ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

চমেক অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হামলার ঘটনায় মামলা, আসামি অজ্ঞাতনামা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১০:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / 67
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিনিধি : 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বাইরের অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা, প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

ঘটনার ১৪ দিন পর আদালতের নির্দেশে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়। যেখানে আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জনকে ।

 

আজ সোববার (২২ জুন) পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ উদ্দিন সরদার বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন।

 

মামলায় কারো নাম উল্লেখ না করে চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতি ও সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স চালকদের মধ্যে জড়িত অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩৮৪, ৪২০ ও ৫০৬ ধারার পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪০/৯২(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) সোহেল পারভেজ।

 

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে চমেক হাসপাতালকেন্দ্রিক অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বাইরের বৈধ অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা, চালকদের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ উঠে আসে।

 

এই অবস্থায় ৮ জুন অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনারকে (এডিসি) সরেজমিন তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বেআইনি বাধা দেওয়ার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয় এতে।

 

এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনায় সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ভিডিওতে যাদের উপস্থিতি দেখা গেছে, তাদেরই মামলার আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে শনাক্ত করে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এদিকে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে — গত ৭ জুন বিকালে চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেটের ভেতরে এনসিপির একটি মানববন্ধন চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা দ্রুত সরে যায়। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আশিকুর রহমান আশিক, যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ চৌধুরী ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন মারুফসহ কয়েকজন আহত হন।

 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয় — চমেক হাসপাতাল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সক্রিয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করে আসছে। পাশাপাশি বাইরের বৈধ অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহনের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন সাধারণ মাইক্রোবাসে নীল বাতি এবং সাইরেন ব্যবহার করে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে চালিয়ে প্রতারণাও করা হচ্ছে।

 

মামলায় দুই ভুক্তভোগীর অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে। তাদের একজন মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন— তার বাবার মরদেহ চমেক হাসপাতাল থেকে ফটিকছড়িতে নিতে গিয়ে তাকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয় এবং অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য করা হয়। অপর ভুক্তভোগী মুজিবুর রহমান জীবন অভিযোগ করেন, চমেক হাসপাতাল থেকে মরদেহ পরিবহনের ক্ষেত্রে তাকে নির্ধারিত সিন্ডিকেটের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

 

ঘটনাগুলো ঘিরে চমেক হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবার নামে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও রোগী-স্বজনদের ভোগান্তির বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চমেক অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হামলার ঘটনায় মামলা, আসামি অজ্ঞাতনামা

আপডেট সময় : ১০:১০:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি : 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বাইরের অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা, প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

ঘটনার ১৪ দিন পর আদালতের নির্দেশে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়। যেখানে আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জনকে ।

 

আজ সোববার (২২ জুন) পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ উদ্দিন সরদার বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন।

 

মামলায় কারো নাম উল্লেখ না করে চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতি ও সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স চালকদের মধ্যে জড়িত অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩৮৪, ৪২০ ও ৫০৬ ধারার পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪০/৯২(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) সোহেল পারভেজ।

 

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে চমেক হাসপাতালকেন্দ্রিক অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বাইরের বৈধ অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা, চালকদের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ উঠে আসে।

 

এই অবস্থায় ৮ জুন অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনারকে (এডিসি) সরেজমিন তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বেআইনি বাধা দেওয়ার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয় এতে।

 

এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনায় সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ভিডিওতে যাদের উপস্থিতি দেখা গেছে, তাদেরই মামলার আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে শনাক্ত করে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এদিকে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে — গত ৭ জুন বিকালে চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেটের ভেতরে এনসিপির একটি মানববন্ধন চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা দ্রুত সরে যায়। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আশিকুর রহমান আশিক, যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ চৌধুরী ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন মারুফসহ কয়েকজন আহত হন।

 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয় — চমেক হাসপাতাল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সক্রিয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করে আসছে। পাশাপাশি বাইরের বৈধ অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহনের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন সাধারণ মাইক্রোবাসে নীল বাতি এবং সাইরেন ব্যবহার করে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে চালিয়ে প্রতারণাও করা হচ্ছে।

 

মামলায় দুই ভুক্তভোগীর অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে। তাদের একজন মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন— তার বাবার মরদেহ চমেক হাসপাতাল থেকে ফটিকছড়িতে নিতে গিয়ে তাকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয় এবং অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য করা হয়। অপর ভুক্তভোগী মুজিবুর রহমান জীবন অভিযোগ করেন, চমেক হাসপাতাল থেকে মরদেহ পরিবহনের ক্ষেত্রে তাকে নির্ধারিত সিন্ডিকেটের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

 

ঘটনাগুলো ঘিরে চমেক হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবার নামে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও রোগী-স্বজনদের ভোগান্তির বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।