নতুন পরিকল্পনা- চক-ডাস্টারের পরিবর্তে এআই চালুর প্রস্তাব
- আপডেট সময় : ১২:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
- / ৫০৮ বার পড়া হয়েছে
প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে শিক্ষা প্রশাসন। পাঠ্যবইনির্ভর প্রচলিত শ্রেণিকক্ষের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়কে গুরুত্ব দিতে ৯০ দিনের স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নতুন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন শিক্ষা প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) গেলে কর্মকর্তারা তার সামনে আগামী ৯০ দিনের উচ্চাভিলাষী স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার থেকে শুরু করে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার মতো প্রায় ৫০টি উদ্যোগ স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি আরও পরিকল্পনার কথাও মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে, যা ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এই রোডম্যাপের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে একটি জাতীয় শিক্ষা টিভি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত ও সহজ করতে এআইচালিত ভার্চুয়াল সেবাকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান নিশ্চিত করতে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াইফাই এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালু এবং মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও ৯০ দিনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ‘সর্বজনীন বদলি’ প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি স্কুলে শিক্ষক ও কর্মচারীদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনাও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধ এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় জেলা পর্যায়ে বিশেষ সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জিপিএ-নির্ভর পড়াশোনার পরিবর্তে মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক বি এম আবদুল হান্নান বলেন, ‘নতুন মন্ত্রীকে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি—এই তিন ধরনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছি। এর মধ্যে আজ ৯০ দিনের স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেছি। এখানে প্রশাসনিক কাজে সহজীকরণে প্রযুক্তির ব্যবহার, শ্রেণিকক্ষে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা এবং প্রত্যেক শিক্ষকের হাতে একটি ট্যাব দেওয়ার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।’
এ সময় মন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগামী তিন দিনের মধ্যে এসব পরিকল্পনার ফল কী হতে পারে, তা আমাকে জানাবেন। কী কী মডেলে এই কাজটি বাস্তবায়ন করা হবে, তা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করতে হবে।’





























































