ঢাকা ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo [আপডেট] রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

পারমাণবিক সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় ইরান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 284
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি পারমাণবিক সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় ইরান, যা উভয় দেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে—এমনটাই জানিয়েছেন এক ইরানি কূটনীতিক। রোববার দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আসন্ন দ্বিতীয় দফার তেহরান–ওয়াশিংটন আলোচনায় পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে কয়েক দশকের উত্তেজনা নিরসন এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়াতে চলতি মাসের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে আবার সংলাপ শুরু হয়েছে। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে। রয়টার্সকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে।

 

ব্রাতিস্লাভায় এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিলেও সব সম্ভাবনার কথাই মাথায় রাখছেন। রুবিওর ভাষায়, “ইরানের সঙ্গে আগে কেউ সফল চুক্তি করতে পারেনি, তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

 

অন্যদিকে, সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইরান। যদিও রোববার দেশটির অবস্থান কিছুটা নরম ছিল।

 

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক কূটনীতি বিভাগের উপপরিচালক হামিদ ঘানবারি বলেন, চুক্তিকে টেকসই করতে হলে এমন খাত অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও দ্রুত ও দৃশ্যমান অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। তার মতে, তেল ও গ্যাসক্ষেত্র, খনি খাতে বিনিয়োগ এবং উড়োজাহাজ ক্রয়ের মতো বিষয়গুলো পারস্পরিক স্বার্থের আওতায় পড়তে পারে।

 

ঘানবারি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত করতে পারেনি। সেই চুক্তির অধীনে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রতিশ্রুতি পেয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন এবং তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন।

 

বর্তমানে ওমানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের আলোচনা আবার শুরু হয়েছে। রয়টার্সের এক সূত্র জানায়, আগামী মঙ্গলবার জেনেভায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন দলে ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার থাকবেন বলে জানা গেছে। রোববার ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও মঙ্গলবারের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—আসন্ন চুক্তিতে ইরানের জ্বালানি ও খনি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণই কি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে? নাকি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের অবসানই দুই দেশের প্রধান লক্ষ্য—তা এখন দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র : রয়টার্স

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পারমাণবিক সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় ইরান

আপডেট সময় : ০৮:৫২:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি পারমাণবিক সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় ইরান, যা উভয় দেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে—এমনটাই জানিয়েছেন এক ইরানি কূটনীতিক। রোববার দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আসন্ন দ্বিতীয় দফার তেহরান–ওয়াশিংটন আলোচনায় পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে কয়েক দশকের উত্তেজনা নিরসন এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়াতে চলতি মাসের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে আবার সংলাপ শুরু হয়েছে। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে। রয়টার্সকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে।

 

ব্রাতিস্লাভায় এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিলেও সব সম্ভাবনার কথাই মাথায় রাখছেন। রুবিওর ভাষায়, “ইরানের সঙ্গে আগে কেউ সফল চুক্তি করতে পারেনি, তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

 

অন্যদিকে, সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইরান। যদিও রোববার দেশটির অবস্থান কিছুটা নরম ছিল।

 

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক কূটনীতি বিভাগের উপপরিচালক হামিদ ঘানবারি বলেন, চুক্তিকে টেকসই করতে হলে এমন খাত অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও দ্রুত ও দৃশ্যমান অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। তার মতে, তেল ও গ্যাসক্ষেত্র, খনি খাতে বিনিয়োগ এবং উড়োজাহাজ ক্রয়ের মতো বিষয়গুলো পারস্পরিক স্বার্থের আওতায় পড়তে পারে।

 

ঘানবারি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত করতে পারেনি। সেই চুক্তির অধীনে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রতিশ্রুতি পেয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন এবং তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন।

 

বর্তমানে ওমানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের আলোচনা আবার শুরু হয়েছে। রয়টার্সের এক সূত্র জানায়, আগামী মঙ্গলবার জেনেভায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন দলে ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার থাকবেন বলে জানা গেছে। রোববার ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও মঙ্গলবারের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—আসন্ন চুক্তিতে ইরানের জ্বালানি ও খনি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণই কি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে? নাকি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের অবসানই দুই দেশের প্রধান লক্ষ্য—তা এখন দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র : রয়টার্স