ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রমজানের প্রভাব: অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ পাঠক কম

আবির মোহাম্মদ
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • / ৫৩৯ বার পড়া হয়েছে

ছবি : দেশবর্ন ।

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রতিবেদন: আবির মোহাম্মদ

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক আয়োজন অমর একুশে বইমেলা। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পাঠক, লেখক ও প্রকাশকের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই আয়োজন। তবে ২০২৬ সালের বইমেলায় আগের বছরের তুলনায় পাঠক উপস্থিতি ও বই বিক্রি – দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কম বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা।

মেলায় অংশ নেওয়া বেশ কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের মেলায় প্রতিদিনই দর্শনার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। বিশেষ করে সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনগুলোতে অনেক স্টলেই পাঠকের ভিড় চোখে পড়ছে না। ফলে বই বিক্রিও আশানুরূপ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা।

প্রকাশকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে বইমেলায় পাঠকের আগ্রহ অনেক বেশি থাকলেও এবার সেই চিত্র কিছুটা ভিন্ন। অনেক প্রকাশক জানিয়েছেন, নতুন বই প্রকাশ করা হলেও বিক্রির গতি খুবই ধীর, যা তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এবারের মেলায় পাঠক উপস্থিতি কম হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে অনেকেই উল্লেখ করছেন রমজান মাসকে। রোজার কারণে অনেক মানুষ দিনের বেলায় বাইরে কম বের হচ্ছেন এবং ইফতার ও তারাবির নামাজকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার সময়ও অনেকের পক্ষে মেলায় আসা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া কিছু প্রকাশকের মতে, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মাধ্যমের প্রতি মানুষের ঝোঁক, ব্যস্ত জীবনযাপন এবং অর্থনৈতিক চাপ এসব কারণেও বই কেনার প্রবণতা কিছুটা কমে যেতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, মেলার প্রচার ও আয়োজনের কিছু দিক আরও আকর্ষণীয় করা গেলে পাঠকের উপস্থিতি বাড়তে পারত।

তবে হতাশার মাঝেও আশা ছাড়ছেন না প্রকাশক ও লেখকরা। তাদের বিশ্বাস, মেলার শেষের দিনগুলোতে পাঠকের ভিড় বাড়তে পারে এবং তখন বই বিক্রির পরিস্থিতিও কিছুটা ইতিবাচক হতে পারে।

বাংলা ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে আয়োজিত এই বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার স্থান নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, জ্ঞানচর্চা ও সাহিত্যপ্রেমের অন্যতম প্রতীক। তাই সংশ্লিষ্টদের মতে, পাঠকদের আরও বেশি করে বইমুখী করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বইমেলা নিয়ে প্রকাশনা জগতে যেমন কিছুটা হতাশা রয়েছে, তেমনি শেষ সময়ে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ানোর আশাও রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রমজানের প্রভাব: অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ পাঠক কম

আপডেট সময় : ১০:০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

প্রতিবেদন: আবির মোহাম্মদ

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক আয়োজন অমর একুশে বইমেলা। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পাঠক, লেখক ও প্রকাশকের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই আয়োজন। তবে ২০২৬ সালের বইমেলায় আগের বছরের তুলনায় পাঠক উপস্থিতি ও বই বিক্রি – দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কম বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা।

মেলায় অংশ নেওয়া বেশ কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের মেলায় প্রতিদিনই দর্শনার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। বিশেষ করে সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনগুলোতে অনেক স্টলেই পাঠকের ভিড় চোখে পড়ছে না। ফলে বই বিক্রিও আশানুরূপ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা।

প্রকাশকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে বইমেলায় পাঠকের আগ্রহ অনেক বেশি থাকলেও এবার সেই চিত্র কিছুটা ভিন্ন। অনেক প্রকাশক জানিয়েছেন, নতুন বই প্রকাশ করা হলেও বিক্রির গতি খুবই ধীর, যা তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এবারের মেলায় পাঠক উপস্থিতি কম হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে অনেকেই উল্লেখ করছেন রমজান মাসকে। রোজার কারণে অনেক মানুষ দিনের বেলায় বাইরে কম বের হচ্ছেন এবং ইফতার ও তারাবির নামাজকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার সময়ও অনেকের পক্ষে মেলায় আসা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া কিছু প্রকাশকের মতে, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মাধ্যমের প্রতি মানুষের ঝোঁক, ব্যস্ত জীবনযাপন এবং অর্থনৈতিক চাপ এসব কারণেও বই কেনার প্রবণতা কিছুটা কমে যেতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, মেলার প্রচার ও আয়োজনের কিছু দিক আরও আকর্ষণীয় করা গেলে পাঠকের উপস্থিতি বাড়তে পারত।

তবে হতাশার মাঝেও আশা ছাড়ছেন না প্রকাশক ও লেখকরা। তাদের বিশ্বাস, মেলার শেষের দিনগুলোতে পাঠকের ভিড় বাড়তে পারে এবং তখন বই বিক্রির পরিস্থিতিও কিছুটা ইতিবাচক হতে পারে।

বাংলা ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে আয়োজিত এই বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার স্থান নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, জ্ঞানচর্চা ও সাহিত্যপ্রেমের অন্যতম প্রতীক। তাই সংশ্লিষ্টদের মতে, পাঠকদের আরও বেশি করে বইমুখী করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বইমেলা নিয়ে প্রকাশনা জগতে যেমন কিছুটা হতাশা রয়েছে, তেমনি শেষ সময়ে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ানোর আশাও রয়েছে।