ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়: এনসিপি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • / ৫০২ বার পড়া হয়েছে
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। 

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দলের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্তের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, ১০ মার্চ মঙ্গলবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির শিক্ষা ও গবেষণা সেলের পক্ষ থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

আমরা (এনসিপি) মনে করি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি করা এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে শিক্ষকদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আপনারা অবগত আছেন, বিগত সময়গুলোতে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী এবং পর্যাপ্ত শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন ব্যক্তিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ঘৃণ্য নজির স্থাপন করেছিলেন। বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যারা কোনোদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না কিংবা শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণাও রাখেন না, তারাই স্নাতক বা উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকদের ওপর অযাচিত প্রভাব বিস্তার করেছেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে।

এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং শিক্ষানুরাগী সমাজের মতামতের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। এই উদ্যোগটি দেশের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল এবং শিক্ষাব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক সংস্কারের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

নবনির্বাচিত সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল—পূর্ববর্তী ইতিবাচক সংস্কারগুলোকে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিদ্যমান সংকটসমূহ সমাধানের লক্ষ্যে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা তাদের পক্ষ থেকে একটি পশ্চাৎমুখী প্রবণতার আভাস পাচ্ছি, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

এমতাবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়: এনসিপি

আপডেট সময় : ০৩:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। 

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দলের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্তের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, ১০ মার্চ মঙ্গলবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির শিক্ষা ও গবেষণা সেলের পক্ষ থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

আমরা (এনসিপি) মনে করি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি করা এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে শিক্ষকদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আপনারা অবগত আছেন, বিগত সময়গুলোতে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী এবং পর্যাপ্ত শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন ব্যক্তিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ঘৃণ্য নজির স্থাপন করেছিলেন। বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যারা কোনোদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না কিংবা শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণাও রাখেন না, তারাই স্নাতক বা উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকদের ওপর অযাচিত প্রভাব বিস্তার করেছেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে।

এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং শিক্ষানুরাগী সমাজের মতামতের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। এই উদ্যোগটি দেশের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল এবং শিক্ষাব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক সংস্কারের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

নবনির্বাচিত সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল—পূর্ববর্তী ইতিবাচক সংস্কারগুলোকে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিদ্যমান সংকটসমূহ সমাধানের লক্ষ্যে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা তাদের পক্ষ থেকে একটি পশ্চাৎমুখী প্রবণতার আভাস পাচ্ছি, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

এমতাবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।