ঢাকা ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

পবিত্র মাহে রমাজান: রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস — যে মাসে ক্ষমা না পাওয়া মহা বঞ্চনা

মোঃ আইনুল ইসলাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 158
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রতিবেদন: মোঃ আইনুল ইসলাম
দিনাজপুর প্রতিনিধি, দেশবর্ণ নিউজ।

 

দেশবর্ণ নিউজ পরিবারের পক্ষ থেকে সকল পাঠক, শুভানুধ্যায়ী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে জানাই পবিত্র মাহে রমাজানের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। এই বরকতময় মাস আমাদের ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণ বয়ে আনুক।

আলহামদুলিল্লাহ, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আবারও আমাদের মাঝে সমাগত পবিত্র মাহে রমজান। এটি শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি মানব আত্মার পুনঃ আত্মশুদ্ধির মাস, নৈতিক বিপ্লবের মাস এবং চূড়ান্ত সফলতার প্রশিক্ষণকাল।

📖 রমাজানের ফরজ বিধান ও উদ্দেশ্য
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন—
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।”
— সূরা আল-বাকারা ২:১৮৩
আরও বলেন—
“রমাজান মাস, যাতে নাযিল হয়েছে কুরআন; যা মানুষের জন্য হিদায়াত।”
— সূরা আল-বাকারা ২:১৮৫

অতএব, রমাজানের প্রধান লক্ষ্য হলো তাকওয়া অর্জন এবং কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা।

ইহকালীন উপকারিতা:
১️⃣ আত্মসংযম ও চরিত্র গঠন
রোজা মানুষকে ধৈর্যশীল ও নৈতিক করে তোলে।
রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন—
“যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কাজ ত্যাগ করে না, তার খাদ্য ও পানীয় ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।”
— সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯০৩

২️⃣ সামাজিক সহমর্মিতা:
ক্ষুধা মানুষকে দরিদ্রের কষ্ট উপলব্ধি করতে শেখায়। ফলে দান-সদকা বৃদ্ধি পায়।

৩️⃣ আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি:
রমজান আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, মনকে স্থির করে এবং আল্লাহর নৈকট্য এনে দেয়।

পরকালীন মহাপ্রাপ্তি:
১️⃣ গুনাহ মাফের ঘোষণা
রাসূল (স.) বলেন—
“যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”
— সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭৬০

২️⃣ জান্নাতের বিশেষ দরজা:
“জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি দরজা আছে; শুধুমাত্র রোজাদাররাই সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে।”
— সহিহ বুখারি, হাদিস ১৮৯৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৫২

৩️⃣ শবে কদরের মহিমা
“শবে কদর হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।”
— সূরা আল-কদর ৯৭:৩

⚠️ যে তিন ব্যক্তি চরম হতভাগা — নবীজির সতর্কবার্তা
রাসূলুল্লাহ (স.) একবার মিম্বরে উঠার সময় তিনবার “আমীন” বলেন। সাহাবীগণ কারণ জিজ্ঞেস করলে, উত্তরে রসুল (সঃ) বলেন—
এই মাত্র জিবরাইল (আ.) আমাকে জানালেন যে, আল্লাহ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে,
১.“ধ্বংস তার জন্য, যে রমাজান মাস পেল অথচ তার গুনাহ ক্ষমা করাতে পারল না।”

২.“ধ্বংস তার জন্য, যে তার পিতা-মাতার একজন বা উভয়কে বৃদ্ধাবস্থায় পেল অথচ তাদের খেদমতের মাধ্যমে জান্নাত অর্জন করতে পারল না।”

৩.“ধ্বংস তার জন্য, যার কাছে আপনার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে দরূদ পাঠ করল না।”
রাসূল (স.) প্রত্যেক দোয়ার পর বলেন “আমীন”।
— সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৯০৭; মুসনাদ আহমদ, হাদিস ৭৪৫১ (সহীহ সনদ)

এই হাদিস প্রমাণ করে—
রমাজান হলো এমন এক সুবর্ণ সুযোগ, যা হারানো মানে আধ্যাতিক দেউলিয়াত্ব।

