ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

দৈনন্দিন জীবনে সংযম ও ধৈর্যের বাস্তব আমল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 166
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা, বিরক্তি ও টেনশনের মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। এসব বিরক্তির সূচনা হয় একেবারে বাসা-বাড়ি থেকে বের হতেই। ধরুন সকালে বের হয়ে ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়লেন, কেউ ৫ মিনিটের কথা বলে ৩০ মিনিট অপেক্ষায় রাখলো, অফিসে হঠাৎসহকর্মী খারাপ ব্যবহার করে বসলো, বাড়িতে ছোটখাটো বিষয়ে ঝগড়া হলো, দোকানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো দীর্ঘ সময়, একটু পর পর ইন্টারনেট স্লো হলো। খালি চোখে এসব সামান্য বিষয় মনে হলেও এর মাধ্যমে আমাদের ধৈর্য ও ধৈর্যের পরীক্ষা চলে। 

এই ছোট অসুবিধাগুলোতে  অস্থির হয়ে রেগে গেলে বড় বিপদে ধৈর্যধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। ইসলাম এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকেই ধৈর্য ও সংযমের সর্বোত্তম অনুশীলনের সুযোগ হিসেবে দেখে।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের সাহায্য গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৩)

এই আয়াতের ব্যাপকতা আমাদের শিক্ষা দেয়, বড় ধরনের বিপদাপদ ছাড়াও  দৈনন্দিন ছোটখাটো বিপদ ও অসুবিধায় ধৈর্যধারণ করতে হয়। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)  বলেন, ‘যে মুমিন মানুষের সাথে মিশে এবং তাদের বিরক্তি সহ্য করে, তার প্রতিদান তার চেয়ে বেশি যে মানুষের সাথে মিশে না এবং তাদের বিরক্তি সহ্য করে না।’ (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০৩২)

এই হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, দৈনন্দিন জীবনে মানুষের খারাপ ব্যবহার, অসুবিধা বা বিরক্তি সহ্য করাই সবচেয়ে বড় প্রতিদানের কারণ।

আরও একটি মূল্যবান হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলিমের ওপর কোনো ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, দুঃখ, কষ্ট, মানসিক অস্থিরতা এমনকি কাঁটার আঁচড়ও লাগে না, কিন্তু আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন তার ধৈর্যের কারণে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৪১)

এখানে ‘কাঁটার আঁচড়’-এর কথা বলা হয়েছে। যা সবচেয়ে ছোট কষ্ট বা অসুবিধা, তাও গুনাহ মাফের কারণ হয়ে যদি ধৈর্য ধারণ করা হয়। এতে আমাদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, দৈনন্দিন সামান্য ঝামেলাগুলোই আসলে আল্লাহর কাছে বড় মর্যাদা ও প্রতিদানের সুযোগ তৈরি করে।

দৈনন্দিন সমস্যায় নবীজির (সা.) ধৈর্যধারণ

আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল নবীজির (সা.) পথে আবর্জনা ফেলে দিতেন তাকে বিরক্ত করার জন্য। নবীজি (সা.) কখনো রাগ করেননি, অভিযোগ করেননি বা প্রতিশোধ নেননি। (তাফসীরে তাবারী, সুরা লাহাব)

দৈনন্দিন জীবনে সংযম ও ধৈর্যের বাস্তব আমল  

সামান্য অসুবিধায় ধৈর্যের জন্য ব্যবহারিক পদ্ধতি শিখিয়েছে ইসলাম। যেমন —

  • রাগের সময় চুপ থাকা। নবীজি (সা.) বলেন, ‘রাগ হলে চুপ করে থাকো।’ ( মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৪৭৮৬)
  • ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পড়া।
  • অজু করে নেওয়া, কারণ রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে এবং শয়তান আগুন থেকে সৃষ্ট।

ছোটখাটো অসুবিধায় ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বলে আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া। এসব আমল দৈনন্দিন জীবনকে শান্তিময় করে তোলে এবং আল্লাহর নৈকট্য বাড়ায়।

দৈনন্দিন ছোট ছোট সমস্যায় ধৈর্যের ফল

আমরা যখন ট্রাফিক জ্যামে ধৈর্য ধরি, কারো খারাপ কথায় সংযম রাখি, অপেক্ষায় অস্থিরতা প্রকাশ না করি, তখন আল্লাহ আমাদের গুনাহ মাফ করেন, প্রতিদান দেন এবং হৃদয়কে প্রশান্তি করেন। এটি আমাদের চরিত্রকে মজবুত করে, সম্পর্ককে সুন্দর করে এবং জীবনকে সহজ করে।

ব্যস্ততা ও উত্তেজনাপূর্ণ ছোট ছোট অসুবিধা আমাদের ঈমানের প্রকৃত পরীক্ষা। ইসলাম আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সত্যিকারের ধৈর্য ও সংযম এই ছোট মুহূর্তগুলোতেই প্রকাশ পায়। যদি আমরা এতে অটল থাকি, আল্লাহ আমাদের সাথে থাকবেন এবং প্রতিদান অপরিসীম হবে।

নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের সাথে আল্লাহ আছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দৈনন্দিন জীবনে সংযম ও ধৈর্যের বাস্তব আমল

আপডেট সময় : ০৭:১৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা, বিরক্তি ও টেনশনের মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। এসব বিরক্তির সূচনা হয় একেবারে বাসা-বাড়ি থেকে বের হতেই। ধরুন সকালে বের হয়ে ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়লেন, কেউ ৫ মিনিটের কথা বলে ৩০ মিনিট অপেক্ষায় রাখলো, অফিসে হঠাৎসহকর্মী খারাপ ব্যবহার করে বসলো, বাড়িতে ছোটখাটো বিষয়ে ঝগড়া হলো, দোকানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো দীর্ঘ সময়, একটু পর পর ইন্টারনেট স্লো হলো। খালি চোখে এসব সামান্য বিষয় মনে হলেও এর মাধ্যমে আমাদের ধৈর্য ও ধৈর্যের পরীক্ষা চলে। 

এই ছোট অসুবিধাগুলোতে  অস্থির হয়ে রেগে গেলে বড় বিপদে ধৈর্যধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। ইসলাম এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকেই ধৈর্য ও সংযমের সর্বোত্তম অনুশীলনের সুযোগ হিসেবে দেখে।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের সাহায্য গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৩)

এই আয়াতের ব্যাপকতা আমাদের শিক্ষা দেয়, বড় ধরনের বিপদাপদ ছাড়াও  দৈনন্দিন ছোটখাটো বিপদ ও অসুবিধায় ধৈর্যধারণ করতে হয়। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)  বলেন, ‘যে মুমিন মানুষের সাথে মিশে এবং তাদের বিরক্তি সহ্য করে, তার প্রতিদান তার চেয়ে বেশি যে মানুষের সাথে মিশে না এবং তাদের বিরক্তি সহ্য করে না।’ (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০৩২)

এই হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, দৈনন্দিন জীবনে মানুষের খারাপ ব্যবহার, অসুবিধা বা বিরক্তি সহ্য করাই সবচেয়ে বড় প্রতিদানের কারণ।

আরও একটি মূল্যবান হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলিমের ওপর কোনো ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, দুঃখ, কষ্ট, মানসিক অস্থিরতা এমনকি কাঁটার আঁচড়ও লাগে না, কিন্তু আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন তার ধৈর্যের কারণে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৪১)

এখানে ‘কাঁটার আঁচড়’-এর কথা বলা হয়েছে। যা সবচেয়ে ছোট কষ্ট বা অসুবিধা, তাও গুনাহ মাফের কারণ হয়ে যদি ধৈর্য ধারণ করা হয়। এতে আমাদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, দৈনন্দিন সামান্য ঝামেলাগুলোই আসলে আল্লাহর কাছে বড় মর্যাদা ও প্রতিদানের সুযোগ তৈরি করে।

দৈনন্দিন সমস্যায় নবীজির (সা.) ধৈর্যধারণ

আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল নবীজির (সা.) পথে আবর্জনা ফেলে দিতেন তাকে বিরক্ত করার জন্য। নবীজি (সা.) কখনো রাগ করেননি, অভিযোগ করেননি বা প্রতিশোধ নেননি। (তাফসীরে তাবারী, সুরা লাহাব)

দৈনন্দিন জীবনে সংযম ও ধৈর্যের বাস্তব আমল  

সামান্য অসুবিধায় ধৈর্যের জন্য ব্যবহারিক পদ্ধতি শিখিয়েছে ইসলাম। যেমন —

  • রাগের সময় চুপ থাকা। নবীজি (সা.) বলেন, ‘রাগ হলে চুপ করে থাকো।’ ( মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৪৭৮৬)
  • ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পড়া।
  • অজু করে নেওয়া, কারণ রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে এবং শয়তান আগুন থেকে সৃষ্ট।

ছোটখাটো অসুবিধায় ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বলে আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া। এসব আমল দৈনন্দিন জীবনকে শান্তিময় করে তোলে এবং আল্লাহর নৈকট্য বাড়ায়।

দৈনন্দিন ছোট ছোট সমস্যায় ধৈর্যের ফল

আমরা যখন ট্রাফিক জ্যামে ধৈর্য ধরি, কারো খারাপ কথায় সংযম রাখি, অপেক্ষায় অস্থিরতা প্রকাশ না করি, তখন আল্লাহ আমাদের গুনাহ মাফ করেন, প্রতিদান দেন এবং হৃদয়কে প্রশান্তি করেন। এটি আমাদের চরিত্রকে মজবুত করে, সম্পর্ককে সুন্দর করে এবং জীবনকে সহজ করে।

ব্যস্ততা ও উত্তেজনাপূর্ণ ছোট ছোট অসুবিধা আমাদের ঈমানের প্রকৃত পরীক্ষা। ইসলাম আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সত্যিকারের ধৈর্য ও সংযম এই ছোট মুহূর্তগুলোতেই প্রকাশ পায়। যদি আমরা এতে অটল থাকি, আল্লাহ আমাদের সাথে থাকবেন এবং প্রতিদান অপরিসীম হবে।

নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের সাথে আল্লাহ আছেন।