ঢাকা ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঢাকা-৮ এ পরাজয়ের পর নাসির উদ্দীন পাটওয়ারীর সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা Logo নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে (ইসি) Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা Logo বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই সঙ্গে আজ গণভোট ও নির্বাচন Logo ভোট দিলেন ৫ লাখ ১৫ হাজার প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটে Logo ডিজিটালে জামায়াত, রাজপথে দৃশ্যমান বিএনপি: শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ভিন্ন কৌশল Logo বিশ্বের প্রথম ‘জেন-জি প্রভাবিত নির্বাচন Logo নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা প্রতিহতে যৌথ বাহিনীর মহড়া অনুষ্ঠিত Logo ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয়টি প্রত্যাহার করছে ইসি Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলা নিয়ে জানা অজানা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫৬৬ বার পড়া হয়েছে
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাসায় গ্যাস নেই। আবার গ্যাস থাকলেও চাপ কম। এমন অবস্থা হলে ভাবতে হয় গ্যাসের বিকল্প কী হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বিবেচনায় আসে ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলার কথা। দুটিই বিদ্যুতে চলে। তবে চুলা দুটির মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

ইনডাকশন চুলা গরম হয় তড়িৎ-চুম্বক ক্রিয়ার মাধ্যমে। অর্থাৎ রান্নার পাত্রের যে অংশ চুলার সংস্পর্শে আসে, শুধু সেই অংশই গরম হয়। এতে চুলার অন্যান্য অংশে হাত লাগলেও পোড়ার ঝুঁকি কম থাকে এবং পাত্র না থাকলে চুলা গরম হয় না। এ ধরনের চুলায় ব্যবহার করা যায় শুধু লোহা বা চুম্বক আকর্ষণকারী পাত্র, যেমন স্টিল, কাস্ট আয়রন বা বিশেষ স্টেইনলেস স্টিলে তৈরি পাত্র। সাধারণ অ্যালুমিনিয়াম, তামা, সিরামিক, কাচ বা মাটির পাত্র এতে কাজ করে না।

অন্যদিকে ইনফ্রারেড চুলা তামার উত্তপ্ত কয়েলের মাধ্যমে ওপরের দিক থেকে তাপ দেয়। এই চুলার বড় সুবিধা হলো, মাটির পাত্রসহ এতে যেকোনো ধরনের তাপ-সহনশীল পাত্র ব্যবহার করা যায়। এ ধরনের চুলার অব্যবহৃত অংশ স্পর্শ করলে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। ইন্ডাকশন চুলা দ্রুত গরম হয় এবং বিদ্যুৎসাশ্রয়ী হলেও, ইনফ্রারেড চুলায় পাত্র ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা নেই।

ব্যবহারের সতর্কতা

রান্নার পরপরই গরম থাকা অবস্থায় ঠান্ডা পানি দিয়ে চুলা পরিষ্কার করতে যাবেন না। এতে তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে চুলার উপরিতল ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। চুলা সম্পূর্ণ ঠান্ডা হয়ে এলে তবেই পরিষ্কার করুন। চুলার ওপরের অংশ যেহেতু কাচের তৈরি, তাই পরিষ্কারের জন্য গ্লাস ক্লিনার অথবা হালকা সাবান মেশানো পানি ব্যবহার করা যেতে পারে।

চুলা পরিষ্কারের সময় শক্ত স্ক্রাবার, তারের ব্রাশ বা খসখসে কাপড় ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে কাচের উপরিভাগে আঁচড় পড়তে পারে এবং ধীরে ধীরে চুলার সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে। নরম কাপড় বা মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ। রান্নার সময় যদি কোনো খাবার বা তরল চুলার ওপর পড়ে যায়, তাহলে সেটি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই আলতোভাবে মুছে ফেললে পরিষ্কার করা সহজ হয়। পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার করলে চুলার কর্মক্ষমতা ভালো থাকে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া চুলা পরিষ্কারের আগে অবশ্যই বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নেওয়া উচিত, যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি না থাকে।

দরদাম

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ইনডাকশন চুলা ভিন্ন ভিন্ন দামে পাওয়া যায়। ইনডাকশন চুলা ৩ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ইনফ্রারেড চুলার দাম ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে। এসব চুলার সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি সুবিধা দেওয়া হয়। বর্তমানে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দামে তারতম্য হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলা নিয়ে জানা অজানা

আপডেট সময় : ০৭:৫২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

বাসায় গ্যাস নেই। আবার গ্যাস থাকলেও চাপ কম। এমন অবস্থা হলে ভাবতে হয় গ্যাসের বিকল্প কী হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বিবেচনায় আসে ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলার কথা। দুটিই বিদ্যুতে চলে। তবে চুলা দুটির মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

ইনডাকশন চুলা গরম হয় তড়িৎ-চুম্বক ক্রিয়ার মাধ্যমে। অর্থাৎ রান্নার পাত্রের যে অংশ চুলার সংস্পর্শে আসে, শুধু সেই অংশই গরম হয়। এতে চুলার অন্যান্য অংশে হাত লাগলেও পোড়ার ঝুঁকি কম থাকে এবং পাত্র না থাকলে চুলা গরম হয় না। এ ধরনের চুলায় ব্যবহার করা যায় শুধু লোহা বা চুম্বক আকর্ষণকারী পাত্র, যেমন স্টিল, কাস্ট আয়রন বা বিশেষ স্টেইনলেস স্টিলে তৈরি পাত্র। সাধারণ অ্যালুমিনিয়াম, তামা, সিরামিক, কাচ বা মাটির পাত্র এতে কাজ করে না।

অন্যদিকে ইনফ্রারেড চুলা তামার উত্তপ্ত কয়েলের মাধ্যমে ওপরের দিক থেকে তাপ দেয়। এই চুলার বড় সুবিধা হলো, মাটির পাত্রসহ এতে যেকোনো ধরনের তাপ-সহনশীল পাত্র ব্যবহার করা যায়। এ ধরনের চুলার অব্যবহৃত অংশ স্পর্শ করলে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। ইন্ডাকশন চুলা দ্রুত গরম হয় এবং বিদ্যুৎসাশ্রয়ী হলেও, ইনফ্রারেড চুলায় পাত্র ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা নেই।

ব্যবহারের সতর্কতা

রান্নার পরপরই গরম থাকা অবস্থায় ঠান্ডা পানি দিয়ে চুলা পরিষ্কার করতে যাবেন না। এতে তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে চুলার উপরিতল ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। চুলা সম্পূর্ণ ঠান্ডা হয়ে এলে তবেই পরিষ্কার করুন। চুলার ওপরের অংশ যেহেতু কাচের তৈরি, তাই পরিষ্কারের জন্য গ্লাস ক্লিনার অথবা হালকা সাবান মেশানো পানি ব্যবহার করা যেতে পারে।

চুলা পরিষ্কারের সময় শক্ত স্ক্রাবার, তারের ব্রাশ বা খসখসে কাপড় ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে কাচের উপরিভাগে আঁচড় পড়তে পারে এবং ধীরে ধীরে চুলার সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে। নরম কাপড় বা মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ। রান্নার সময় যদি কোনো খাবার বা তরল চুলার ওপর পড়ে যায়, তাহলে সেটি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই আলতোভাবে মুছে ফেললে পরিষ্কার করা সহজ হয়। পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার করলে চুলার কর্মক্ষমতা ভালো থাকে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া চুলা পরিষ্কারের আগে অবশ্যই বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নেওয়া উচিত, যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি না থাকে।

দরদাম

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ইনডাকশন চুলা ভিন্ন ভিন্ন দামে পাওয়া যায়। ইনডাকশন চুলা ৩ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ইনফ্রারেড চুলার দাম ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে। এসব চুলার সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি সুবিধা দেওয়া হয়। বর্তমানে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দামে তারতম্য হতে পারে।