ঢাকা ১২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

যেখানে ভয় থেমে যায়, সেখানে শুরু হয় বন্ধুত্ব

মোঃ আইনুল ইসলাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 121

বাম পাশের ছবিটি জয়পুরহাটের ফেমাস হেলথ কেয়ার ল্যাব থেকে তোলা ।

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জয়পুরহাটের এক CT স্ক্যান রুমে লেখা হলো সাহসের নীরব কবিতা

বিশেষ মানবিক প্রতিবেদন: মোঃ আইনুল ইসলাম,
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: দেশবর্ণ নিউজ

 

পৃথিবীতে এমন কিছু সম্পর্ক আছে—যেগুলো পরিচয়ে বড় নয়, কিন্তু প্রয়োজনে পাহাড় হয়ে দাঁড়ায়।
বন্ধুত্ব ঠিক তেমনই এক সম্পর্ক।
আর সেই বন্ধুত্বের প্রকৃত মানে যেন নতুন করে লেখা হলো জয়পুরহাটের একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে, একটি CT স্ক্যান রুমে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাটের ফেমাস হেলথ কেয়ার ল্যাবে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

একজন কিশোর—শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ। চিকিৎসকদের মতে, জরুরি CT স্ক্যান ছাড়া সামনে এগোনো সম্ভব নয়।
সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। চিকিৎসক, নার্স, ল্যাব টেকনোলজিস্ট—সবাই প্রস্তুত। কিন্তু এক অদৃশ্য শক্তি সবকিছুর সামনে দাঁড়িয়ে যায়-ভয়।

ভয় যখন শরীরকে অচল করে দেয়
তিনি একা CT স্ক্যান রুমে প্রবেশ করতে পারছেন না।মিনিট গড়িয়ে ঘণ্টা হয়। ঘণ্টা গড়িয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা। মা–বাবার কণ্ঠ কাঁপে।
চিকিৎসকের কণ্ঠে অনুরোধ।
কিন্তু ভয় যুক্তি বোঝে না।

চোখে জমে ওঠে জল। চারপাশে মানুষ, অথচ ভেতরে নিঃসঙ্গতার গভীর অন্ধকার।ঠিক তখনই নেওয়া হয় এক মানবিক সিদ্ধান্ত—
ডাকা হয় তার সবচেয়ে বিশ্বাসের মানুষটিকে। তার বন্ধুকে।
বন্ধুর উপস্থিতিতে বদলে যায় বাতাস, বন্ধুটি আসতেই যেন পরিবেশের ওজন বদলে যায়।

ভয় পুরোপুরি যায় না,
কিন্তু অর্ধেকটা চুপ করে বসে।
কোনো উপদেশ নয়, কোনো বড় কথা নয়। শুধু একটি দৃঢ় উচ্চারণ—“একসাথে যাব। একসাথেই CT করব।”এই এক বাক্যেই ছিল
সাহস, ভরসা আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সম্পূর্ণ অভিধান।

পাশাপাশি শুয়ে, একই ভয়ের সামনে এরপর যে দৃশ্য দেখা যায়—
তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নয়,
তা মানবতার। দু’জন বন্ধু,
পাশাপাশি শুয়ে, একই যন্ত্রের নিচে,
একই অজানা ভয়ের মুখোমুখি।
একজন রোগী, অন্যজন কেবল বন্ধু—কিন্তু সাহসের বোঝা দু’জনেই সমানভাবে কাঁধে নিল।

কেউ বলল না,“ভয় পাস না।”
বরং নীরবে বলা হলো—“আমি আছি।” বন্ধুত্বের সংজ্ঞা নতুন করে লেখা হলো, এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়— বন্ধু মানে শুধু সুখের দিনে পাশে থাকা নয়।

বন্ধু মানে বিপদের সময় নিজের স্বস্তিটুকু পাশে সরিয়ে রাখা।
বন্ধু মানে এমন এক মানুষ,
যে প্রয়োজনে নিজের ভয়কে গিলে ফেলে অন্যের সাহস হয়ে দাঁড়ায়।

আজকের সমাজে, যেখানে অনেক সম্পর্ক স্বার্থে বাঁধা—সেখানে এই দুই বন্ধুর নীরব উপস্থিতি একটি শক্ত প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—আমরা কি এখনও এমন মানুষ হতে পারি?