⚠️ ইচ্ছাকৃত রোজা ত্যাগের ভয়াবহতা:
রমাজানের রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। বৈধ কারণ ছাড়া তা ত্যাগ করা কবীরা গুনাহ।

রাসূল (স.) বলেন—
“যে ব্যক্তি রমজানের একটি রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে ভঙ্গ করে (বৈধ কারণ ছাড়া), সারা জীবন রোজা রাখলেও সে তার একটি রোজার সমপরিমাণ সওয়াব পূরণ করতে পারবে না।”
— সুনান আবু দাউদ, হাদিস ২৩৯৬ (হাসান)

🕌 রমাজান: দুর্নীতিমুক্ত আত্মার প্রশিক্ষণকাল:
রমজান ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র— সর্ব স্তরে নৈতিক সংস্কারের শিক্ষা দেয়। যদি রোজা আমাদের মিথ্যা, দুর্নীতি, ঘুষ ও অন্যায় থেকে বিরত না রাখে, তবে রোজার প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয় না।

রমাজান হলো আত্মপরিবর্তনের কর্মসূচি—
১.কুরআনের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করা,
২.তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ বৃদ্ধি
৩.দান-সদকা বৃদ্ধি
৪.পিতা-মাতার খেদমত,
৫.সামাজিক ন্যায়বোধ জাগ্রত করা

📌 উপসংহার:
রমাজান কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণার নাম নয়; এটি আল্লাহর দরবারে ফিরে যাওয়ার আহ্বান। যে ব্যক্তি এই মাসে ক্ষমা পায়, সে সফল।
আর যে ব্যক্তি এই মহামূল্যবান সময় পেয়েও ক্ষমা অর্জন করতে পারে না—তার মতো হতভাগা আর কেউ নেই।

আসুন, আমরা সংকল্প করি—
এই রমাজান হবে আমাদের জীবনের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের সূচনা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমাজানের সিয়াম ও কিয়াম সঠিক ভাবে পালন করে তা কবুল যোগ্য করে তোলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পবিত্র মাহে রমাজান: রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস — যে মাসে ক্ষমা না পাওয়া মহা বঞ্চনা

আপডেট সময় : ১১:৫৯:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রতিবেদন: মোঃ আইনুল ইসলাম
দিনাজপুর প্রতিনিধি, দেশবর্ণ নিউজ।

 

দেশবর্ণ নিউজ পরিবারের পক্ষ থেকে সকল পাঠক, শুভানুধ্যায়ী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে জানাই পবিত্র মাহে রমাজানের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। এই বরকতময় মাস আমাদের ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণ বয়ে আনুক।

আলহামদুলিল্লাহ, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আবারও আমাদের মাঝে সমাগত পবিত্র মাহে রমজান। এটি শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি মানব আত্মার পুনঃ আত্মশুদ্ধির মাস, নৈতিক বিপ্লবের মাস এবং চূড়ান্ত সফলতার প্রশিক্ষণকাল।

📖 রমাজানের ফরজ বিধান ও উদ্দেশ্য
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন—
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।”
— সূরা আল-বাকারা ২:১৮৩
আরও বলেন—
“রমাজান মাস, যাতে নাযিল হয়েছে কুরআন; যা মানুষের জন্য হিদায়াত।”
— সূরা আল-বাকারা ২:১৮৫

অতএব, রমাজানের প্রধান লক্ষ্য হলো তাকওয়া অর্জন এবং কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা।

ইহকালীন উপকারিতা:
১️⃣ আত্মসংযম ও চরিত্র গঠন
রোজা মানুষকে ধৈর্যশীল ও নৈতিক করে তোলে।
রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন—
“যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কাজ ত্যাগ করে না, তার খাদ্য ও পানীয় ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।”
— সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯০৩

২️⃣ সামাজিক সহমর্মিতা:
ক্ষুধা মানুষকে দরিদ্রের কষ্ট উপলব্ধি করতে শেখায়। ফলে দান-সদকা বৃদ্ধি পায়।

