ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 49
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৭ বছর আগে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ঘটে যায় এক নারকীয় ঘটনা। সেদিনের হামলায় প্রাণ হারান দেশের ৫৭জন সেনা অফিসার ও ১৭জন বেসামরিক নাগরিক। কেউ ভাবতেও পারেননি খোদ পিলখানার মধ্যেই প্রাণ হারাবেন প্রথম সারির সামরিক কর্মকর্তারা।

ওই পিলখানা হত্যার ঘটনায় মামলা এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় জটিলতার মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘদিনের বিচার ও আপিলের মধ্য দিয়ে আসামি ও নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারদের ধৈর্য পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এরই মধ্যে ওই মামলায় প্রথমবারের মতো আসতে যাচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম।

প্রসিকিউশন জানায়, বিস্ফোরক এই মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দিতে, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে শেখ হাসিনা, শেখ তাপস, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানক’সহ তৎকালীন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতার নাম উঠে এসেছে।

মামলায় ১২০০ সাক্ষীর মধ্যে, সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে তিনশ’ জনের। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে শেখ হাসিনা’সহ বেশ কয়েকজনের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য এসেছে।

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিস্ফোরক এই মামলাটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। ৫ আগস্টের পর এই মামলার কয়েকশ’ আসামি জামিন পেয়েছেন।

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা বিষয়ে চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, সম্পূরক চার্জশিটে শেখ হাসিনা, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং তৎকালীন কয়েকজন মন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের উচ্চপদস্থ নেতাদের নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আইনে এই ধরনের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘসময় মামলা পরিচালনা করতে করতে তারা ক্লান্ত, এবং দীর্ঘসূত্রী বিচার প্রক্রিয়ার কারণে হতাশ পরিবারের অসন্তোষও বেড়েছে। আইনজীবী পারভেজ হোসাইন বলেন, ‘হত্যা মামলায় যারা খালাস পেয়েছেন, বিস্ফোরক মামলায় একই আসামির অন্তর্ভুক্ত থাকার কারণে তারা এখনও জামিন পাননি। এটি আইনি জটিলতা আরও বাড়িয়েছে।’

চূড়ান্তভাবে মামলাগুলো কখন নিষ্পত্তি হবে, তা এখনো অজানা। তবে প্রসিকিউশনের দাবি, নতুন চার্জশিটের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যুক্ত হয়েছে, যা মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত হয়েছিল পিলখানা। বিচারিক আদালত, ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর, এ মামলার রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। হাইকোর্ট ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। খালাস পান ২৮৩ জন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১৭ বছর আগে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ঘটে যায় এক নারকীয় ঘটনা। সেদিনের হামলায় প্রাণ হারান দেশের ৫৭জন সেনা অফিসার ও ১৭জন বেসামরিক নাগরিক। কেউ ভাবতেও পারেননি খোদ পিলখানার মধ্যেই প্রাণ হারাবেন প্রথম সারির সামরিক কর্মকর্তারা।

ওই পিলখানা হত্যার ঘটনায় মামলা এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় জটিলতার মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘদিনের বিচার ও আপিলের মধ্য দিয়ে আসামি ও নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারদের ধৈর্য পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এরই মধ্যে ওই মামলায় প্রথমবারের মতো আসতে যাচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম।

প্রসিকিউশন জানায়, বিস্ফোরক এই মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দিতে, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে শেখ হাসিনা, শেখ তাপস, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানক’সহ তৎকালীন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতার নাম উঠে এসেছে।

মামলায় ১২০০ সাক্ষীর মধ্যে, সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে তিনশ’ জনের। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে শেখ হাসিনা’সহ বেশ কয়েকজনের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য এসেছে।

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিস্ফোরক এই মামলাটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। ৫ আগস্টের পর এই মামলার কয়েকশ’ আসামি জামিন পেয়েছেন।

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা বিষয়ে চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, সম্পূরক চার্জশিটে শেখ হাসিনা, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং তৎকালীন কয়েকজন মন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের উচ্চপদস্থ নেতাদের নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আইনে এই ধরনের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘসময় মামলা পরিচালনা করতে করতে তারা ক্লান্ত, এবং দীর্ঘসূত্রী বিচার প্রক্রিয়ার কারণে হতাশ পরিবারের অসন্তোষও বেড়েছে। আইনজীবী পারভেজ হোসাইন বলেন, ‘হত্যা মামলায় যারা খালাস পেয়েছেন, বিস্ফোরক মামলায় একই আসামির অন্তর্ভুক্ত থাকার কারণে তারা এখনও জামিন পাননি। এটি আইনি জটিলতা আরও বাড়িয়েছে।’

চূড়ান্তভাবে মামলাগুলো কখন নিষ্পত্তি হবে, তা এখনো অজানা। তবে প্রসিকিউশনের দাবি, নতুন চার্জশিটের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যুক্ত হয়েছে, যা মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত হয়েছিল পিলখানা। বিচারিক আদালত, ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর, এ মামলার রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। হাইকোর্ট ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। খালাস পান ২৮৩ জন।