ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জ্বালানি সাশ্রয়ে বুধ-বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারকাজ চলবে ভার্চুয়ালি Logo এনসিপিতে যোগদানের হিড়িক Logo ৫ দফা দাবী সহ শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের মানববন্ধন কর্মসূচি Logo পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াবে বাংলাদেশ Logo পাম্প থেকে তেল নিতে অগ্রাধিকার চায় পুলিশ Logo খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পদক নিলেন জাইমা রহমান Logo ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর-এর মমতাময়ী মায়ের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে সরকার Logo মাদক ও মানব পাচার নির্মূলে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ বরণ

ভাঙ্গুড়ায় তীব্র শীতে বোরো ধানের বীজতলা ঝুঁকিতে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 217
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার কৃষকরা এখন শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি। পৌষ মাসের শুরু থেকেই তীব্র ঠাণ্ডা ও কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। দিনের পর দিন সূর্যের আলো না পাওয়া এবং তাপমাত্রা কম থাকায় চারা পর্যাপ্ত খাদ্য তৈরি করতে পারছে না। ফলে শিকড় দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, গোড়ায় শিশির জমে পচন ধরছে, আর অনেক স্থানে চারা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে।মাঠ পরিদর্শন করে দেখা গেছে, কৃষকেরা নিচু জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। সাধারণত ১০-১২ দিনের মধ্যে এসব চারা মূল জমিতে রোপণ করা হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান আবহাওয়ায় সেই পরিকল্পনা আপাতত বিপন্ন।বড়পুকুরিয়া গ্রামের কৃষক আ.ছালাম জানান, এক সপ্তাহ ধরে কুয়াশা ও শীতে আমার বীজতলা মারাত্মক ক্ষতির মুখে।
যদি আবহাওয়া আরো কয়েক দিন এমন থাকে, পুরো বীজতলা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
রায়পাড়া গ্রামের আ.হান্নান বলেন, চারা দুর্বল হয়ে হলুদ হয়ে গেছে। এতে ভবিষ্যৎ আবাদ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আমরা নানা কৌশল অবলম্বন করছি, কিন্তু পুরো ক্ষতি ঠেকানো যাচ্ছে না।কৃষকরা বীজতলা রক্ষার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সুলতান পুর গ্রামের রেজাউল জানান, ভোরে লাঠি দিয়ে চারা থেকে জমে থাকা শিশির ঝরানো হচ্ছে। কেউ কেউ রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন, আবার কেউ গরম পানি ছিটাচ্ছেন।জাহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না, বরং খরচ বেড়ে গেছে।কৃষক রফিকুল বলেন, অনেক বীজতলা ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে।নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে, যা ছোট ও মাঝারি কৃষকদের জন্য বড় চাপ।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান বলেন, তীব্র শীতে বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি ও ছত্রাক আক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই আমরা পলিথিন ব্যবহার, সকালে পানি পরিবর্তন এবং জমে থাকা শিশির ঝরানোর পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষকদের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বড় ধরনের ক্ষতি ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। তবে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আরো কয়েক দিন কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। কৃষকেরা আশঙ্কা করছেন, সময়মতো চারা রোপণ ব্যাহত হলে বোরো ধানের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভাঙ্গুড়ায় তীব্র শীতে বোরো ধানের বীজতলা ঝুঁকিতে

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার কৃষকরা এখন শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি। পৌষ মাসের শুরু থেকেই তীব্র ঠাণ্ডা ও কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। দিনের পর দিন সূর্যের আলো না পাওয়া এবং তাপমাত্রা কম থাকায় চারা পর্যাপ্ত খাদ্য তৈরি করতে পারছে না। ফলে শিকড় দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, গোড়ায় শিশির জমে পচন ধরছে, আর অনেক স্থানে চারা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে।মাঠ পরিদর্শন করে দেখা গেছে, কৃষকেরা নিচু জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। সাধারণত ১০-১২ দিনের মধ্যে এসব চারা মূল জমিতে রোপণ করা হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান আবহাওয়ায় সেই পরিকল্পনা আপাতত বিপন্ন।বড়পুকুরিয়া গ্রামের কৃষক আ.ছালাম জানান, এক সপ্তাহ ধরে কুয়াশা ও শীতে আমার বীজতলা মারাত্মক ক্ষতির মুখে।
যদি আবহাওয়া আরো কয়েক দিন এমন থাকে, পুরো বীজতলা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
রায়পাড়া গ্রামের আ.হান্নান বলেন, চারা দুর্বল হয়ে হলুদ হয়ে গেছে। এতে ভবিষ্যৎ আবাদ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আমরা নানা কৌশল অবলম্বন করছি, কিন্তু পুরো ক্ষতি ঠেকানো যাচ্ছে না।কৃষকরা বীজতলা রক্ষার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সুলতান পুর গ্রামের রেজাউল জানান, ভোরে লাঠি দিয়ে চারা থেকে জমে থাকা শিশির ঝরানো হচ্ছে। কেউ কেউ রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন, আবার কেউ গরম পানি ছিটাচ্ছেন।জাহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না, বরং খরচ বেড়ে গেছে।কৃষক রফিকুল বলেন, অনেক বীজতলা ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে।নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে, যা ছোট ও মাঝারি কৃষকদের জন্য বড় চাপ।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান বলেন, তীব্র শীতে বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি ও ছত্রাক আক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই আমরা পলিথিন ব্যবহার, সকালে পানি পরিবর্তন এবং জমে থাকা শিশির ঝরানোর পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষকদের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বড় ধরনের ক্ষতি ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। তবে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আরো কয়েক দিন কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। কৃষকেরা আশঙ্কা করছেন, সময়মতো চারা রোপণ ব্যাহত হলে বোরো ধানের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।