ঢাকা ০৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

হরিপুরে অশ্রুসজল চোখে প্রিয় ইমামকে সম্মান জানালেন এলাকাবাসী

নয়ন হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৪:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • / 24
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ ৪০ বছরের ইমামতি ও ধর্মীয় সেবার অধ্যায়ের ইতি টানলেন ভবানন্দপুর সরকারপাড়া জামে মসজিদের প্রবীণ ইমাম কারী হামিদুর রহমান।

শনিবার (২০ জুন) আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় এই ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে বিদায় জানাতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত হয়ে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

১৯৮৬ সালে ভবানন্দপুর সরকারপাড়া জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন কারী হামিদুর রহমান। এরপর টানা চার দশক ধরে তিনি নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করে মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নেন। সময়ের পরিক্রমায় তিনি শুধু একজন ইমাম নন, বরং এলাকার মানুষের অভিভাবক, পরামর্শদাতা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য জানাজার নামাজ পরিচালনা করেছেন, নবজাতকের কানে আজান দিয়েছেন এবং মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে থেকেছেন। যেকোনো প্রয়োজনে, এমনকি গভীর রাতেও তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজে নৈতিকতা, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায়ও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয়রা বলেন, “কারী হামিদুর রহমান শুধু মসজিদের ইমাম ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো। তাঁর আন্তরিকতা, স্নেহ ও পরামর্শ আমাদের জীবনের নানা সময়ে পথ দেখিয়েছে। তাঁর বিদায়ে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”

অনুষ্ঠানে অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতার ভাষা। চার দশকের নিরলস সেবা ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এলাকাবাসী তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও শান্তিময় জীবন কামনা করেন।

বিদায়ের এই মুহূর্তে স্মৃতিময় হয়ে উঠেছে তাঁর চার দশকের বর্ণাঢ্য পথচলার অসংখ্য অধ্যায়, যা ভবানন্দপুর সরকারপাড়ার মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হরিপুরে অশ্রুসজল চোখে প্রিয় ইমামকে সম্মান জানালেন এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০৪:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

দীর্ঘ ৪০ বছরের ইমামতি ও ধর্মীয় সেবার অধ্যায়ের ইতি টানলেন ভবানন্দপুর সরকারপাড়া জামে মসজিদের প্রবীণ ইমাম কারী হামিদুর রহমান।

শনিবার (২০ জুন) আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় এই ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে বিদায় জানাতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত হয়ে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

১৯৮৬ সালে ভবানন্দপুর সরকারপাড়া জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন কারী হামিদুর রহমান। এরপর টানা চার দশক ধরে তিনি নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করে মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নেন। সময়ের পরিক্রমায় তিনি শুধু একজন ইমাম নন, বরং এলাকার মানুষের অভিভাবক, পরামর্শদাতা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য জানাজার নামাজ পরিচালনা করেছেন, নবজাতকের কানে আজান দিয়েছেন এবং মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে থেকেছেন। যেকোনো প্রয়োজনে, এমনকি গভীর রাতেও তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজে নৈতিকতা, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায়ও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয়রা বলেন, “কারী হামিদুর রহমান শুধু মসজিদের ইমাম ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো। তাঁর আন্তরিকতা, স্নেহ ও পরামর্শ আমাদের জীবনের নানা সময়ে পথ দেখিয়েছে। তাঁর বিদায়ে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”

অনুষ্ঠানে অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতার ভাষা। চার দশকের নিরলস সেবা ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এলাকাবাসী তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও শান্তিময় জীবন কামনা করেন।

বিদায়ের এই মুহূর্তে স্মৃতিময় হয়ে উঠেছে তাঁর চার দশকের বর্ণাঢ্য পথচলার অসংখ্য অধ্যায়, যা ভবানন্দপুর সরকারপাড়ার মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।