ঢাকা ০৯:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রত্যেক উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ বরাদ্দ   Logo হরমুজ এড়িয়ে সৌদি থেকে তেল নিয়ে চট্টগ্রাম আসছে জাহাজ Logo জ্বালানি সাশ্রয়ে বুধ-বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারকাজ চলবে ভার্চুয়ালি Logo এনসিপিতে যোগদানের হিড়িক Logo ৫ দফা দাবী সহ শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের মানববন্ধন কর্মসূচি Logo পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াবে বাংলাদেশ Logo পাম্প থেকে তেল নিতে অগ্রাধিকার চায় পুলিশ Logo খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পদক নিলেন জাইমা রহমান Logo ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর-এর মমতাময়ী মায়ের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে সরকার

শাড়ি বিতর্কের শেষ না হতেই প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ তিশার বিরুদ্ধে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / 63

তানজিন তিশা। ছবি: সংগৃহীত

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শাড়ি নিয়ে ফেরত না দেওয়ায় সম্প্রতি দুটি ফ্যাশন হাউস প্রতারণার অভিযোগ এনেছে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে। অভিযোগ গড়িয়েছে মামলা পর্যন্ত। শাড়ি বিতর্কের শেষ না হতেই ভারতীয় এক প্রযোজকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তিশার বিরুদ্ধে। কলকাতার সিনেমা ‌‘ভালোবাসার মরশুম’-এর প্রযোজক শরীফ খান অভিযোগ করেছেন, তাঁর প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিশা।

শরীফ খান অভিযোগে বলেন, ‘ভালোবাসার মরশুম সিনেমায় বলিউডের শরমন যোশি, কলকাতার সুস্মিতা আর বাংলাদেশের তানজিন তিশার অভিনয় করার কথা ছিল। আমি বাংলাদেশে গিয়ে তিশার সঙ্গে কথা বলে, তাঁর শিডিউল নিয়ে, ৩০ হাজার টাকা নগদ দিই এবং পরে তাঁর অ্যাকাউন্টে ৪ লাখ ১২ হাজার টাকা জমা দিই। আমি তাঁর শিডিউল অনুযায়ী প্রোডাকশন হাউসের পক্ষ থেকে ভিসার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করি। কিন্তু নির্দিষ্ট তারিখের দুই দিন আগে সে জানায়, ওই ডেটে ভিসার জন্য দাঁড়াতে পারবে না।

কারণ, সে আমেরিকা যাবে। আমি তাকে অনেকভাবে অনুরোধ করার পরও সে যখন রাজি হচ্ছিল না, আমি পুরো সিনেমার শিডিউল চেঞ্জ করি। নতুন করে যখন সব গুছিয়ে এনেছি, তিশা আমাকে ফোন করে জানায়, সে শাকিব খানের সিনেমাটি করছে, তাই এই সিনেমা আরও মাস দুয়েক পেছাতে হবে। আমি তখন তাকে বোঝালাম, বারবার তো শিডিউল বদলানো সম্ভব না। এরই মধ্যে অনেক টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে। কিন্তু সে তার কথাতে থাকল; আমি বাধ্য হয়ে তাকে বললাম, তাহলে তোমাকে আর সিনেমাটি করতে হবে না, তুমি বরং আমার টাকাটা ফেরত পাঠিয়ে দাও। কিন্তু সে টাকাটা পাঠায়নি।’

প্রযোজক জানিয়েছেন, একই সিনেমায় বাংলাদেশের খায়রুল বাশারও চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন, কিন্তু পরে চরিত্র ভালো না লাগায় তিনি নিজে থেকে সরে গিয়েছেন এবং কোনো রকম ঝামেলা না করে অ্যাডভান্স নেওয়া ২ লাখ টাকা ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তানজিন তিশা অ্যাডভান্স নেওয়া কোনো টাকাই ফেরত দেননি।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে তানজিন তিশা জানান, অভিযোগ পুরোই ভিত্তিহীন। বরং ওই প্রযোজক প্রায়ই গভীর রাতে তাঁকে কল দিয়ে বিরক্ত করতেন। তিশা বলেন, ‘আমাকে চুক্তির সময়ে এক-তৃতীয়াংশ টাকা দেওয়া হয়েছিল। শুটিংয়ের ভিসা পাওয়ার অপেক্ষায় দেড় মাস অন্য কোনো কাজ করিনি। চুক্তিতে স্পষ্ট লেখা, শুটিং বাতিল হলে এই অর্থ ফেরতযোগ্য নয়।’

তিশা আরও বলেন, ‘শরীফ নামে এক ব্যক্তি গভীর রাতে আমাকে ফোন করে কথা বলতে চেয়েছেন। এত রাতে কেন কথা বলব ? এটা পেশাদার আচরণ না। আমি দিনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। আর উনি যে এই সিনেমার প্রকৃত প্রযোজক, এরও কোনো প্রমাণ নেই। এর বেশি কিছু বলতে হলে আমার আইনজীবী বলবেন।’

