ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর-এর মমতাময়ী মায়ের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে সরকার Logo মাদক ও মানব পাচার নির্মূলে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ বরণ Logo কৃষক কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে টাঙ্গাইল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo নারী উদ্যোক্তা এবং প্রবাসীদের নিয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার Logo বাংলার যয়যাত্রাএর হরমুজ প্রণালী পার হতে কেন বাধা দিল ইরান Logo রায়ে ‘অসন্তুষ্ট’ শহীদ আবু সাঈদের পরিবার Logo সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন ১২ মে

পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা আটক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 98
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে কর্মরত হিসাব সহকারী কাম ক্রেডিট সুপারভাইজার সাইফুল ইসলামকে তার পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে ভাড়া বাসায় আটক করেছেন তার স্ত্রী সখিনা খাতুন।

শনিবার বিকাল ৪টার দিকে পৌর শহরের সবুজপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সাইফুল ইসলাম ওই বাসায় পরিবারসহ ভাড়া ছিলেন।

পরকীয়া প্রেমিকার নাম যুথি বেগম। তিনি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতাধীন কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রকল্পে দেবীগঞ্জে আবৃত্তি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি বোর্ডিংপাড়া এলাকার মোশারফের স্ত্রী।

সখিনা খাতুন ও স্থানীয়রা জানান, সাইফুল ও সখিনার দুই সন্তান রয়েছে। যুথির সঙ্গে পরকীয়ার পর থেকে সাইফুল প্রায়ই সখিনাকে মারধর করতেন। শনিবার বিকালে সাইফুল যুথিকে ভাড়া বাসায় ডেকে আনেন। যুথি পৌঁছানোর পর সাইফুল ও সখিনার মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। সাইফুল যখন সখিনাকে জোর করে ঘরের বাইরে বের করতে চান, তখন সখিনা দরজায় তালা লাগিয়ে থানায় চলে যান। এরই মধ্যে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে বাসার সামনে জড়ো হন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

দেবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাইফুল ও যুথিকে হেফাজতে নিয়ে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশ না আসলে স্থানীয়রা তাদের গণপিটুনি দিত।

থানায় আনার পর যুথি জানান, তিনি আর সংসারে ফিরতে পারবেন না এবং সাইফুলকে বিয়ে করতে চান। সাইফুলও তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে যুথিকে বিয়ে করবেন বলে জানান।

সখিনা খাতুন দাবি করেন, এর আগে সাইফুল সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় থাকাকালীনও পরকীয়ায় জড়িয়েছিলেন। সেবারও শালিস হয়। পরে দেবীগঞ্জে বদলী করা হয় এবং আবারও পরকীয়ায় জড়ান।

তিনি আরও জানান, সাইফুল পূর্বে অনুমোদন ছাড়া দুইটি বিয়ে করেছিলেন এবং পরে তা প্রকাশ পেলে তালাক দিয়েছেন। এছাড়াও সাইফুল প্রায়ই সখিনাকে টাকার জন্য চাপ দেন ও মারধর করেন।

স্থানীয়রা জানান, যুথি সরকারি প্রকল্পে চাকরি করলেও দায়িত্ব বাস্তবে সীমিত ছিল। তবে অফিস সময়ে সাইফুলের সঙ্গে তার দেখা যেত। কখনও কখনও অফিসের বাইরের কাজেও যুথিকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। এই অনৈতিক সম্পর্কের কথা উপজেলা পরিষদ চত্বরের বেশ কয়েকজন জানতেন, তবে প্রকাশ করেননি।

দেবীগঞ্জ থানার ওসি একেএম মনিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “এই ঘটনায় থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। রবিবার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা আটক

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে কর্মরত হিসাব সহকারী কাম ক্রেডিট সুপারভাইজার সাইফুল ইসলামকে তার পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে ভাড়া বাসায় আটক করেছেন তার স্ত্রী সখিনা খাতুন।

শনিবার বিকাল ৪টার দিকে পৌর শহরের সবুজপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সাইফুল ইসলাম ওই বাসায় পরিবারসহ ভাড়া ছিলেন।

পরকীয়া প্রেমিকার নাম যুথি বেগম। তিনি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতাধীন কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রকল্পে দেবীগঞ্জে আবৃত্তি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি বোর্ডিংপাড়া এলাকার মোশারফের স্ত্রী।

সখিনা খাতুন ও স্থানীয়রা জানান, সাইফুল ও সখিনার দুই সন্তান রয়েছে। যুথির সঙ্গে পরকীয়ার পর থেকে সাইফুল প্রায়ই সখিনাকে মারধর করতেন। শনিবার বিকালে সাইফুল যুথিকে ভাড়া বাসায় ডেকে আনেন। যুথি পৌঁছানোর পর সাইফুল ও সখিনার মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। সাইফুল যখন সখিনাকে জোর করে ঘরের বাইরে বের করতে চান, তখন সখিনা দরজায় তালা লাগিয়ে থানায় চলে যান। এরই মধ্যে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে বাসার সামনে জড়ো হন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

দেবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাইফুল ও যুথিকে হেফাজতে নিয়ে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশ না আসলে স্থানীয়রা তাদের গণপিটুনি দিত।

থানায় আনার পর যুথি জানান, তিনি আর সংসারে ফিরতে পারবেন না এবং সাইফুলকে বিয়ে করতে চান। সাইফুলও তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে যুথিকে বিয়ে করবেন বলে জানান।

সখিনা খাতুন দাবি করেন, এর আগে সাইফুল সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় থাকাকালীনও পরকীয়ায় জড়িয়েছিলেন। সেবারও শালিস হয়। পরে দেবীগঞ্জে বদলী করা হয় এবং আবারও পরকীয়ায় জড়ান।

তিনি আরও জানান, সাইফুল পূর্বে অনুমোদন ছাড়া দুইটি বিয়ে করেছিলেন এবং পরে তা প্রকাশ পেলে তালাক দিয়েছেন। এছাড়াও সাইফুল প্রায়ই সখিনাকে টাকার জন্য চাপ দেন ও মারধর করেন।

স্থানীয়রা জানান, যুথি সরকারি প্রকল্পে চাকরি করলেও দায়িত্ব বাস্তবে সীমিত ছিল। তবে অফিস সময়ে সাইফুলের সঙ্গে তার দেখা যেত। কখনও কখনও অফিসের বাইরের কাজেও যুথিকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। এই অনৈতিক সম্পর্কের কথা উপজেলা পরিষদ চত্বরের বেশ কয়েকজন জানতেন, তবে প্রকাশ করেননি।

দেবীগঞ্জ থানার ওসি একেএম মনিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “এই ঘটনায় থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। রবিবার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।।”