫০ হাজার টাকা

আপডেট সময় : ০৯:২৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে কিডনি কেনার প্রলোভন দেখিয়ে এক দিনমজুরকে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে একটি মানব অঙ্গ পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ, নেপালে নিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি অপসারণ করা হলেও প্রতিশ্রুত অর্থের পরিবর্তে তাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। বাকি টাকা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। ভুক্তভোগী মন্টু মিয়া গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৩ জুন জয়পুরহাটের ৫ নম্বর আমলি আদালতে মামলা করেন মন্টু মিয়া। আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে কালাই থানাকে নির্দেশ দেন। পরে ১৪ জুন মামলাটি কালাই থানায় এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। তবে মামলার নথি পাওয়া গেছে গত মঙ্গলবার। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

 

নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা-খানপাড়া গ্রামের সাব্বির আহমেদ, শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক মল্লিকপাড়া গ্রামের সুমন আলী, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের কথিত কিডনি দালাল আব্দুল মান্নান ও সাইদুর রহমান, লওনা-বহুতি গ্রামের আব্দুস ছাত্তার এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছোট হোসেনপুর রাজাগঞ্জ এলাকার তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরী।

 

এজাহারে বলা হয়েছে, এনজিও ও স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের চাপে আর্থিক সংকটে পড়েন মন্টু মিয়া। সেই সুযোগে অভিযুক্তরা তাকে জানান, ঢাকার এক ধনী নারীর জন্য একটি কিডনি প্রয়োজন এবং এর বিনিময়ে তিনি ১০ লাখ টাকা পাবেন। দারিদ্র্য থেকে মুক্তির আশায় তিনি প্রস্তাবে সম্মতি দেন।

 

পরে অভিযুক্তরা তাকে ঢাকায় এনে পাসপোর্ট তৈরি করে দেন। চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে তাকে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। এরপর ভারত হয়ে নেপালের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি অপসারণ করা হয়।

 

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসার অজুহাতে কয়েকদিন নেপালে রাখার পর চুক্তির বাকি অর্থ না দিয়েই তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

 

দেশে ফিরে মন্টু মিয়া বাকি সাড়ে ৯ লাখ টাকা দাবি করলে অভিযুক্তরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে তিনি আদালতে মামলা করেন।

 

জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট উজ্জ্বল হোসেন বলেন, অসহায় মানুষের দারিদ্র্যকে পুঁজি করে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বেচাকেনা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রয়োগ প্রয়োজন।

 

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।