ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পদক নিলেন জাইমা রহমান Logo ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর-এর মমতাময়ী মায়ের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে সরকার Logo মাদক ও মানব পাচার নির্মূলে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ বরণ Logo কৃষক কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে টাঙ্গাইল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo নারী উদ্যোক্তা এবং প্রবাসীদের নিয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার Logo বাংলার যয়যাত্রাএর হরমুজ প্রণালী পার হতে কেন বাধা দিল ইরান Logo রায়ে ‘অসন্তুষ্ট’ শহীদ আবু সাঈদের পরিবার

যে তেল আপনাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে !

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • / 71

ছবি : দেশবর্ন গ্রাফিক্স ।

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বর্তমান সময়ে রান্নার অন্যতম প্রচলিত উপাদান সয়াবিন তেল—যা আমরা প্রতিদিনই ব্যবহার করছি প্রায় অচেতনভাবেই। কিন্তু এই তেলই কি ধীরে ধীরে আমাদের শরীর, বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সয়াবিন তেল পুরোপুরি ক্ষতিকর না হলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। উচ্চ তাপে বারবার ব্যবহার বা অতিরিক্ত পরিশোধনের ফলে এতে ট্রান্সফ্যাট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

এছাড়া সয়াবিন তেলে থাকা অতিরিক্ত ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে প্রদাহ (inflammation) সৃষ্টি করতে পারে, যদি খাদ্যে ওমেগা-৩ এর ভারসাম্য না থাকে। এই প্রদাহ দীর্ঘমেয়াদে ধমনীর ক্ষতি করে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। কিছু ক্ষেত্রে রক্তনালীতে প্লাক জমে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

শুধু হার্টই নয়, অতিরিক্ত সয়াবিন তেল ওজন বৃদ্ধি, ফ্যাটি লিভার এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে—পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করলে সয়াবিন তেলে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড (MUFA) ও পলি-আনস্যাচুরেটেড (PUFA) ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। তাই একে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে সচেতন ব্যবহারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হার্ট সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞরা অলিভ অয়েল, সরিষার তেল, রাইস ব্র্যান অয়েল, ক্যানোলা অয়েল, সূর্যমুখী তেল ও বাদাম তেলের মতো স্বাস্থ্যকর বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি একটি তেলের ওপর নির্ভর না করে তেল পরিবর্তন করে ব্যবহার করা এবং রান্নায় তেলের পরিমাণ কমানোই হতে পারে সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।

মনে রাখবেন—তেল নয়, আপনার ব্যবহারই নির্ধারণ করে এটি ওষুধ হবে, নাকি বিষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যে তেল আপনাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে !

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

বর্তমান সময়ে রান্নার অন্যতম প্রচলিত উপাদান সয়াবিন তেল—যা আমরা প্রতিদিনই ব্যবহার করছি প্রায় অচেতনভাবেই। কিন্তু এই তেলই কি ধীরে ধীরে আমাদের শরীর, বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সয়াবিন তেল পুরোপুরি ক্ষতিকর না হলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। উচ্চ তাপে বারবার ব্যবহার বা অতিরিক্ত পরিশোধনের ফলে এতে ট্রান্সফ্যাট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

এছাড়া সয়াবিন তেলে থাকা অতিরিক্ত ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে প্রদাহ (inflammation) সৃষ্টি করতে পারে, যদি খাদ্যে ওমেগা-৩ এর ভারসাম্য না থাকে। এই প্রদাহ দীর্ঘমেয়াদে ধমনীর ক্ষতি করে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। কিছু ক্ষেত্রে রক্তনালীতে প্লাক জমে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

শুধু হার্টই নয়, অতিরিক্ত সয়াবিন তেল ওজন বৃদ্ধি, ফ্যাটি লিভার এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে—পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করলে সয়াবিন তেলে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড (MUFA) ও পলি-আনস্যাচুরেটেড (PUFA) ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। তাই একে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে সচেতন ব্যবহারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হার্ট সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞরা অলিভ অয়েল, সরিষার তেল, রাইস ব্র্যান অয়েল, ক্যানোলা অয়েল, সূর্যমুখী তেল ও বাদাম তেলের মতো স্বাস্থ্যকর বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি একটি তেলের ওপর নির্ভর না করে তেল পরিবর্তন করে ব্যবহার করা এবং রান্নায় তেলের পরিমাণ কমানোই হতে পারে সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।

মনে রাখবেন—তেল নয়, আপনার ব্যবহারই নির্ধারণ করে এটি ওষুধ হবে, নাকি বিষ।