ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

ফার্ন গাছ- সৌন্দর্য ও বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্যে অনন্য এক উদ্ভিদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৫:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • / 138
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভাস্কুলার হলেও অপুষ্পক উদ্ভিদের জগতে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে ফার্ন। টেরিডোফাইটা বিভাগের অন্তর্গত এই চিরসবুজ উদ্ভিদ স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে এবং এর স্বতন্ত্র গঠন ও জীবনচক্র উদ্ভিদবিদদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।

ফার্নের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় সুস্পষ্টভাবে বিভক্ত। এর কাণ্ড সাধারণত মাটির নিচে রাইজোম আকারে থাকে, যা থেকে শিকড় ও পাতা জন্মায়। তবে কিছু প্রজাতিতে কাণ্ড খাড়াভাবে উপরের দিকে বৃদ্ধি পায়। ফার্নের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ভাস্কুলার টিস্যু—জাইলেম ও ফ্লোয়েম—যা পানি ও পুষ্টি পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ফার্ন গাছ ফুল বা বীজ উৎপাদন করে না। বরং পাতার নিচের অংশে ক্ষুদ্র স্পোর বা বীজাণু তৈরি হয়, যার মাধ্যমে এরা বংশবৃদ্ধি করে। এই প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদ জগতে একটি প্রাচীন ও বৈশিষ্ট্যময় পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত।

ফার্নের পাতাকে ‘ফ্রন্ড’ বলা হয়, যা দেখতে আকর্ষণীয় ও নকশাবহুল। কচি পাতাগুলো কুণ্ডলী পাকানো অবস্থায় থাকে, যাকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় সারসিনেট ভার্নেশন বলা হয়। এই গঠন ফার্নকে অন্য উদ্ভিদ থেকে আলাদা করে তোলে।

এছাড়া ফার্নের জীবনচক্রে স্পোরোফাইট ও গ্যামেটোফাইট—এই দুই পর্যায়ের সুষ্পষ্ট পর্যায়ক্রম দেখা যায়, যা ‘অল্টারনেশন অব জেনারেশন’ নামে পরিচিত। এটি উদ্ভিদের প্রজনন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

ফার্ন সাধারণত ছায়াযুক্ত, আর্দ্র ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে জন্মায়। বনাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা কিংবা জলাশয়ের আশেপাশে এদের বেশি দেখা যায়। তবে বর্তমানে এর সৌন্দর্যের কারণে অনেকেই বাসার ভেতর বা বাইরে টবে ফার্ন চাষ করছেন, যা ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ফার্ন গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই নগরায়নের এই সময়ে ঘরে ঘরে ফার্নের চাষ বাড়ানো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফার্ন গাছ- সৌন্দর্য ও বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্যে অনন্য এক উদ্ভিদ

আপডেট সময় : ১০:১৫:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

ভাস্কুলার হলেও অপুষ্পক উদ্ভিদের জগতে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে ফার্ন। টেরিডোফাইটা বিভাগের অন্তর্গত এই চিরসবুজ উদ্ভিদ স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে এবং এর স্বতন্ত্র গঠন ও জীবনচক্র উদ্ভিদবিদদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।

ফার্নের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় সুস্পষ্টভাবে বিভক্ত। এর কাণ্ড সাধারণত মাটির নিচে রাইজোম আকারে থাকে, যা থেকে শিকড় ও পাতা জন্মায়। তবে কিছু প্রজাতিতে কাণ্ড খাড়াভাবে উপরের দিকে বৃদ্ধি পায়। ফার্নের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ভাস্কুলার টিস্যু—জাইলেম ও ফ্লোয়েম—যা পানি ও পুষ্টি পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ফার্ন গাছ ফুল বা বীজ উৎপাদন করে না। বরং পাতার নিচের অংশে ক্ষুদ্র স্পোর বা বীজাণু তৈরি হয়, যার মাধ্যমে এরা বংশবৃদ্ধি করে। এই প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদ জগতে একটি প্রাচীন ও বৈশিষ্ট্যময় পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত।

ফার্নের পাতাকে ‘ফ্রন্ড’ বলা হয়, যা দেখতে আকর্ষণীয় ও নকশাবহুল। কচি পাতাগুলো কুণ্ডলী পাকানো অবস্থায় থাকে, যাকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় সারসিনেট ভার্নেশন বলা হয়। এই গঠন ফার্নকে অন্য উদ্ভিদ থেকে আলাদা করে তোলে।

এছাড়া ফার্নের জীবনচক্রে স্পোরোফাইট ও গ্যামেটোফাইট—এই দুই পর্যায়ের সুষ্পষ্ট পর্যায়ক্রম দেখা যায়, যা ‘অল্টারনেশন অব জেনারেশন’ নামে পরিচিত। এটি উদ্ভিদের প্রজনন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

ফার্ন সাধারণত ছায়াযুক্ত, আর্দ্র ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে জন্মায়। বনাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা কিংবা জলাশয়ের আশেপাশে এদের বেশি দেখা যায়। তবে বর্তমানে এর সৌন্দর্যের কারণে অনেকেই বাসার ভেতর বা বাইরে টবে ফার্ন চাষ করছেন, যা ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ফার্ন গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই নগরায়নের এই সময়ে ঘরে ঘরে ফার্নের চাষ বাড়ানো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।