মধ্যনগরে ৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ, উধাও সমবায় প্রতিষ্ঠান—টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৩:৫৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
- / 16
মধ্যনগরে ৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ, উধাও সমবায় প্রতিষ্ঠান—টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন
প্রতিবেদন: আবির মোহাম্মদ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে বেশি মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের প্রায় ৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে গেছে “রূপসী বাংলা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড” নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় প্রতারিত গ্রাহকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
শনিবার বিকেলে মধ্যনগর বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় তারা সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
জানা যায়, ২০২২ সালে সুনামগঞ্জ জেলা সমবায় কার্যালয় থেকে নিবন্ধন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম শুরু করে। নেত্রকোনার সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের কুমরী গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও মধ্যনগরের অমিয় ভূষণ কর (মন্টু)-এর নেতৃত্বে এটি পরিচালিত হতো। শুরু থেকেই উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ডিপিএস ও বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রলোভনে পড়ে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ জমা রাখেন। তবে প্রায় দুই মাস আগে হঠাৎ করেই প্রতিষ্ঠানটির দুই মালিক আত্মগোপনে চলে যান।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে অন্যত্র আরও তিনটি শাখা চালু করা হয়। দুই মাস আগে এক সভায় সমিতির সম্পদ বিক্রি করে দ্রুত পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিলেও এরপরই তারা গা ঢাকা দেন।
প্রতারিত গ্রাহকদের মধ্যে সেলুন কর্মী শক্তি ঋষি জানান, জীবনের সঞ্চিত ৯ লাখ টাকা হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব। লাকী তালুকদার বলেন, বোনের বিয়ের জন্য জমা রাখা ২ লাখ টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি বিপাকে পড়েছেন, বরং টাকা চাইতে গিয়ে হুমকির শিকার হয়েছেন।
ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন জানান, তার মায়ের কাছ থেকে প্রলুব্ধ করে ১০ লাখ টাকার বেশি জমা নেওয়া হয়, যা এখন ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া অঞ্জন তালুকদার ৪ লাখ এবং আকিকুর রহমান ১০ লাখ টাকা জমা রেখে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. শামছুল ইসলাম বলেন, অনিয়মের কারণে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সমিতিটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়। তবে নিবন্ধন বাতিলের পরও তারা গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও এ বিষয়ে সমবায় অফিস অবগত ছিল না।
প্রতারিত গ্রাহকরা দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের অর্থ ফেরতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।

























































