ঢাকা ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পদক নিলেন জাইমা রহমান Logo ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর-এর মমতাময়ী মায়ের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে সরকার Logo মাদক ও মানব পাচার নির্মূলে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ বরণ Logo কৃষক কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে টাঙ্গাইল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo নারী উদ্যোক্তা এবং প্রবাসীদের নিয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার Logo বাংলার যয়যাত্রাএর হরমুজ প্রণালী পার হতে কেন বাধা দিল ইরান Logo রায়ে ‘অসন্তুষ্ট’ শহীদ আবু সাঈদের পরিবার

সঠিক পথে অবিচল থাকার দোয়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 97
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আল্লাহর তাআলার দয়া ও তওফিক ছাড়া কেউ হেদায়াত লাভ করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা দয়া করে যাদেরকে ইচ্ছা সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, সঠিক পথে অবিচল থাকার তওফিক দান করেন, আবার অনেককে আল্লাহ তাআলা পথভ্রষ্ট করেন অর্থাৎ তারা নিজেদের দম্ভ, অহমিকা জুলুম ও পাপাচারের কারণে আল্লাহর অনুগ্রহ ও হেদায়াতের তওফিক থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি প্রত্যেক রাসুলকে তার জাতির ভাষাতেই পাঠিয়েছি, যাতে সে তাদের কাছে বর্ণনা দেয়; তারপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ দেখান। আর তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। (সুরা ইবরাহিম: ৪)

তাই আল্লাহ তাআলার কাছে সব সময় হেদায়াত এবং হেদায়াতের ওপর অবিচলতার জন্য দোয়া করা উচিত, পথভ্রষ্টতা থেকে আশ্রয়ের জন্য দোয়া করা উচিত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা দ্বীনের ওপর অবিচলতা ও পথভ্রষ্টতা থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে আমাদের দোয়া করতে শিখিয়েছেন:

 رَبَّنَا لَا تُزِغۡ قُلُوۡبَنَا بَعۡدَ اِذۡ هَدَیۡتَنَا وَ هَبۡ لَنَا مِنۡ لَّدُنۡکَ رَحۡمَۃً اِنَّکَ اَنۡتَ الۡوَهَّابُ

উচ্চারণ: রাব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা’দা ইজ হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিন লাদুনকা রাহমাতান ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহাব।

অর্থ: হে আমাদের রব, আপনি হেদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা। (সুরা আলে ইমরান: ৮)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) (পথভ্রষ্টতা থেকে আশ্রয় চেয়ে) দোয়া করতেন:

اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِعِزَّتِكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَنْ تُضِلَّنِي أَنْتَ الْحَيُّ الَّذِي لَا يَمُوتُ وَالْجِنُّ وَالْإِنْسُ يموتون

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা আস্‌লাম্‌তু ওয়া বিকা আমান্‌তু, ওয়া আলায়কা তাওয়াক্কালতু ওয়া ইলায়কা আনাবতু ওয়া বিকা খাসামতু আল্লহুম্মা ইন্নী আঊযু বিইয্যাতিকা লা ইলাহা ইল্লা আন্‌তা আন্ তুযিল্লানী। আন্‌তাল হাইয়্যুল্লাযী লা ইয়ামূতু ওয়াল জিন্‌নু ওয়াল ইন্‌সু ইয়ামূতূন।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নিজেকে সমর্পণ করলাম, আপনার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করলাম, ভরসা করলাম এবং আপনারই দিকে নিজেকে ফেরালাম এবং আপনারই সাহায্যে লড়াই করলাম। হে আল্লাহ! আমি পথভ্রষ্টতা থেকে আপনার মর্যাদার আশ্রয় গ্রহণ করছি। আপনি ছাড়া সত্য আর কোনো মাবুদ নেই, আপনি চিরঞ্জীব, আপনি মৃত্যুবরণ করবেন না, মৃত্যুবরণ করবে মানুষ ও জিন। (সহিহ বুখারি: ৭৩৮৩, সহিহ মুসলিম: ২৭১৭)

সাহাবি ও বুজুর্গদের আরেকটি দোয়া বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে:

اَللّٰهُمَّ اَرِنَا الْحَقَّ حَقًّا وَّارْزُقْنَا اتِّبَاعَهٗ وَاَرِنَا الْبَاطِلَ بَاطِلًا وَّارْزُقْنَا اجْتِنَابَهٗ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আরিনাল হাক্কা হাক্কাও ওয়ারজুকনা ইত্তিবাআহু ওয়া আরিনাল বাতিলা বাতিলাও ওয়ারজুকনা ইজতিনাবাহু।

