রমাজানের রহমতের মাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা জাবেদ আলীর বিদায়—মৃত্যুর স্মরণে নীরব হলো দিনাজপুর
- আপডেট সময় : ০৩:২৯:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
- / ৫৩৯ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র রমজান মাসের রহমত ও বরকতের মাঝে আবারও স্মরণ করিয়ে দিলো জীবনের চিরন্তন সত্য—মৃত্যু অবধারিত। দিনাজপুরের ঈদগাহবস্তি নিবাসী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবক আলহাজ্ব জাবেদ আলী, দিনাজপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবুজার সেতু-এর পিতা, গত ০৭ মার্চ ২০২৬ (শনিবার) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মরহুমের গ্রামের বাড়ী দিনাজপুর সদর উপজেলার ৯ নং আস্করপুর ইউনিয়নের জামালপুর বেকাহার গ্রামে। জীবদ্দশায় তিনি দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন।
আজ ০৮ মার্চ ২০২৬ (রবিবার) জোহরের নামাজের পর দিনাজপুর শহরের জামিয়া আরাবিয়া হাফিজিয়া ক্বারীয়ানা মাদ্রাসা, নিউটাউন প্রাঙ্গণে মরহুমের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে দিনাজপুর শহরের শেখ ফরিদপুর গোরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় বিভিন্ন স্তরের মানুষের উপস্থিতি: মরহুমের জানাজা ও দাফনকার্যে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বসহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লী অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন: দিনাজপুর সদর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এমপি, এবং দিনাজপুর জেলার ২- আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব পিনাক চৌধুরী এমপি, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মোকারম হোসেন, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মোঃ রেজাউল ইসলাম গুরু, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ আখতারুজ্জামান জুয়েল, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের সদস্য মোঃ মাহফুজ, জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসু খান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহিউদ্দীন মন্ডল বকুল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর ও দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোঃ রেহাতুল ইসলাম খোকাসহ দিনাজপুর জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষ।
রমজানে মৃত্যু—মুমিনের জন্য সৌভাগ্যের ইঙ্গিত: ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে পবিত্র রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। অনেক আলেমের মতে, এ মাসে মৃত্যু মুমিনের জন্য সৌভাগ্যের ইঙ্গিত বহন করে, কারণ এই সময় আল্লাহর রহমতের দরজা উন্মুক্ত থাকে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—”প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।” — (সূরা আলে ইমরান: ১৮৫)
আরেক স্থানে বলা হয়েছে—
“তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের ধরে ফেলবে—যদিও তোমরা মজবুত দুর্গের ভিতরেও অবস্থান কর।”(সূরা নিসা: ৭৮)
মৃত্যুর আগে মৃত্যুর প্রস্তুতি—ঈমানের দাবী: ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী মানুষের জীবন একটি অস্থায়ী সফর। মানুষ একসময় রুহের জগতে ছিল, সেখান থেকে মায়ের গর্ভে এসেছে, পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছে—আবার একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে কবরের জগতে ফিরে যেতে হবে। এরপর কিয়ামত, হাশরের ময়দান, হিসাব-নিকাশ এবং পুলসিরাত পার হওয়ার কঠিন পরীক্ষা।
রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন—
“বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য আমল করে।” (তিরমিজি, হাদিস: ২৪৫৯)। আরও বলেছেন— “তোমরা বেশি বেশি স্মরণ কর সেই জিনিসকে, যা সব আনন্দকে ধ্বংস করে দেয়—অর্থাৎ মৃত্যু।”(তিরমিজি, হাদিস: ২৩০৭)
সফলতা কার জন্য?
ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী যারা আল্লাহর নির্দেশ মেনে এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেন, ন্যায়-পরায়ণতা ও সততার উপর জীবন গড়ে তোলেন—তারাই পরকালের সফলতার পথে অগ্রসর হন। এই পৃথিবীর জীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও আখিরাতের জীবন চিরস্থায়ী। তাই মৃত্যুর আগে গুনাহ থেকে তওবা করা, নেক আমল করা এবং আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা রেখে জীবন গড়ে তোলা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়ীত্ব।
শোক ও দোয়া:
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব জাবেদ আলীর ইন্তেকালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সকলেই মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছেন—আল্লাহ তাআলা মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
























































