ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

কোরদোফান অঞ্চলে একটি বাজারে ড্রোন হামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 100

সুদানের সেনাবাহিনীর ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আফ্রিকার দেশ সুদানের মধ্যাঞ্চলের কোরদোফান অঞ্চলে একটি বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকারভিত্তিক সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ তিন বছরে গড়ানোর প্রাক্কালে এই হামলার ঘটনা ঘটল।

সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, রবিবার উত্তর কোরদোফানের সুদরি এলাকার একটি জনাকীর্ণ বাজারে ড্রোন থেকে বোমা হামলা চালানো হয়, যা মানবিক বিপর্যয়কে আরও তীব্র করেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বারবার ড্রোন ব্যবহারকে বেসামরিক জীবনের প্রতি গুরুতর অবজ্ঞা এবং সংঘাতের বিপজ্জনক বিস্তার হিসেবে উল্লেখ করে উভয় পক্ষকে অবিলম্বে ড্রোন হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইমার্জেন্সি লইয়ার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে, এই হামলায় সেনাবাহিনীর ড্রোন ব্যবহার করা হয়। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সামরিক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সেনাবাহিনী কখনো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় না। তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এরও এক সপ্তাহ আগে উত্তর কোরদোফানের রাহাদ শহরের কাছে বাস্তুচ্যুত পরিবারবাহী একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে আট শিশু ছিল। ওই ঘটনার আগের দিন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির একটি ত্রাণবহরও হামলার শিকার হয়।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস ও সুদানি সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ দেশজুড়ে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে; তবে সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর সম্প্রতি জানিয়েছে, কোরদোফান অঞ্চল এখনো ‘অস্থির এবং সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু’, যেখানে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই নৃশংসতার অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অক্টোবরের শেষ দিকে সুদানের দারফুর অঞ্চলে তীব্র সহিংসতার ঢেউয়ে তিন দিনের বেশি সময়ে ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন। একই সময় সামরিক ঘাঁটি শহর এল-ফাশের দখলের অভিযানে ব্যাপক নৃশংসতা চালানো হয়, যা যুদ্ধাপরাধ এবং সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল হতে পারে বলে জাতিসংঘ উল্লেখ করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কোরদোফান অঞ্চলে একটি বাজারে ড্রোন হামলা

আপডেট সময় : ১০:০১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আফ্রিকার দেশ সুদানের মধ্যাঞ্চলের কোরদোফান অঞ্চলে একটি বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকারভিত্তিক সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ তিন বছরে গড়ানোর প্রাক্কালে এই হামলার ঘটনা ঘটল।

সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, রবিবার উত্তর কোরদোফানের সুদরি এলাকার একটি জনাকীর্ণ বাজারে ড্রোন থেকে বোমা হামলা চালানো হয়, যা মানবিক বিপর্যয়কে আরও তীব্র করেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বারবার ড্রোন ব্যবহারকে বেসামরিক জীবনের প্রতি গুরুতর অবজ্ঞা এবং সংঘাতের বিপজ্জনক বিস্তার হিসেবে উল্লেখ করে উভয় পক্ষকে অবিলম্বে ড্রোন হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইমার্জেন্সি লইয়ার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে, এই হামলায় সেনাবাহিনীর ড্রোন ব্যবহার করা হয়। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সামরিক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সেনাবাহিনী কখনো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় না। তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এরও এক সপ্তাহ আগে উত্তর কোরদোফানের রাহাদ শহরের কাছে বাস্তুচ্যুত পরিবারবাহী একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে আট শিশু ছিল। ওই ঘটনার আগের দিন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির একটি ত্রাণবহরও হামলার শিকার হয়।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস ও সুদানি সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ দেশজুড়ে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে; তবে সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর সম্প্রতি জানিয়েছে, কোরদোফান অঞ্চল এখনো ‘অস্থির এবং সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু’, যেখানে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই নৃশংসতার অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অক্টোবরের শেষ দিকে সুদানের দারফুর অঞ্চলে তীব্র সহিংসতার ঢেউয়ে তিন দিনের বেশি সময়ে ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন। একই সময় সামরিক ঘাঁটি শহর এল-ফাশের দখলের অভিযানে ব্যাপক নৃশংসতা চালানো হয়, যা যুদ্ধাপরাধ এবং সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল হতে পারে বলে জাতিসংঘ উল্লেখ করেছে।