ঢাকা ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

প্রকাশ্যে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধে নতুন বিল ইতালিতে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / 169

ছবি: সংগৃহীত

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইতালিতে জনসমাগমস্থলে মুসলিম নারীদের বোরকা ও নিকাব পরিধান নিষিদ্ধ করতে নতুন আইন আনতে যাচ্ছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল ব্রাদার্স অব ইতালি। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন এই ডানপন্থী দলটি বলছে, পদক্ষেপটি নেওয়া হচ্ছে তথাকথিত ‘ইসলামিক বিচ্ছিন্নতাবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে।

বুধবার (৮ অক্টোবর) ইউরোপীয় রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানায়, প্রস্তাবিত এই বিলটি আইনে পরিণত হলে দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিসসহ সব ধরনের পাবলিক স্থানে মুখ সম্পূর্ণভাবে আচ্ছাদিত রাখার পোশাক পরা নিষিদ্ধ হবে। আইনটি লঙ্ঘন করলে সর্বনিম্ন ৩০০ ইউরো থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত (প্রায় ৪৩ হাজার থেকে ৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা) জরিমানা করা হতে পারে।

বিলের অন্যতম প্রণেতা ও আইনপ্রণেতা আন্দ্রেয়া দেলমাস্ট্রো ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, “ধর্মীয় স্বাধীনতা অবশ্যই পবিত্র, তবে সেটি আমাদের সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে প্রকাশ্যে অনুশীলন করা উচিত।” তিনি আরও জানান, এই বিল সরকারের বৃহত্তর বিচ্ছিন্নতাবাদবিরোধী উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য ইতালির সামাজিক ঐক্য ও ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো রক্ষা করা।

দলের অভিবাসন বিষয়ক প্রধান সারা কেলানি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রস্তাবিত বিলটি তিনটি মূল দিককে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে— পূর্ণ মুখাবরণ নিষিদ্ধকরণ, জোরপূর্বক বিবাহ প্রতিরোধ এবং বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত ধর্মীয় তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তাঁর ভাষায়, “আমরা চাই ইতালির ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন রাষ্ট্রের নিয়মের মধ্যে থেকে কাজ করে এবং বিদেশি প্রভাবমুক্ত থাকে।”

বোরকা এমন এক পোশাক যা একজন নারীকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে আচ্ছাদিত রাখে, যেখানে চোখের অংশে জালির মতো আবরণ থাকে। অন্যদিকে নিকাব মুখের বেশিরভাগ অংশ ঢেকে রাখলেও চোখের চারপাশের অংশ খোলা থাকে। ইউরোপের ফ্রান্স, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া ও বেলজিয়ামসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতির কারণ দেখিয়ে এ ধরনের পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে মেলোনি সরকার ধর্মীয় পোশাকের সীমা নির্ধারণ করে দেশটিতে ‘ইসলামিক বিচ্ছিন্নতাবাদ’ নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, এই আইন বাস্তবায়িত হলে তা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রকাশ্যে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধে নতুন বিল ইতালিতে

আপডেট সময় : ০৩:১৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

ইতালিতে জনসমাগমস্থলে মুসলিম নারীদের বোরকা ও নিকাব পরিধান নিষিদ্ধ করতে নতুন আইন আনতে যাচ্ছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল ব্রাদার্স অব ইতালি। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন এই ডানপন্থী দলটি বলছে, পদক্ষেপটি নেওয়া হচ্ছে তথাকথিত ‘ইসলামিক বিচ্ছিন্নতাবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে।

বুধবার (৮ অক্টোবর) ইউরোপীয় রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানায়, প্রস্তাবিত এই বিলটি আইনে পরিণত হলে দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিসসহ সব ধরনের পাবলিক স্থানে মুখ সম্পূর্ণভাবে আচ্ছাদিত রাখার পোশাক পরা নিষিদ্ধ হবে। আইনটি লঙ্ঘন করলে সর্বনিম্ন ৩০০ ইউরো থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত (প্রায় ৪৩ হাজার থেকে ৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা) জরিমানা করা হতে পারে।

বিলের অন্যতম প্রণেতা ও আইনপ্রণেতা আন্দ্রেয়া দেলমাস্ট্রো ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, “ধর্মীয় স্বাধীনতা অবশ্যই পবিত্র, তবে সেটি আমাদের সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে প্রকাশ্যে অনুশীলন করা উচিত।” তিনি আরও জানান, এই বিল সরকারের বৃহত্তর বিচ্ছিন্নতাবাদবিরোধী উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য ইতালির সামাজিক ঐক্য ও ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো রক্ষা করা।

দলের অভিবাসন বিষয়ক প্রধান সারা কেলানি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রস্তাবিত বিলটি তিনটি মূল দিককে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে— পূর্ণ মুখাবরণ নিষিদ্ধকরণ, জোরপূর্বক বিবাহ প্রতিরোধ এবং বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত ধর্মীয় তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তাঁর ভাষায়, “আমরা চাই ইতালির ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন রাষ্ট্রের নিয়মের মধ্যে থেকে কাজ করে এবং বিদেশি প্রভাবমুক্ত থাকে।”

বোরকা এমন এক পোশাক যা একজন নারীকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে আচ্ছাদিত রাখে, যেখানে চোখের অংশে জালির মতো আবরণ থাকে। অন্যদিকে নিকাব মুখের বেশিরভাগ অংশ ঢেকে রাখলেও চোখের চারপাশের অংশ খোলা থাকে। ইউরোপের ফ্রান্স, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া ও বেলজিয়ামসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতির কারণ দেখিয়ে এ ধরনের পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে মেলোনি সরকার ধর্মীয় পোশাকের সীমা নির্ধারণ করে দেশটিতে ‘ইসলামিক বিচ্ছিন্নতাবাদ’ নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, এই আইন বাস্তবায়িত হলে তা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি