ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

আপনারা বিড়ি টানতে টানতেই দাঁড়িপাল্লায় একটি ভোট চাইবেন: ড. ফয়জুল হক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 151

ছবি: সংগৃহীত

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের একটি বক্তব্য ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
‎বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে ড. ফয়জুল হক বলেন, ‘এমনও হইতে পারে, আমার ভাই হয়তো জীবনে কোনোদিন ইবাদত করার সুযোগ পায় নাই। তবে ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিয়ে আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়, আল্লাহ চাইলে তার আগের সবকিছু মাফ করে দিতে পারেন। আমি গল্পের ছলে বলি আপনাদের আনন্দ লাগছে। কিন্তু এটা হতেও তো পারে।’
‎বক্তব্যটি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে আপলোড করা হয়। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হয়।
‎ভিডিওতে ড. ফয়জুল হককে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা দৈনিক ৫-১০টা বিড়ি খান না? যে দোকান থেকে খাবেন, সেখানে গিয়ে বিড়ি অর্ডার দেবেন। বিড়ি ধরিয়ে একটা সুখটান দিয়ে গল্পের ছলে বলবেন—দেশের অবস্থা দেখছো? দাঁড়িপাল্লা ছাড়া এ দেশে তো মানুষ দেখি না।’
‎পুরুষ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে ৫ টাকার চা খাবেন, আর ১৫ টাকার গল্প করবেন। দোকানে বসে বলবেন—সব জায়গায় ড. ফয়জুলের দাঁড়িপাল্লার জয়জয়কার।’
‎নারীদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এতদিন উঠানে বসে গপ্পো মারছেন, চুলের বিনি বেঁধে দিচ্ছেন। আজ থেকে একটা মাথাও ফ্রি আচরাবেন না। দাঁড়িপাল্লার কথা দিয়েই পেনাপোডা (গল্প) শুরু করবেন। অন্তত ২০ জন মা-বোন আত্মীয়কে ফোন দিয়ে ভোট দেওয়ার কথা বলবেন।’
‎এ ছাড়া, নির্বাচনের দিন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‎নির্বাচনের রাতে ঘুমাবেন না। ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত জেগে থাকবেন। ভালো খাবার রান্না করে সবাইকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। ভোট গণনা শেষে বিজয় মিছিল করে ঘুমাবেন।’
‎রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়ায় ‎ড. ফয়জুল হকের এই বক্তব্য ঘিরে ঝালকাঠিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বিষয়টিকে রূপক ও গল্পের ছলে দেওয়া বক্তব্য বলে মনে করছেন।‎
‎বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ড. ফয়জুল হক বলেন, ‎‘আমার বক্তব্যটি মিসলিডিং করা হয়েছে। একজন এমপি প্রার্থী হিসেবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশে কথা বলতে হয়। সমাজে দাঁড়িওয়ালা, দাঁড়ি ছাড়া মানুষ, বিড়ি বা সিগারেট খায় এমন মানুষও আছেন। আমি বিশেষ করে দোকানে বসে বিড়ি খাওয়া মানুষদের উদ্দেশে বলেছি—আপনারা বিড়ি টানতে টানতেই দাঁড়িপাল্লায় একটি ভোট চাইবেন।
‎তিনি আরও বলেন, ‘ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে থাকতে মানুষ ভালো হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ চাইলে তাকে মাফ করতেও পারেন। আমাদের আলেমরা ওয়াজ মাহফিলে ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’—এ ধরনের উদাহরণ দেন। আমি বলেছি, আল্লাহ তাকে মাফ করলেও করতে পারেন।’
‎ড. ফয়জুল হক আরও বলেন, ‘আমার সম্পূর্ণ ভিডিও আমার ফেসবুক পেজে আছে। পুরোটা দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আপনারা বিড়ি টানতে টানতেই দাঁড়িপাল্লায় একটি ভোট চাইবেন: ড. ফয়জুল হক

আপডেট সময় : ০১:৪৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের একটি বক্তব্য ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
‎বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে ড. ফয়জুল হক বলেন, ‘এমনও হইতে পারে, আমার ভাই হয়তো জীবনে কোনোদিন ইবাদত করার সুযোগ পায় নাই। তবে ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিয়ে আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়, আল্লাহ চাইলে তার আগের সবকিছু মাফ করে দিতে পারেন। আমি গল্পের ছলে বলি আপনাদের আনন্দ লাগছে। কিন্তু এটা হতেও তো পারে।’
‎বক্তব্যটি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে আপলোড করা হয়। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হয়।
‎ভিডিওতে ড. ফয়জুল হককে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা দৈনিক ৫-১০টা বিড়ি খান না? যে দোকান থেকে খাবেন, সেখানে গিয়ে বিড়ি অর্ডার দেবেন। বিড়ি ধরিয়ে একটা সুখটান দিয়ে গল্পের ছলে বলবেন—দেশের অবস্থা দেখছো? দাঁড়িপাল্লা ছাড়া এ দেশে তো মানুষ দেখি না।’
‎পুরুষ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে ৫ টাকার চা খাবেন, আর ১৫ টাকার গল্প করবেন। দোকানে বসে বলবেন—সব জায়গায় ড. ফয়জুলের দাঁড়িপাল্লার জয়জয়কার।’
‎নারীদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এতদিন উঠানে বসে গপ্পো মারছেন, চুলের বিনি বেঁধে দিচ্ছেন। আজ থেকে একটা মাথাও ফ্রি আচরাবেন না। দাঁড়িপাল্লার কথা দিয়েই পেনাপোডা (গল্প) শুরু করবেন। অন্তত ২০ জন মা-বোন আত্মীয়কে ফোন দিয়ে ভোট দেওয়ার কথা বলবেন।’
‎এ ছাড়া, নির্বাচনের দিন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‎নির্বাচনের রাতে ঘুমাবেন না। ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত জেগে থাকবেন। ভালো খাবার রান্না করে সবাইকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। ভোট গণনা শেষে বিজয় মিছিল করে ঘুমাবেন।’
‎রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়ায় ‎ড. ফয়জুল হকের এই বক্তব্য ঘিরে ঝালকাঠিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বিষয়টিকে রূপক ও গল্পের ছলে দেওয়া বক্তব্য বলে মনে করছেন।‎
‎বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ড. ফয়জুল হক বলেন, ‎‘আমার বক্তব্যটি মিসলিডিং করা হয়েছে। একজন এমপি প্রার্থী হিসেবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশে কথা বলতে হয়। সমাজে দাঁড়িওয়ালা, দাঁড়ি ছাড়া মানুষ, বিড়ি বা সিগারেট খায় এমন মানুষও আছেন। আমি বিশেষ করে দোকানে বসে বিড়ি খাওয়া মানুষদের উদ্দেশে বলেছি—আপনারা বিড়ি টানতে টানতেই দাঁড়িপাল্লায় একটি ভোট চাইবেন।
‎তিনি আরও বলেন, ‘ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে থাকতে মানুষ ভালো হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ চাইলে তাকে মাফ করতেও পারেন। আমাদের আলেমরা ওয়াজ মাহফিলে ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’—এ ধরনের উদাহরণ দেন। আমি বলেছি, আল্লাহ তাকে মাফ করলেও করতে পারেন।’
‎ড. ফয়জুল হক আরও বলেন, ‘আমার সম্পূর্ণ ভিডিও আমার ফেসবুক পেজে আছে। পুরোটা দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’