ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শব্দ আর ক্যামেরার আলোছায়ায় এক উদীয়মান তরুণী ঊর্মি হোসেন পুষ্প

আবির মোহাম্মদ
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৬৩৩ বার পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 নতুন প্রজন্মের তরুণ সৃষ্টিশীলদের ভিড়ে যাদের কাজ নীরবে মন ছুঁয়ে যায়, তাদের মধ্যে অন্যতম ঊর্মি হোসেন পুষ্প।

 

বয়স মাত্র (১৯) পল্লবী সরকার কলেজের ইন্টার ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী হলেও লেখালেখি, ফটোগ্রাফি ও শিল্পচর্চার প্রতি তার আবেগ ও নিষ্ঠা তাকে সমবয়সীদের থেকে ইতোমধ্যেই আলাদা পরিচয়ে তুলে ধরেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি কাজ করছেন ‘চিত্র ফিল্ম’ -এর ওয়েডিং ফটোগ্রাফার হিসেবে। ছবির লেন্সে মুহূর্ত ধরে রাখা যেমন তার পেশা, তেমনি শব্দের বুননে অনুভূতি প্রকাশও তার আরেকটি স্বস্তির স্থান।

পুষ্পের লেখালেখির যাত্রা শুরু ২০২০ সালে, ‘কাঠপুতুল’ নামে একটি ছোট ফেসবুক পেজ তৈরি করে। শখের বসে খোলা সেই পেজই ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে তার মনের আলাপন প্রকাশের জায়গা। নিয়মিত না লিখলেও, মন খারাপের সময় অনুভূতি জমে ওঠে শব্দে, আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় তার লেখা। মানুষ হারানোর বেদনাময় অভিজ্ঞতা, জীবনের বাস্তবতা, অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা ও অন্তর্গত চাপা কষ্ট—এই সবকিছুই তার লেখার প্রধান উপাদান। নিজের ভেতরের অভিজ্ঞতা থেকেই লেখার বিষয়বস্তু উঠে আসে, আর তাই তার প্রতিটি লেখা খুব ব্যক্তিগত অথচ সার্বজনীন।

লেখালেখিতে তার সবচেয়ে বড় প্রেরণা প্রয়াত লেখক হুমায়ুন আহমেদ। তার সরল ভাষা, মায়াবী গল্প আর জীবনের সাধারণ মুহূর্তকে অসাধারণভাবে তুলে ধরার ক্ষমতা পুষ্পকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তিনিও নিজের লেখায় সরলতাকে প্রধান অলংকার মানেন। তার মতে, সরলতাই শ্রেষ্ঠ অলংকার।

শিল্পচর্চার ক্ষেত্রেও পুষ্প বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। মানুষের প্রতিকৃতি তোলা, আকাশ দেখা, আলো-ছায়ার খেলা বন্দি করা, গান গাওয়া কিংবা ছবি আঁকা—সবকিছুর সাথেই তার নিবিড় সম্পর্ক। প্রতিটি মাধ্যম তাকে নিজেকে প্রকাশ করতে সাহায্য করে।

লেখকের দায়িত্ব সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট লেখকের দায়িত্ব কেবল গল্প বলা নয়, গল্পের মধ্যেই সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরা উচিত। তাই তার লেখা শুধু অনুভূতির প্রকাশ নয়, বরং জীবনের সত্যকে সামনে আনারও একটি চেষ্টা। নতুন লেখকদের উদ্দেশে তার পরামর্শ—লেখায় সত্যবাদিতা বজায় রাখা, সরলতাকে ধারণ করা এবং লোকরঞ্জনের মোহ ত্যাগ করা। তার মতে, সত্য ও সরলতার লেখাই দীর্ঘদিন পাঠকের মনে থাকে।

ভবিষ্যতে নিজের লেখা নিয়ে আরও বিস্তৃতভাবে কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে তার। একসময় নিজের একটি বই প্রকাশ করার লক্ষ্যও রয়েছে। শব্দের মাধ্যমে নিজেকে খুঁজে পাওয়া—এটাই তার সবচেয়ে প্রিয় অনুভূতি। তিনি মনে করেন, নিজের লেখার ভেতর নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া—এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।

শব্দ ও ক্যামেরার আলোছায়া, এই দুই মাধ্যমকে সঙ্গী করে সামনে এগিয়ে চলেছেন ঊর্মি হোসেন পুষ্প। বয়স কম হলেও দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভূতি ও সৃজনশীলতায় তিনি ইতোমধ্যেই নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। ভবিষ্যতের পথচলায় তিনি আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে এমন প্রত্যাশাই রাখছে তার চারপাশের মানুষ।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শব্দ আর ক্যামেরার আলোছায়ায় এক উদীয়মান তরুণী ঊর্মি হোসেন পুষ্প

