ঢাকা ১২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র Logo এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলায় খুলনায় প্রতিবাদ মিছিল Logo হরিপুরে সরকারি সহায়তা পেলেন রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও প্রতিবন্ধীরা Logo প্রত্যয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পিএবিএম-এর উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া Logo বিএডিসিতে গণবদলি নিয়ে তোলপাড়: চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা Logo মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কাজী নজরুলকে প্রধান দিশারি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্টেডফাস্ট কুরিয়ার কার্যালয় পরিদর্শনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, শান্তিপূর্ণ সমাধানে আইনানুগ নির্দেশনা Logo সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপে কে.সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত Logo জৈব সারের নামে বর্জ্য বিতরণ, বদলি করা হয়েছে কামারখন্দের সেই কৃষি কর্মকর্তাকে Logo সুপারভাইজার বলেছিল ‘তুই মরলেও ছুটি নাই’

মানবপাচার চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 127
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উন্নত জীবনযাপনের প্রলোভন দেখিয়ে ইতালির নামে অবৈধ পথে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবির ঘটনায় আটজন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মানবপাচার চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) মাদারীপুর জেলার রাজৈর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন— গুরুদাস বারই (৪৫) ও মো. মোতালেব মাতব্বর (৬৮)।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মো. মোতালেব মাতব্বরের বিরুদ্ধে পূর্বে সন্ত্রাসবিরোধী একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। গুরুদাস বারইকে রাজৈর থানার দক্ষিণ খালিয়া গ্রাম থেকে এবং মো. মোতালেব মাতব্বরকে দামেরচর বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত এবং এজাহারভুক্ত মূল পাচারকারীদের নির্দেশে অর্থ ও ভুক্তভোগী সংগ্রহের কাজ করছিল। মানবপাচার চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা করে নিয়ে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয়। পরে তাদের অবৈধভাবে লিবিয়ায় পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ডিঙি নৌকায় তুলে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে তিউনিশিয়া উপকূলে পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি ডুবে গেলে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন— সজল বৈরাগী (২৫), মামুন শেখ (২৪), নয়ন বিশ্বাস (১৮), কাজী সজিব (১৯), কায়সার খলিফা (৩৫), মো. রিফাত শেখ (২৫), রাসেল শেখ (১৯) ও ইমরুল কায়েস আপন (২৪)।

নৌকাডুবির পর নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ তিউনিশিয়ার Gabes University Hospital এবং অপর চারজনের মরদেহ Djerba General Hospital এর মর্গে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি প্রক্রিয়ায় মরদেহগুলো দেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত সজল বৈরাগীর পিতা সুনিল বৈরাগী বাদী হয়ে ঢাকা মহানগরের বিমানবন্দর থানায় মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করেন।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, অর্থের লেনদেনের উৎস নিরূপণ এবং পুরো মানবপাচার চক্রের নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মানবপাচার চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৮:৫০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

উন্নত জীবনযাপনের প্রলোভন দেখিয়ে ইতালির নামে অবৈধ পথে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবির ঘটনায় আটজন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মানবপাচার চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) মাদারীপুর জেলার রাজৈর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন— গুরুদাস বারই (৪৫) ও মো. মোতালেব মাতব্বর (৬৮)।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মো. মোতালেব মাতব্বরের বিরুদ্ধে পূর্বে সন্ত্রাসবিরোধী একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। গুরুদাস বারইকে রাজৈর থানার দক্ষিণ খালিয়া গ্রাম থেকে এবং মো. মোতালেব মাতব্বরকে দামেরচর বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত এবং এজাহারভুক্ত মূল পাচারকারীদের নির্দেশে অর্থ ও ভুক্তভোগী সংগ্রহের কাজ করছিল। মানবপাচার চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা করে নিয়ে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয়। পরে তাদের অবৈধভাবে লিবিয়ায় পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ডিঙি নৌকায় তুলে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে তিউনিশিয়া উপকূলে পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি ডুবে গেলে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন— সজল বৈরাগী (২৫), মামুন শেখ (২৪), নয়ন বিশ্বাস (১৮), কাজী সজিব (১৯), কায়সার খলিফা (৩৫), মো. রিফাত শেখ (২৫), রাসেল শেখ (১৯) ও ইমরুল কায়েস আপন (২৪)।

নৌকাডুবির পর নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ তিউনিশিয়ার Gabes University Hospital এবং অপর চারজনের মরদেহ Djerba General Hospital এর মর্গে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি প্রক্রিয়ায় মরদেহগুলো দেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত সজল বৈরাগীর পিতা সুনিল বৈরাগী বাদী হয়ে ঢাকা মহানগরের বিমানবন্দর থানায় মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করেন।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, অর্থের লেনদেনের উৎস নিরূপণ এবং পুরো মানবপাচার চক্রের নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।