ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শেষ হলো অমর একুশে বইমেলা Logo নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকা বেশি নেয়ার সুযোগ নেই:সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী Logo পয়লা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo জ্বালানি তেলের রেশনিং সীমা তুলে নিয়েছে সরকার Logo ওয়াকআউট করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ Logo খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ Logo তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করতে পারেন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা Logo জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে পুলিশ Logo অযথা আতঙ্ক ও ভীতি সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে: শায়খ আহমাদুল্লাহ Logo আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

বাজার দর অনুযায়ী আলু বিক্রি করে গুণতে হচ্ছে লোকসান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • / 90
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যশোরের চৌগাছায় আলুতে বস্তাপ্রতি প্রায় ১ হাজার টাকা লোকসান হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এছাড়া কোল্ডস্টোরে রাখা আলুরও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। গত বছরের তুলনায় এবার অর্ধেকে নেমে এসেছে আলুর দাম। কেজিপ্রতি ২৫ টাকা খরচ করে ১২ থেকে ১৩ টাকায় বিক্রি হওয়ায় বস্তাপ্রতি তাদের বড় অঙ্কের টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে।

কৃষকেরা বলছেন, সার, কীটনাশক ও দিনমজুরের খরচ বেড়ে যাওয়ায় আলুর উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। বেড়েছে কোল্ডস্টোর ও বহন ভাড়া। ফলে বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী আলু বিক্রি করে লাভের পরিবর্তে লোকসান গুণতে হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, গত বছর আলুতে ভালো লাভ হওয়ায় এবার ব্যবসায়ী ও কৃষক পর্যায়ে আলু মজুত বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন চাহিদার থেকে বেশি হওয়ায় স্টোরে মজুত বাড়ার সাথে দামও কমেছে বেশ।

চৌগাছা বাজারের আলু ব্যবসায়ী আনিচুর রহমান বলেন, ‘আলু কম দরের কারণে সংরক্ষিত আলু বাজারজাত করা সম্ভব না হলে বিপুল আলু অবিক্রীত থেকে যাবে এবং আলু ফেলে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। ইতোমধ্যে অনেক আলু স্টোরেই পচন ধরেছে। যারা অধিক লাভের আশায় হাজার হাজার বস্তা আলু স্টোরে রেখে ছিল তাদের বিপদের শেষ নেই। এ বছর অনেক ব্যবসায়ী তাদের মূল পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।’

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ উপজেলায় ২ হাজার ১৬৮ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়। চৌগাছার ডিভাইন কোল্ডস্টোরে এ বছর ১ লাখ ৬ হাজার বস্তা ও ডিভাইন এগ্রোটিস্যুকালচারে ৭৫ হাজার বস্তা আলু স্টোরে রাখা হয়। এরমধ্যে থেকে ৭৫ হাজার বস্তা আলু মালিকরা বের করেছেন। এদিকে রংপুর ও ঠাকুরগা এলাকা থেকে ভোজ্য আলু ঢুকছে বাজারে। ফলে এলাকার ব্যবসায়ী ও কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, ‘গত বছর আলুর চাহিদা বেশি ছিল। সেই তুলনায় জোগান ছিল কম। তাই ভালো দাম পেয়েছে কৃষক। গতবারের দেখাদেখি এবারো আবাদ বাড়িয়ে বিপদে পড়েছেন চাষিরা। মজুত বেশি তাই দামটা একটু কম। ফলে ব্যবসায়ী ও কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাজার দর অনুযায়ী আলু বিক্রি করে গুণতে হচ্ছে লোকসান

আপডেট সময় : ১২:২৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

যশোরের চৌগাছায় আলুতে বস্তাপ্রতি প্রায় ১ হাজার টাকা লোকসান হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এছাড়া কোল্ডস্টোরে রাখা আলুরও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। গত বছরের তুলনায় এবার অর্ধেকে নেমে এসেছে আলুর দাম। কেজিপ্রতি ২৫ টাকা খরচ করে ১২ থেকে ১৩ টাকায় বিক্রি হওয়ায় বস্তাপ্রতি তাদের বড় অঙ্কের টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে।

কৃষকেরা বলছেন, সার, কীটনাশক ও দিনমজুরের খরচ বেড়ে যাওয়ায় আলুর উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। বেড়েছে কোল্ডস্টোর ও বহন ভাড়া। ফলে বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী আলু বিক্রি করে লাভের পরিবর্তে লোকসান গুণতে হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, গত বছর আলুতে ভালো লাভ হওয়ায় এবার ব্যবসায়ী ও কৃষক পর্যায়ে আলু মজুত বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন চাহিদার থেকে বেশি হওয়ায় স্টোরে মজুত বাড়ার সাথে দামও কমেছে বেশ।

চৌগাছা বাজারের আলু ব্যবসায়ী আনিচুর রহমান বলেন, ‘আলু কম দরের কারণে সংরক্ষিত আলু বাজারজাত করা সম্ভব না হলে বিপুল আলু অবিক্রীত থেকে যাবে এবং আলু ফেলে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। ইতোমধ্যে অনেক আলু স্টোরেই পচন ধরেছে। যারা অধিক লাভের আশায় হাজার হাজার বস্তা আলু স্টোরে রেখে ছিল তাদের বিপদের শেষ নেই। এ বছর অনেক ব্যবসায়ী তাদের মূল পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।’

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ উপজেলায় ২ হাজার ১৬৮ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়। চৌগাছার ডিভাইন কোল্ডস্টোরে এ বছর ১ লাখ ৬ হাজার বস্তা ও ডিভাইন এগ্রোটিস্যুকালচারে ৭৫ হাজার বস্তা আলু স্টোরে রাখা হয়। এরমধ্যে থেকে ৭৫ হাজার বস্তা আলু মালিকরা বের করেছেন। এদিকে রংপুর ও ঠাকুরগা এলাকা থেকে ভোজ্য আলু ঢুকছে বাজারে। ফলে এলাকার ব্যবসায়ী ও কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, ‘গত বছর আলুর চাহিদা বেশি ছিল। সেই তুলনায় জোগান ছিল কম। তাই ভালো দাম পেয়েছে কৃষক। গতবারের দেখাদেখি এবারো আবাদ বাড়িয়ে বিপদে পড়েছেন চাষিরা। মজুত বেশি তাই দামটা একটু কম। ফলে ব্যবসায়ী ও কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।’