আপডেট সময় : ১২:৪১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

 নতুন প্রজন্মের তরুণ সৃষ্টিশীলদের ভিড়ে যাদের কাজ নীরবে মন ছুঁয়ে যায়, তাদের মধ্যে অন্যতম ঊর্মি হোসেন পুষ্প।

 

বয়স মাত্র (১৯) পল্লবী সরকার কলেজের ইন্টার ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী হলেও লেখালেখি, ফটোগ্রাফি ও শিল্পচর্চার প্রতি তার আবেগ ও নিষ্ঠা তাকে সমবয়সীদের থেকে ইতোমধ্যেই আলাদা পরিচয়ে তুলে ধরেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি কাজ করছেন ‘চিত্র ফিল্ম’ -এর ওয়েডিং ফটোগ্রাফার হিসেবে। ছবির লেন্সে মুহূর্ত ধরে রাখা যেমন তার পেশা, তেমনি শব্দের বুননে অনুভূতি প্রকাশও তার আরেকটি স্বস্তির স্থান।

পুষ্পের লেখালেখির যাত্রা শুরু ২০২০ সালে, ‘কাঠপুতুল’ নামে একটি ছোট ফেসবুক পেজ তৈরি করে। শখের বসে খোলা সেই পেজই ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে তার মনের আলাপন প্রকাশের জায়গা। নিয়মিত না লিখলেও, মন খারাপের সময় অনুভূতি জমে ওঠে শব্দে, আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় তার লেখা। মানুষ হারানোর বেদনাময় অভিজ্ঞতা, জীবনের বাস্তবতা, অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা ও অন্তর্গত চাপা কষ্ট—এই সবকিছুই তার লেখার প্রধান উপাদান। নিজের ভেতরের অভিজ্ঞতা থেকেই লেখার বিষয়বস্তু উঠে আসে, আর তাই তার প্রতিটি লেখা খুব ব্যক্তিগত অথচ সার্বজনীন।

লেখালেখিতে তার সবচেয়ে বড় প্রেরণা প্রয়াত লেখক হুমায়ুন আহমেদ। তার সরল ভাষা, মায়াবী গল্প আর জীবনের সাধারণ মুহূর্তকে অসাধারণভাবে তুলে ধরার ক্ষমতা পুষ্পকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তিনিও নিজের লেখায় সরলতাকে প্রধান অলংকার মানেন। তার মতে, সরলতাই শ্রেষ্ঠ অলংকার।

শিল্পচর্চার ক্ষেত্রেও পুষ্প বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। মানুষের প্রতিকৃতি তোলা, আকাশ দেখা, আলো-ছায়ার খেলা বন্দি করা, গান গাওয়া কিংবা ছবি আঁকা—সবকিছুর সাথেই তার নিবিড় সম্পর্ক। প্রতিটি মাধ্যম তাকে নিজেকে প্রকাশ করতে সাহায্য করে।

লেখকের দায়িত্ব সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট লেখকের দায়িত্ব কেবল গল্প বলা নয়, গল্পের মধ্যেই সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরা উচিত। তাই তার লেখা শুধু অনুভূতির প্রকাশ নয়, বরং জীবনের সত্যকে সামনে আনারও একটি চেষ্টা। নতুন লেখকদের উদ্দেশে তার পরামর্শ—লেখায় সত্যবাদিতা বজায় রাখা, সরলতাকে ধারণ করা এবং লোকরঞ্জনের মোহ ত্যাগ করা। তার মতে, সত্য ও সরলতার লেখাই দীর্ঘদিন পাঠকের মনে থাকে।

ভবিষ্যতে নিজের লেখা নিয়ে আরও বিস্তৃতভাবে কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে তার। একসময় নিজের একটি বই প্রকাশ করার লক্ষ্যও রয়েছে। শব্দের মাধ্যমে নিজেকে খুঁজে পাওয়া—এটাই তার সবচেয়ে প্রিয় অনুভূতি। তিনি মনে করেন, নিজের লেখার ভেতর নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া—এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।

শব্দ ও ক্যামেরার আলোছায়া, এই দুই মাধ্যমকে সঙ্গী করে সামনে এগিয়ে চলেছেন ঊর্মি হোসেন পুষ্প। বয়স কম হলেও দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভূতি ও সৃজনশীলতায় তিনি ইতোমধ্যেই নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। ভবিষ্যতের পথচলায় তিনি আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে এমন প্রত্যাশাই রাখছে তার চারপাশের মানুষ।