ঢাকা ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য হওয়া শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের মানববন্ধন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৮:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৫৭০ বার পড়া হয়েছে
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য হওয়া শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বেতন-ভাতা চালু এবং স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শিক্ষা ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা এ দাবি জানান। ‘পদ-বঞ্চিত প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষক জোট’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষকেরা অভিযোগ করেন, পদত্যাগে বাধ্য হওয়া শিক্ষকদের বেতন-ভাতা চালু ও পুনর্বহালের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে একাধিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন নেই। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সালের জানুয়ারি, এপ্রিল ও অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির পরিপত্রে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষক বেতনবিহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনেক ভারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) সিস্টেমে তথ্য হালনাগাদ করছেন না। ফলে প্রায় ৯০০ শিক্ষক বেতন পাচ্ছেন না এবং প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক কর্মস্থলে ফিরতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। এমনকি অনেকের এমপিও ইনডেক্সও মুছে ফেলা হয়েছে।

মানববন্ধন শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ৫ আগস্টের পর সারা দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে শারীরিক ও মানসিক আঘাতে ছয়জন শিক্ষক মারা গেছেন এবং পাঁচ শতাধিক শিক্ষক আহত বা অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। অনেক শিক্ষক মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

জোটের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “সততা ও জবাবদিহিমূলকভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কারণেই আমরা স্বার্থলোভী মহলের আক্রোশের শিকার হয়েছি। সরকারি পরিপত্র দ্রুত বাস্তবায়ন করে শিক্ষকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে শিক্ষা ব্যবস্থা সংকটে পড়বে।”

মানববন্ধন থেকে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে– ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা চালু করা; জোরপূর্বক পদত্যাগ ও ইনডেক্স ডিলিট করার সিদ্ধান্ত বাতিল; আদেশ অমান্যকারী ভারপ্রাপ্ত প্রধানদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ; কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পুনর্বহাল এবং প্রয়োজনে সমমানের অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলির ব্যবস্থা করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য হওয়া শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৭:৫৮:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য হওয়া শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বেতন-ভাতা চালু এবং স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শিক্ষা ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা এ দাবি জানান। ‘পদ-বঞ্চিত প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষক জোট’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষকেরা অভিযোগ করেন, পদত্যাগে বাধ্য হওয়া শিক্ষকদের বেতন-ভাতা চালু ও পুনর্বহালের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে একাধিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন নেই। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সালের জানুয়ারি, এপ্রিল ও অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির পরিপত্রে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষক বেতনবিহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনেক ভারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) সিস্টেমে তথ্য হালনাগাদ করছেন না। ফলে প্রায় ৯০০ শিক্ষক বেতন পাচ্ছেন না এবং প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক কর্মস্থলে ফিরতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। এমনকি অনেকের এমপিও ইনডেক্সও মুছে ফেলা হয়েছে।

মানববন্ধন শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ৫ আগস্টের পর সারা দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে শারীরিক ও মানসিক আঘাতে ছয়জন শিক্ষক মারা গেছেন এবং পাঁচ শতাধিক শিক্ষক আহত বা অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। অনেক শিক্ষক মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

জোটের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “সততা ও জবাবদিহিমূলকভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কারণেই আমরা স্বার্থলোভী মহলের আক্রোশের শিকার হয়েছি। সরকারি পরিপত্র দ্রুত বাস্তবায়ন করে শিক্ষকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে শিক্ষা ব্যবস্থা সংকটে পড়বে।”

মানববন্ধন থেকে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে– ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা চালু করা; জোরপূর্বক পদত্যাগ ও ইনডেক্স ডিলিট করার সিদ্ধান্ত বাতিল; আদেশ অমান্যকারী ভারপ্রাপ্ত প্রধানদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ; কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পুনর্বহাল এবং প্রয়োজনে সমমানের অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলির ব্যবস্থা করা।