ঢাকা ০৭:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo [আপডেট] রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

রমজানে শয়তান বন্দি—তবে আব্দুল্লাহপুরের পালকি হোটেল’-ই তার আস্তানা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৮:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 245

ছবি : দেশবর্ন গ্রাফিক্স ।

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উত্তরা সেক্টর-৯ এ তথ্যানুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, ছিনতাই ও প্রাণনাশের হুমকি ।

পবিত্র মাহে রমজানে যখন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আত্মসংযম ও ইবাদতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই রাজধানীর ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৯ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত আব্দুল্লাহপুর এলাকার কথিত ‘পালকি’হোটেল পালকি-তে মিলেছে ভিন্ন এক চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দেহব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ থাকা এই হোটেলে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক।

ইনফিনিটি টিভি নিউজ এর রিপোর্টার মোঃ জিয়াউর ফকির (৪২) গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং, বিকাল আনুমানিক ৩:৩০ ঘটিকার সময় সহকর্মী মোঃ সৌরভকে সঙ্গে নিয়ে তথ্য সংগ্রহে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, হোটেলটিতে প্রবেশ করে সন্দেহজনক নারী-পুরুষের যাতায়াত লক্ষ্য করলে মালিক মোঃ ফাহিম (৪০) ও পার্টনার মোঃ রুবেল (৩৫) ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তাদের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জন স্টাফ সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক মারধরে সাংবাদিক জিয়াউর রহমানের মাথা ফেটে যায় এবং তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হন। তার সহকর্মীও আহত হন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তার ব্যবহৃত স্যামসাং এস২০ আলট্রা মোবাইল ফোন, গিম্বল এবং নগদ ৪০,৫৫০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া ভবিষ্যতে তথ্য সংগ্রহে এলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।

আহত অবস্থায় তিনি টঙ্গীর আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় তিনি উত্তরা পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

পুরনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহপুরের এই ‘পালকি’ খ্যাত হোটেলটি নতুন করে আলোচনায় আসেনি। অতীতেও বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে হোটেলটিতে অসামাজিক কার্যকলাপ, অবৈধ দেহব্যবসা ও প্রশাসনের অভিযানের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় আবারও পুরনো কার্যক্রম শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দিনের বেলায় সাধারণ আবাসিক হোটেলের কার্যক্রম চললেও সন্ধ্যার পরপরই বাড়ে সন্দেহজনক যাতায়াত। রমজানের মতো পবিত্র মাসেও এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

আইনি প্রশ্ন ও সাংবাদিক নিরাপত্তা
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও পেশাগত কাজে বাধা প্রদান দণ্ডনীয় অপরাধ। দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩২৩ (আঘাত), ৩৭৯ (চুরি/ছিনতাই), ৫০৬ (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) ধারায় অপরাধ প্রযোজ্য । এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান গুরুতর আইনভঙ্গের শামিল।

সাংবাদিক মহল এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য—রমজানে শয়তান বন্দি থাকে, তবে যদি কোনো হোটেলই শয়তানের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—কারা দিচ্ছে সেই আশ্রয় ?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রমজানে শয়তান বন্দি—তবে আব্দুল্লাহপুরের পালকি হোটেল’-ই তার আস্তানা

আপডেট সময় : ১২:৪৮:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উত্তরা সেক্টর-৯ এ তথ্যানুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, ছিনতাই ও প্রাণনাশের হুমকি ।

পবিত্র মাহে রমজানে যখন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আত্মসংযম ও ইবাদতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই রাজধানীর ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৯ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত আব্দুল্লাহপুর এলাকার কথিত ‘পালকি’হোটেল পালকি-তে মিলেছে ভিন্ন এক চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দেহব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ থাকা এই হোটেলে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক।

ইনফিনিটি টিভি নিউজ এর রিপোর্টার মোঃ জিয়াউর ফকির (৪২) গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং, বিকাল আনুমানিক ৩:৩০ ঘটিকার সময় সহকর্মী মোঃ সৌরভকে সঙ্গে নিয়ে তথ্য সংগ্রহে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, হোটেলটিতে প্রবেশ করে সন্দেহজনক নারী-পুরুষের যাতায়াত লক্ষ্য করলে মালিক মোঃ ফাহিম (৪০) ও পার্টনার মোঃ রুবেল (৩৫) ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তাদের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জন স্টাফ সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক মারধরে সাংবাদিক জিয়াউর রহমানের মাথা ফেটে যায় এবং তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হন। তার সহকর্মীও আহত হন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তার ব্যবহৃত স্যামসাং এস২০ আলট্রা মোবাইল ফোন, গিম্বল এবং নগদ ৪০,৫৫০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া ভবিষ্যতে তথ্য সংগ্রহে এলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।

আহত অবস্থায় তিনি টঙ্গীর আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় তিনি উত্তরা পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

পুরনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহপুরের এই ‘পালকি’ খ্যাত হোটেলটি নতুন করে আলোচনায় আসেনি। অতীতেও বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে হোটেলটিতে অসামাজিক কার্যকলাপ, অবৈধ দেহব্যবসা ও প্রশাসনের অভিযানের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় আবারও পুরনো কার্যক্রম শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দিনের বেলায় সাধারণ আবাসিক হোটেলের কার্যক্রম চললেও সন্ধ্যার পরপরই বাড়ে সন্দেহজনক যাতায়াত। রমজানের মতো পবিত্র মাসেও এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

আইনি প্রশ্ন ও সাংবাদিক নিরাপত্তা
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও পেশাগত কাজে বাধা প্রদান দণ্ডনীয় অপরাধ। দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩২৩ (আঘাত), ৩৭৯ (চুরি/ছিনতাই), ৫০৬ (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) ধারায় অপরাধ প্রযোজ্য । এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান গুরুতর আইনভঙ্গের শামিল।

সাংবাদিক মহল এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য—রমজানে শয়তান বন্দি থাকে, তবে যদি কোনো হোটেলই শয়তানের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—কারা দিচ্ছে সেই আশ্রয় ?