৩️⃣ আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি:
রমজান আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, মনকে স্থির করে এবং আল্লাহর নৈকট্য এনে দেয়।

পরকালীন মহাপ্রাপ্তি:
১️⃣ গুনাহ মাফের ঘোষণা
রাসূল (স.) বলেন—
“যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”
— সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭৬০

২️⃣ জান্নাতের বিশেষ দরজা:
“জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি দরজা আছে; শুধুমাত্র রোজাদাররাই সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে।”
— সহিহ বুখারি, হাদিস ১৮৯৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৫২

৩️⃣ শবে কদরের মহিমা
“শবে কদর হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।”
— সূরা আল-কদর ৯৭:৩

⚠️ যে তিন ব্যক্তি চরম হতভাগা — নবীজির সতর্কবার্তা
রাসূলুল্লাহ (স.) একবার মিম্বরে উঠার সময় তিনবার “আমীন” বলেন। সাহাবীগণ কারণ জিজ্ঞেস করলে, উত্তরে রসুল (সঃ) বলেন—
এই মাত্র জিবরাইল (আ.) আমাকে জানালেন যে, আল্লাহ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে,
১.“ধ্বংস তার জন্য, যে রমাজান মাস পেল অথচ তার গুনাহ ক্ষমা করাতে পারল না।”

২.“ধ্বংস তার জন্য, যে তার পিতা-মাতার একজন বা উভয়কে বৃদ্ধাবস্থায় পেল অথচ তাদের খেদমতের মাধ্যমে জান্নাত অর্জন করতে পারল না।”

৩.“ধ্বংস তার জন্য, যার কাছে আপনার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে দরূদ পাঠ করল না।”
রাসূল (স.) প্রত্যেক দোয়ার পর বলেন “আমীন”।
— সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৯০৭; মুসনাদ আহমদ, হাদিস ৭৪৫১ (সহীহ সনদ)

এই হাদিস প্রমাণ করে—
রমাজান হলো এমন এক সুবর্ণ সুযোগ, যা হারানো মানে আধ্যাতিক দেউলিয়াত্ব।

⚠️ ইচ্ছাকৃত রোজা ত্যাগের ভয়াবহতা:
রমাজানের রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। বৈধ কারণ ছাড়া তা ত্যাগ করা কবীরা গুনাহ।

রাসূল (স.) বলেন—
“যে ব্যক্তি রমজানের একটি রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে ভঙ্গ করে (বৈধ কারণ ছাড়া), সারা জীবন রোজা রাখলেও সে তার একটি রোজার সমপরিমাণ সওয়াব পূরণ করতে পারবে না।”
— সুনান আবু দাউদ, হাদিস ২৩৯৬ (হাসান)

🕌 রমাজান: দুর্নীতিমুক্ত আত্মার প্রশিক্ষণকাল:
রমজান ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র— সর্ব স্তরে নৈতিক সংস্কারের শিক্ষা দেয়। যদি রোজা আমাদের মিথ্যা, দুর্নীতি, ঘুষ ও অন্যায় থেকে বিরত না রাখে, তবে রোজার প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয় না।

রমাজান হলো আত্মপরিবর্তনের কর্মসূচি—
১.কুরআনের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করা,
২.তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ বৃদ্ধি
৩.দান-সদকা বৃদ্ধি
৪.পিতা-মাতার খেদমত,
৫.সামাজিক ন্যায়বোধ জাগ্রত করা

📌 উপসংহার:
রমাজান কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণার নাম নয়; এটি আল্লাহর দরবারে ফিরে যাওয়ার আহ্বান। যে ব্যক্তি এই মাসে ক্ষমা পায়, সে সফল।
আর যে ব্যক্তি এই মহামূল্যবান সময় পেয়েও ক্ষমা অর্জন করতে পারে না—তার মতো হতভাগা আর কেউ নেই।

আসুন, আমরা সংকল্প করি—
এই রমাজান হবে আমাদের জীবনের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের সূচনা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমাজানের সিয়াম ও কিয়াম সঠিক ভাবে পালন করে তা কবুল যোগ্য করে তোলার তাওফিক দান করুন। আমিন।