তিশার আইনজীবী জসীম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী তিশা সব দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শিডিউল দিয়েছেন, কাজের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু পরিচালক ভিসা ও শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে পারেননি। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এ ব্যর্থতা পরিচালকের ডিফল্ট হিসেবে প্রমাণিত হয়। তিশার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অসহযোগিতা হয়নি। বরং শিডিউল নষ্ট হওয়ায় তিনিই সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শাড়ি বিতর্কের শেষ না হতেই প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ তিশার বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

শাড়ি নিয়ে ফেরত না দেওয়ায় সম্প্রতি দুটি ফ্যাশন হাউস প্রতারণার অভিযোগ এনেছে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে। অভিযোগ গড়িয়েছে মামলা পর্যন্ত। শাড়ি বিতর্কের শেষ না হতেই ভারতীয় এক প্রযোজকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তিশার বিরুদ্ধে। কলকাতার সিনেমা ‌‘ভালোবাসার মরশুম’-এর প্রযোজক শরীফ খান অভিযোগ করেছেন, তাঁর প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিশা।

শরীফ খান অভিযোগে বলেন, ‘ভালোবাসার মরশুম সিনেমায় বলিউডের শরমন যোশি, কলকাতার সুস্মিতা আর বাংলাদেশের তানজিন তিশার অভিনয় করার কথা ছিল। আমি বাংলাদেশে গিয়ে তিশার সঙ্গে কথা বলে, তাঁর শিডিউল নিয়ে, ৩০ হাজার টাকা নগদ দিই এবং পরে তাঁর অ্যাকাউন্টে ৪ লাখ ১২ হাজার টাকা জমা দিই। আমি তাঁর শিডিউল অনুযায়ী প্রোডাকশন হাউসের পক্ষ থেকে ভিসার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করি। কিন্তু নির্দিষ্ট তারিখের দুই দিন আগে সে জানায়, ওই ডেটে ভিসার জন্য দাঁড়াতে পারবে না।

কারণ, সে আমেরিকা যাবে। আমি তাকে অনেকভাবে অনুরোধ করার পরও সে যখন রাজি হচ্ছিল না, আমি পুরো সিনেমার শিডিউল চেঞ্জ করি। নতুন করে যখন সব গুছিয়ে এনেছি, তিশা আমাকে ফোন করে জানায়, সে শাকিব খানের সিনেমাটি করছে, তাই এই সিনেমা আরও মাস দুয়েক পেছাতে হবে। আমি তখন তাকে বোঝালাম, বারবার তো শিডিউল বদলানো সম্ভব না। এরই মধ্যে অনেক টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে। কিন্তু সে তার কথাতে থাকল; আমি বাধ্য হয়ে তাকে বললাম, তাহলে তোমাকে আর সিনেমাটি করতে হবে না, তুমি বরং আমার টাকাটা ফেরত পাঠিয়ে দাও। কিন্তু সে টাকাটা পাঠায়নি।’

প্রযোজক জানিয়েছেন, একই সিনেমায় বাংলাদেশের খায়রুল বাশারও চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন, কিন্তু পরে চরিত্র ভালো না লাগায় তিনি নিজে থেকে সরে গিয়েছেন এবং কোনো রকম ঝামেলা না করে অ্যাডভান্স নেওয়া ২ লাখ টাকা ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তানজিন তিশা অ্যাডভান্স নেওয়া কোনো টাকাই ফেরত দেননি।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে তানজিন তিশা জানান, অভিযোগ পুরোই ভিত্তিহীন। বরং ওই প্রযোজক প্রায়ই গভীর রাতে তাঁকে কল দিয়ে বিরক্ত করতেন। তিশা বলেন, ‘আমাকে চুক্তির সময়ে এক-তৃতীয়াংশ টাকা দেওয়া হয়েছিল। শুটিংয়ের ভিসা পাওয়ার অপেক্ষায় দেড় মাস অন্য কোনো কাজ করিনি। চুক্তিতে স্পষ্ট লেখা, শুটিং বাতিল হলে এই অর্থ ফেরতযোগ্য নয়।’

তিশা আরও বলেন, ‘শরীফ নামে এক ব্যক্তি গভীর রাতে আমাকে ফোন করে কথা বলতে চেয়েছেন। এত রাতে কেন কথা বলব ? এটা পেশাদার আচরণ না। আমি দিনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। আর উনি যে এই সিনেমার প্রকৃত প্রযোজক, এরও কোনো প্রমাণ নেই। এর বেশি কিছু বলতে হলে আমার আইনজীবী বলবেন।’

তিশার আইনজীবী জসীম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী তিশা সব দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শিডিউল দিয়েছেন, কাজের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু পরিচালক ভিসা ও শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে পারেননি। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এ ব্যর্থতা পরিচালকের ডিফল্ট হিসেবে প্রমাণিত হয়। তিশার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অসহযোগিতা হয়নি। বরং শিডিউল নষ্ট হওয়ায় তিনিই সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’