ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রয়োজনে আপন, স্বার্থ শেষেই অচেনা—নীরব মানুষের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাস্তব চরিত্র

মোঃ আইনুল ইসলাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৯:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • / ৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ আইনুল ইসলাম
দিনাজপুর প্রতিনিধি,দেশবর্ণ নিউজ।

 

ডিজিটাল যুগে যোগাযোগ এখন হাতের মুঠোয়। একটি মেসেজ, একটি ফোন কল—মুহূর্তেই মানুষের সাথে যোগাযোগ সম্ভব। কিন্তু প্রযুক্তির এই সহজতার মাঝেও সমাজে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সৌজন্য, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ।

বর্তমান বাস্তবতায় প্রায়ই দেখা যায়—অনেক মানুষ মেসেজ পাঠালে সেটি পড়েও কোনো উত্তর দেয় না। ফোন দিলে রিসিভ করে না, এমনকি পরে সময় পাওয়ার পরও ভদ্রতা বা সম্মানের খাতিরে একটি ফোন ব্যাক করার ন্যূনতম সৌজন্যটুকুও দেখায় না।
প্রশ্ন হলো—এই নীরবতার পেছনে কী লুকিয়ে আছে?

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, এদের একটি বড় অংশ হচ্ছে স্বার্থকেন্দ্রিক বা সুবিধাভোগী মানসিকতার মানুষ। প্রয়োজনের সময় তারা ঘনিষ্ঠতা দেখায়, মিষ্টি কথা বলে, সম্পর্ক গড়ে তোলে। কিন্তু যখন সেই স্বার্থে সামান্য ব্যাঘাত ঘটে বা কাজ শেষ হয়ে যায়—তখন তারা নীরব হয়ে যায়, ধীরে ধীরে দূরে সরে পড়ে।

এই ধরনের মানুষকে অনেকেই একটি প্রবাদ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন—
“যেদিকে বৃষ্টি পড়ে, সেদিকেই ছাতা মেলে ধরে।” অর্থাৎ সুবিধা যেখানে, সম্পর্কও সেখানে। আরেকটি পরিচিত উপমা হলো—“গোল আলু”। যেমন গোল আলু প্রায় সব তরকারিতেই মানিয়ে যায়, তেমনি এই ধরনের মানুষও সবার সাথে মিশতে পারে, সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতে পারে। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে ব্যক্তিগত স্বার্থের হিসাব।

তাদের কথাবার্তা, আচরণ ও মিশুক স্বভাব দেখে অনেকেই প্রথমে বিভ্রান্ত হন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বোঝা যায়—তাদের সম্পর্কের ভিতটা আসলে স্বার্থের উপর দাঁড়িয়ে আছে, সৌজন্যের উপর নয়। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, মানুষের প্রকৃত চরিত্র বড় বড় কথায় নয়, বরং ছোট ছোট আচরণে প্রকাশ পায়—একটি মেসেজের উত্তর, একটি ফোন ব্যাক, অথবা একটি ছোট্ট সৌজন্যমূলক প্রতিক্রিয়া।
এই সামান্য বিষয়গুলোই মানুষকে বড় করে তোলে।

তাই সচেতন মানুষদের উচিত—বাহ্যিক হাসি বা মিষ্টি কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে মানুষের আচরণ, দায়িত্ববোধ ও সৌজন্যবোধ দেখে তাকে মূল্যায়ন করা। কারণ শেষ পর্যন্ত একটি সত্য সবসময় স্পষ্ট হয়ে যায়—মানুষের পরিচয় তার কথায় নয়, তার আচরণেই প্রকাশ পায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রয়োজনে আপন, স্বার্থ শেষেই অচেনা—নীরব মানুষের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাস্তব চরিত্র

আপডেট সময় : ০১:০৯:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

মোঃ আইনুল ইসলাম
দিনাজপুর প্রতিনিধি,দেশবর্ণ নিউজ।

 

ডিজিটাল যুগে যোগাযোগ এখন হাতের মুঠোয়। একটি মেসেজ, একটি ফোন কল—মুহূর্তেই মানুষের সাথে যোগাযোগ সম্ভব। কিন্তু প্রযুক্তির এই সহজতার মাঝেও সমাজে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সৌজন্য, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ।

বর্তমান বাস্তবতায় প্রায়ই দেখা যায়—অনেক মানুষ মেসেজ পাঠালে সেটি পড়েও কোনো উত্তর দেয় না। ফোন দিলে রিসিভ করে না, এমনকি পরে সময় পাওয়ার পরও ভদ্রতা বা সম্মানের খাতিরে একটি ফোন ব্যাক করার ন্যূনতম সৌজন্যটুকুও দেখায় না।
প্রশ্ন হলো—এই নীরবতার পেছনে কী লুকিয়ে আছে?

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, এদের একটি বড় অংশ হচ্ছে স্বার্থকেন্দ্রিক বা সুবিধাভোগী মানসিকতার মানুষ। প্রয়োজনের সময় তারা ঘনিষ্ঠতা দেখায়, মিষ্টি কথা বলে, সম্পর্ক গড়ে তোলে। কিন্তু যখন সেই স্বার্থে সামান্য ব্যাঘাত ঘটে বা কাজ শেষ হয়ে যায়—তখন তারা নীরব হয়ে যায়, ধীরে ধীরে দূরে সরে পড়ে।

এই ধরনের মানুষকে অনেকেই একটি প্রবাদ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন—
“যেদিকে বৃষ্টি পড়ে, সেদিকেই ছাতা মেলে ধরে।” অর্থাৎ সুবিধা যেখানে, সম্পর্কও সেখানে। আরেকটি পরিচিত উপমা হলো—“গোল আলু”। যেমন গোল আলু প্রায় সব তরকারিতেই মানিয়ে যায়, তেমনি এই ধরনের মানুষও সবার সাথে মিশতে পারে, সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতে পারে। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে ব্যক্তিগত স্বার্থের হিসাব।

তাদের কথাবার্তা, আচরণ ও মিশুক স্বভাব দেখে অনেকেই প্রথমে বিভ্রান্ত হন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বোঝা যায়—তাদের সম্পর্কের ভিতটা আসলে স্বার্থের উপর দাঁড়িয়ে আছে, সৌজন্যের উপর নয়। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, মানুষের প্রকৃত চরিত্র বড় বড় কথায় নয়, বরং ছোট ছোট আচরণে প্রকাশ পায়—একটি মেসেজের উত্তর, একটি ফোন ব্যাক, অথবা একটি ছোট্ট সৌজন্যমূলক প্রতিক্রিয়া।
এই সামান্য বিষয়গুলোই মানুষকে বড় করে তোলে।

তাই সচেতন মানুষদের উচিত—বাহ্যিক হাসি বা মিষ্টি কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে মানুষের আচরণ, দায়িত্ববোধ ও সৌজন্যবোধ দেখে তাকে মূল্যায়ন করা। কারণ শেষ পর্যন্ত একটি সত্য সবসময় স্পষ্ট হয়ে যায়—মানুষের পরিচয় তার কথায় নয়, তার আচরণেই প্রকাশ পায়।