শেষ কথা এটি কোনো সাজানো গল্প নয়।এটি কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়।এটি বাস্তব। এটি আমাদেরই সমাজের প্রতিচ্ছবি। একটি CT স্ক্যান রুমে ঘটে যাওয়া এই নীরব ঘটনা প্রমাণ করে— মানবিকতা এখনো হারিয়ে যায়নি, বন্ধুত্ব এখনো ভয়কে হার মানাতে পারে।

দেশবর্ণ নিউজ বিশ্বাস করে
যতদিন এমন বন্ধুত্ব বেঁচে থাকবে, ততদিন এই সমাজ পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে যাবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যেখানে ভয় থেমে যায়, সেখানে শুরু হয় বন্ধুত্ব

আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জয়পুরহাটের এক CT স্ক্যান রুমে লেখা হলো সাহসের নীরব কবিতা

বিশেষ মানবিক প্রতিবেদন: মোঃ আইনুল ইসলাম,
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: দেশবর্ণ নিউজ

 

পৃথিবীতে এমন কিছু সম্পর্ক আছে—যেগুলো পরিচয়ে বড় নয়, কিন্তু প্রয়োজনে পাহাড় হয়ে দাঁড়ায়।
বন্ধুত্ব ঠিক তেমনই এক সম্পর্ক।
আর সেই বন্ধুত্বের প্রকৃত মানে যেন নতুন করে লেখা হলো জয়পুরহাটের একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে, একটি CT স্ক্যান রুমে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাটের ফেমাস হেলথ কেয়ার ল্যাবে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

একজন কিশোর—শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ। চিকিৎসকদের মতে, জরুরি CT স্ক্যান ছাড়া সামনে এগোনো সম্ভব নয়।
সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। চিকিৎসক, নার্স, ল্যাব টেকনোলজিস্ট—সবাই প্রস্তুত। কিন্তু এক অদৃশ্য শক্তি সবকিছুর সামনে দাঁড়িয়ে যায়-ভয়।

ভয় যখন শরীরকে অচল করে দেয়
তিনি একা CT স্ক্যান রুমে প্রবেশ করতে পারছেন না।মিনিট গড়িয়ে ঘণ্টা হয়। ঘণ্টা গড়িয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা। মা–বাবার কণ্ঠ কাঁপে।
চিকিৎসকের কণ্ঠে অনুরোধ।
কিন্তু ভয় যুক্তি বোঝে না।

চোখে জমে ওঠে জল। চারপাশে মানুষ, অথচ ভেতরে নিঃসঙ্গতার গভীর অন্ধকার।ঠিক তখনই নেওয়া হয় এক মানবিক সিদ্ধান্ত—
ডাকা হয় তার সবচেয়ে বিশ্বাসের মানুষটিকে। তার বন্ধুকে।
বন্ধুর উপস্থিতিতে বদলে যায় বাতাস, বন্ধুটি আসতেই যেন পরিবেশের ওজন বদলে যায়।

ভয় পুরোপুরি যায় না,
কিন্তু অর্ধেকটা চুপ করে বসে।
কোনো উপদেশ নয়, কোনো বড় কথা নয়। শুধু একটি দৃঢ় উচ্চারণ—“একসাথে যাব। একসাথেই CT করব।”এই এক বাক্যেই ছিল
সাহস, ভরসা আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সম্পূর্ণ অভিধান।

পাশাপাশি শুয়ে, একই ভয়ের সামনে এরপর যে দৃশ্য দেখা যায়—
তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নয়,
তা মানবতার। দু’জন বন্ধু,
পাশাপাশি শুয়ে, একই যন্ত্রের নিচে,
একই অজানা ভয়ের মুখোমুখি।
একজন রোগী, অন্যজন কেবল বন্ধু—কিন্তু সাহসের বোঝা দু’জনেই সমানভাবে কাঁধে নিল।

কেউ বলল না,“ভয় পাস না।”
বরং নীরবে বলা হলো—“আমি আছি।” বন্ধুত্বের সংজ্ঞা নতুন করে লেখা হলো, এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়— বন্ধু মানে শুধু সুখের দিনে পাশে থাকা নয়।

বন্ধু মানে বিপদের সময় নিজের স্বস্তিটুকু পাশে সরিয়ে রাখা।
বন্ধু মানে এমন এক মানুষ,
যে প্রয়োজনে নিজের ভয়কে গিলে ফেলে অন্যের সাহস হয়ে দাঁড়ায়।

আজকের সমাজে, যেখানে অনেক সম্পর্ক স্বার্থে বাঁধা—সেখানে এই দুই বন্ধুর নীরব উপস্থিতি একটি শক্ত প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—আমরা কি এখনও এমন মানুষ হতে পারি?

শেষ কথা এটি কোনো সাজানো গল্প নয়।এটি কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়।এটি বাস্তব। এটি আমাদেরই সমাজের প্রতিচ্ছবি। একটি CT স্ক্যান রুমে ঘটে যাওয়া এই নীরব ঘটনা প্রমাণ করে— মানবিকতা এখনো হারিয়ে যায়নি, বন্ধুত্ব এখনো ভয়কে হার মানাতে পারে।

দেশবর্ণ নিউজ বিশ্বাস করে
যতদিন এমন বন্ধুত্ব বেঁচে থাকবে, ততদিন এই সমাজ পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে যাবে না।