অর্থ: হে আল্লাহ আপনি হককে হক হিসেবে আমাদের দেখান এবং এর অনুসরণের তওফিক দিন, আর বাতিলকে বাতিল হিসেবে দেখান এবং একে পরিত্যাগ করার তাওফিক দিন। (তাফসিরে ইবনে কাসির)

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সঠিক পথে অবিচল থাকার দোয়া

আপডেট সময় : ০৫:২৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আল্লাহর তাআলার দয়া ও তওফিক ছাড়া কেউ হেদায়াত লাভ করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা দয়া করে যাদেরকে ইচ্ছা সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, সঠিক পথে অবিচল থাকার তওফিক দান করেন, আবার অনেককে আল্লাহ তাআলা পথভ্রষ্ট করেন অর্থাৎ তারা নিজেদের দম্ভ, অহমিকা জুলুম ও পাপাচারের কারণে আল্লাহর অনুগ্রহ ও হেদায়াতের তওফিক থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি প্রত্যেক রাসুলকে তার জাতির ভাষাতেই পাঠিয়েছি, যাতে সে তাদের কাছে বর্ণনা দেয়; তারপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ দেখান। আর তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। (সুরা ইবরাহিম: ৪)

তাই আল্লাহ তাআলার কাছে সব সময় হেদায়াত এবং হেদায়াতের ওপর অবিচলতার জন্য দোয়া করা উচিত, পথভ্রষ্টতা থেকে আশ্রয়ের জন্য দোয়া করা উচিত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা দ্বীনের ওপর অবিচলতা ও পথভ্রষ্টতা থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে আমাদের দোয়া করতে শিখিয়েছেন:

 رَبَّنَا لَا تُزِغۡ قُلُوۡبَنَا بَعۡدَ اِذۡ هَدَیۡتَنَا وَ هَبۡ لَنَا مِنۡ لَّدُنۡکَ رَحۡمَۃً اِنَّکَ اَنۡتَ الۡوَهَّابُ

উচ্চারণ: রাব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা’দা ইজ হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিন লাদুনকা রাহমাতান ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহাব।

অর্থ: হে আমাদের রব, আপনি হেদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা। (সুরা আলে ইমরান: ৮)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) (পথভ্রষ্টতা থেকে আশ্রয় চেয়ে) দোয়া করতেন:

اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِعِزَّتِكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَنْ تُضِلَّنِي أَنْتَ الْحَيُّ الَّذِي لَا يَمُوتُ وَالْجِنُّ وَالْإِنْسُ يموتون

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা আস্‌লাম্‌তু ওয়া বিকা আমান্‌তু, ওয়া আলায়কা তাওয়াক্কালতু ওয়া ইলায়কা আনাবতু ওয়া বিকা খাসামতু আল্লহুম্মা ইন্নী আঊযু বিইয্যাতিকা লা ইলাহা ইল্লা আন্‌তা আন্ তুযিল্লানী। আন্‌তাল হাইয়্যুল্লাযী লা ইয়ামূতু ওয়াল জিন্‌নু ওয়াল ইন্‌সু ইয়ামূতূন।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নিজেকে সমর্পণ করলাম, আপনার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করলাম, ভরসা করলাম এবং আপনারই দিকে নিজেকে ফেরালাম এবং আপনারই সাহায্যে লড়াই করলাম। হে আল্লাহ! আমি পথভ্রষ্টতা থেকে আপনার মর্যাদার আশ্রয় গ্রহণ করছি। আপনি ছাড়া সত্য আর কোনো মাবুদ নেই, আপনি চিরঞ্জীব, আপনি মৃত্যুবরণ করবেন না, মৃত্যুবরণ করবে মানুষ ও জিন। (সহিহ বুখারি: ৭৩৮৩, সহিহ মুসলিম: ২৭১৭)

সাহাবি ও বুজুর্গদের আরেকটি দোয়া বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে:

اَللّٰهُمَّ اَرِنَا الْحَقَّ حَقًّا وَّارْزُقْنَا اتِّبَاعَهٗ وَاَرِنَا الْبَاطِلَ بَاطِلًا وَّارْزُقْنَا اجْتِنَابَهٗ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আরিনাল হাক্কা হাক্কাও ওয়ারজুকনা ইত্তিবাআহু ওয়া আরিনাল বাতিলা বাতিলাও ওয়ারজুকনা ইজতিনাবাহু।

অর্থ: হে আল্লাহ আপনি হককে হক হিসেবে আমাদের দেখান এবং এর অনুসরণের তওফিক দিন, আর বাতিলকে বাতিল হিসেবে দেখান এবং একে পরিত্যাগ করার তাওফিক দিন। (তাফসিরে ইবনে কাসির)