ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শেষ হলো অমর একুশে বইমেলা Logo নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকা বেশি নেয়ার সুযোগ নেই:সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী Logo পয়লা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo জ্বালানি তেলের রেশনিং সীমা তুলে নিয়েছে সরকার Logo ওয়াকআউট করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ Logo খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ Logo তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করতে পারেন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা Logo জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে পুলিশ Logo অযথা আতঙ্ক ও ভীতি সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে: শায়খ আহমাদুল্লাহ Logo আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

থানায় লাশ পুড়িয়ে রাতে বাইপাইল মসজিদের সামনে রেখে আসে : ট্রাইব্যুনালে ভাঙারি ব্যবসায়ী মতিবর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 89
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকার পতনের দিন গত বছরের ৫ আগস্ট বেলা ২টার পর ছাত্র-জনতা মিছিল বের করে। আশুলিয়ার থানার সামনে দিয়ে মিছিল যাওয়ার সময় পুলিশ গুলি করে। বিকেল সাড়ে ৪টার সময় পুলিশ-সেনাবাহিনীর গাড়ি দিয়ে গুলি করতে করতে চলে যায়। লাশগুলো থানার সামনে পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং কেউ রাতের বেলা বাইপাইল মসজিদের সামনে রেখে আসে। আমরা সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই জায়গাতেই থাকি। রাতে বাসায় চলে যাই।

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে আশুলিয়ায় গুলি করে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন ভাঙারি ব্যবসায়ী মতিবর রহমান ওরফে বুইদ্দা। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

মতিবর রহমান বলেন‐ গত বছরের ৬ আগস্ট দুপুর ১২টার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আসেন এবং বেলা ২টার সময় সেনাবাহিনী আসে। ৬টি লাশ গাড়ি থেকে বের করে পলিথিনে প্যাকেট করি এবং জানাজা পড়াই। ৪টি লাশের মোবাইল নম্বর পাওয়া যায় এবং তাঁদের অভিভাবকদেরকে ফোন করা হলে তাঁরা এসে লাশ নিয়ে যান। ২টি লাশের অভিভাবকদের পাওয়া যায়নি। ওই ২টি লাশ আমতলা কবরস্থানে দাফন করি। এক দিন পর আবুলের স্ত্রী হলুদ গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরা কোনো লাশ দাফন করেছি কি না, জিজ্ঞাসা করলে আমি বলি, হলুদ গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরা একটি লাশ পেয়েছি এবং দাফন করেছি।

এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া সপ্তম সাক্ষী ফল ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম তাঁর জবানবন্দিতে বলেন, ‘গত বছরের ৪ আগস্ট সকাল ১০-১১টার দিকে বাইপাইল থেকে পল্লী বিদ্যুতের দিকে মিছিল নিয়ে যাই। সেখানে যাওয়ার পর দেখি স্থানীয় এমপি সাইফুলের ক্যাডার বাহিনী অবস্থান করছে। তারা সেখান থেকে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে এবং বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। আমরা তখন বাইপাইলের দিকে ফেরত আসতে থাকি। তখন তারা আমাদের দিকে গুলি ছুড়তে থাকে। দুপুর ১২-১টা পর্যন্ত গুলি ছুড়তে থাকে। সেখানে একজন আন্দোলনকারী মারা যান এবং অনেকে আহত হন।

ফল ব্যবসায়ী শফিকুল আরও বলেন‐ গত বছরের ৫ আগস্ট আমরা বাইপাইল থেকে নবীনগরের দিকে যেতে থাকি। যাওয়ার পথে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এমপি সাইফুল তার সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নিয়ে অবস্থান করে।
এমপি সাইফুলের ক্যাডার বাহিনী ও পুলিশ একত্র হয়ে বাইপাইল এলাকায় এসে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে। তাতে প্রায় ২০-২৫ জন ছাত্র-জনতা নিহত হন এবং অনেকে আহত হন। সেখানে আমরা সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

থানায় লাশ পুড়িয়ে রাতে বাইপাইল মসজিদের সামনে রেখে আসে : ট্রাইব্যুনালে ভাঙারি ব্যবসায়ী মতিবর

আপডেট সময় : ০৫:০৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সরকার পতনের দিন গত বছরের ৫ আগস্ট বেলা ২টার পর ছাত্র-জনতা মিছিল বের করে। আশুলিয়ার থানার সামনে দিয়ে মিছিল যাওয়ার সময় পুলিশ গুলি করে। বিকেল সাড়ে ৪টার সময় পুলিশ-সেনাবাহিনীর গাড়ি দিয়ে গুলি করতে করতে চলে যায়। লাশগুলো থানার সামনে পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং কেউ রাতের বেলা বাইপাইল মসজিদের সামনে রেখে আসে। আমরা সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই জায়গাতেই থাকি। রাতে বাসায় চলে যাই।

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে আশুলিয়ায় গুলি করে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন ভাঙারি ব্যবসায়ী মতিবর রহমান ওরফে বুইদ্দা। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

মতিবর রহমান বলেন‐ গত বছরের ৬ আগস্ট দুপুর ১২টার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আসেন এবং বেলা ২টার সময় সেনাবাহিনী আসে। ৬টি লাশ গাড়ি থেকে বের করে পলিথিনে প্যাকেট করি এবং জানাজা পড়াই। ৪টি লাশের মোবাইল নম্বর পাওয়া যায় এবং তাঁদের অভিভাবকদেরকে ফোন করা হলে তাঁরা এসে লাশ নিয়ে যান। ২টি লাশের অভিভাবকদের পাওয়া যায়নি। ওই ২টি লাশ আমতলা কবরস্থানে দাফন করি। এক দিন পর আবুলের স্ত্রী হলুদ গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরা কোনো লাশ দাফন করেছি কি না, জিজ্ঞাসা করলে আমি বলি, হলুদ গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরা একটি লাশ পেয়েছি এবং দাফন করেছি।

এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া সপ্তম সাক্ষী ফল ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম তাঁর জবানবন্দিতে বলেন, ‘গত বছরের ৪ আগস্ট সকাল ১০-১১টার দিকে বাইপাইল থেকে পল্লী বিদ্যুতের দিকে মিছিল নিয়ে যাই। সেখানে যাওয়ার পর দেখি স্থানীয় এমপি সাইফুলের ক্যাডার বাহিনী অবস্থান করছে। তারা সেখান থেকে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে এবং বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। আমরা তখন বাইপাইলের দিকে ফেরত আসতে থাকি। তখন তারা আমাদের দিকে গুলি ছুড়তে থাকে। দুপুর ১২-১টা পর্যন্ত গুলি ছুড়তে থাকে। সেখানে একজন আন্দোলনকারী মারা যান এবং অনেকে আহত হন।

ফল ব্যবসায়ী শফিকুল আরও বলেন‐ গত বছরের ৫ আগস্ট আমরা বাইপাইল থেকে নবীনগরের দিকে যেতে থাকি। যাওয়ার পথে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এমপি সাইফুল তার সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নিয়ে অবস্থান করে।
এমপি সাইফুলের ক্যাডার বাহিনী ও পুলিশ একত্র হয়ে বাইপাইল এলাকায় এসে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে। তাতে প্রায় ২০-২৫ জন ছাত্র-জনতা নিহত হন এবং অনেকে আহত হন। সেখানে আমরা সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করি।