গুণগুণ করে করে বেজে ওঠে শহীদ স্মৃতি অমর হোক
- আপডেট সময় : ০৬:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 103
শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড় ঘেঁষে আছে লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস। মিলটিতে আগের মতো নেই শ্রমিকদের ঘন পদাচারণ। তাঁতের খটখট ঝুমুর ঝুমুর ছন্দও নেই। ২০২০ সালের জুলাই মাসে উৎপাদন কার্যμম বন্ধ হয়ে গেছে। মিলটি বন্ধ হওয়ার পরে গাছগাছালি নিরাপদ বেড়ে উঠছে। গাছগুলিতে অনেক পাখপাখালিরও বেশ সমাগম ঘটেছে। জালালি কবুতর মিলটিতে আগে থেকেই স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছে। মানুষের আনাগোনা কমে যাওয়াতে কবুতরের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে এসেছে কটি বানর তারাও স্বাধীনভাবে এগাছ ওগাছে রাজকীয় হালে ঘোরাঘুরি নাচানাচি করে, মনে হয় সবকিছুই তাদের একক সত্তা। বসন্ত আগমনের বার্তা দিচ্ছে কদিন থেকে কোকিল কোকিলা। মিলের চার পাশের দেয়াল ঘেঁষে রয়েছে সারিবদ্ধ নারকেল গাছ। নারকেল গাছের মাঝে মাঝে অনেক গাছই দাঁড়িয়ে রয়েছে। মনে হয় যেনো এ সব গাছ মিলের নিরাপত্তা রক্ষীদের সাথে নিজেরাও পাহারাদারের কাজে নিয়োজিত আছে। সব গাছ ডিঙ্গিয়ে মিলের পূর্বপাশে শোভা বিলাচ্ছে একটি কৃষ্ণচুড়া গাছ। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরের মাঘ মাস শেষে হলে, এই ফেব্রুয়ারি মাসে কৃষ্ণচূড়ার ফুল ফুটে ভাষার মাস আগমনের জানান দিচ্ছে। বর্তমানে কৃষ্ণচূড়া গাছটি নিয়েই যেনো সকল পাখিদের আয়োজন। প্রতিদিন সকাল হতেই গাছটিতে নানা প্রজাতির পাখি, ভ্রমর ও মৌমাছিরা ব্যস্ত হয়ে উঠছে। সবাই যেনো ফুলে ফুলে বসে কানে কানে বলছে হে ফুল, সকল জানোতো তোমরা? তোমাদের গায়ের রং এতো উজ্জ্বল হওয়ার কারণ? ফুলগুলো পাখি ও মৌমাছিদের কানে কানে বলছে হ্যাঁ হ্যাঁ জানি। জানি বলেই তো আমরা ভাষা আন্দোলনে শহীদ ভাইদের প্রাণভরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ফুটেছি। তখন সকল পাখি ও মৌমাছির কণ্ঠে গুণগুণ করে করে বেজে ওঠে শহীদ স্মৃতি অমর হোক। বাংলা ভাষার বিস্তার হোক দেশ থেকে, দেশান্তর। তাদের সাথে ফুলগুলোও বলে আমাদের কেউ নষ্ট করবে না, আমরা এই ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বাংলা ভাষার বিজয় সৌরভ বিলিয়ে, শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঝরে চলে যাব আড়ালে। আর তোমরা উড়ে উড়ে বিভিনড়ব দেশে গিয়ে এই বাংলাভাষা অর্জনের রক্তিম ইতিহাস ভিনদেশিদের কাছে তুলে ধরবে। সেই সাথে বলবে রক্তে কেনা বাংলাভাষা বেঁচে থাকুক চিরকাল, শহীদ স্মৃতি বিস্তার হোক। অমর হোক রফিক, শফিক, বরকত, জব্বার।





























































