ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শেষ হলো অমর একুশে বইমেলা Logo নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকা বেশি নেয়ার সুযোগ নেই:সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী Logo পয়লা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo জ্বালানি তেলের রেশনিং সীমা তুলে নিয়েছে সরকার Logo ওয়াকআউট করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ Logo খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ Logo তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করতে পারেন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা Logo জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে পুলিশ Logo অযথা আতঙ্ক ও ভীতি সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে: শায়খ আহমাদুল্লাহ Logo আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

ডিজিটালে জামায়াত, রাজপথে দৃশ্যমান বিএনপি: শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ভিন্ন কৌশল

আবির মোহাম্মদ
  • আপডেট সময় : ০৫:২৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 121

ছবি : দেশবর্ন গ্রাফিক্স ।

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আর মাত্র কিছু ঘণ্টা বাকি। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় উত্তাল সারা দেশ।

জনসভা, মিছিল, পোস্টার, ব্যানার থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন নির্বাচনী আমেজ। তবে এবারের প্রচারণায় প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কৌশলে স্পষ্ট ভিন্নতা চোখে পড়ছে।

মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দৃশ্যমান ও সনাতন প্রচারমাধ্যম—ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, মাইকিং ও শো-ডাউনে বিএনপি এগিয়ে। বিপরীতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ভার্চুয়াল অঙ্গনে কার্যত শক্ত অবস্থান নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

দুটি জোটের স্লোগানও ভোটের মাঠে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং জামায়াত জোটের ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’—দুই আহ্বানই ভিন্ন আবেগ ও বার্তা নিয়ে ভোটারদের সামনে হাজির হচ্ছে। পাশাপাশি দুই পক্ষের নির্বাচনী গানও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিএনপির ‘ভোট দেবেন কিসে, ধানের শীষে’ গানটি ইতোমধ্যে ফেসবুক-ইউটিউবসহ নানা মাধ্যমে ভাইরাল। দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা গানটি প্রচার করছেন অনলাইনে, আবার পথসভা ও মাইকিংয়েও এটি বাজানো হচ্ছে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর জনসভা ও প্রচারণায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের গান গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ‘জিতবে এবার দাঁড়িপাল্লা’ শিরোনামের গানটি বেশ আলোচিত। ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান ও প্রতীকের প্রতি সমর্থনের বার্তা থাকায় এটি সমর্থকদের মুখে মুখে ঘুরছে। আরও কয়েকটি গান ও ভিডিও কনটেন্ট সামাজিক মাধ্যমে ভালো সাড়া ফেলেছে।

নির্বাচন ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপও নতুন মাত্রা যোগ করেছে আলোচনায়। সম্ভাব্য ফলাফল ও ভোটের প্রবণতা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে চলছে তর্ক-বিতর্ক ও বিশ্লেষণ।
রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা—ধানের শীষের পোস্টার ও বিলবোর্ডে চোখে পড়ে বিএনপির শক্ত উপস্থিতি। মিছিল, পথসভা ও বড় সমাবেশের মাধ্যমে সাংগঠনিক সক্ষমতার জানান দিচ্ছেন প্রার্থীরা। দলটির নেতাকর্মীদের মতে, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনই তাদের প্রধান কৌশল।

অন্যদিকে এবার জামায়াতের প্রচারণা অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও এক্সে সক্রিয় তাদের ডিজিটাল টিম। ইশতেহার, প্রার্থীদের পরিচিতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সংস্কার ভাবনা নিয়ে তৈরি গ্রাফিক্স-ভিডিও তরুণদের লক্ষ্য করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজপথের চেয়ে মোবাইল স্ক্রিনে পৌঁছানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বিএনপি দৃশ্যমান শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ‘উইনিং সেন্টিমেন্ট’ তৈরি করতে চায়। অন্যদিকে জামায়াত নিজেদের আধুনিক ও প্রযুক্তিবান্ধব রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে ডিজিটাল কৌশল নিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ভোটারের বড় একটি অংশ ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই তরুণ ভোটাররা ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিএনপির মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি এবং জামায়াতের ডিজিটাল প্রচারণা—কোনটি তরুণদের বেশি আকৃষ্ট করবে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

শেষ পর্যন্ত পোস্টার-মিছিল নাকি ভার্চুয়াল কনটেন্ট—কোনটি ব্যালট বাক্সে বেশি প্রভাব ফেলবে, তার উত্তর মিলবে ভোটের দিনেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডিজিটালে জামায়াত, রাজপথে দৃশ্যমান বিএনপি: শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ভিন্ন কৌশল

আপডেট সময় : ০৫:২৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আর মাত্র কিছু ঘণ্টা বাকি। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় উত্তাল সারা দেশ।

জনসভা, মিছিল, পোস্টার, ব্যানার থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন নির্বাচনী আমেজ। তবে এবারের প্রচারণায় প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কৌশলে স্পষ্ট ভিন্নতা চোখে পড়ছে।

মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দৃশ্যমান ও সনাতন প্রচারমাধ্যম—ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, মাইকিং ও শো-ডাউনে বিএনপি এগিয়ে। বিপরীতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ভার্চুয়াল অঙ্গনে কার্যত শক্ত অবস্থান নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

দুটি জোটের স্লোগানও ভোটের মাঠে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং জামায়াত জোটের ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’—দুই আহ্বানই ভিন্ন আবেগ ও বার্তা নিয়ে ভোটারদের সামনে হাজির হচ্ছে। পাশাপাশি দুই পক্ষের নির্বাচনী গানও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিএনপির ‘ভোট দেবেন কিসে, ধানের শীষে’ গানটি ইতোমধ্যে ফেসবুক-ইউটিউবসহ নানা মাধ্যমে ভাইরাল। দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা গানটি প্রচার করছেন অনলাইনে, আবার পথসভা ও মাইকিংয়েও এটি বাজানো হচ্ছে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর জনসভা ও প্রচারণায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের গান গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ‘জিতবে এবার দাঁড়িপাল্লা’ শিরোনামের গানটি বেশ আলোচিত। ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান ও প্রতীকের প্রতি সমর্থনের বার্তা থাকায় এটি সমর্থকদের মুখে মুখে ঘুরছে। আরও কয়েকটি গান ও ভিডিও কনটেন্ট সামাজিক মাধ্যমে ভালো সাড়া ফেলেছে।

নির্বাচন ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপও নতুন মাত্রা যোগ করেছে আলোচনায়। সম্ভাব্য ফলাফল ও ভোটের প্রবণতা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে চলছে তর্ক-বিতর্ক ও বিশ্লেষণ।
রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা—ধানের শীষের পোস্টার ও বিলবোর্ডে চোখে পড়ে বিএনপির শক্ত উপস্থিতি। মিছিল, পথসভা ও বড় সমাবেশের মাধ্যমে সাংগঠনিক সক্ষমতার জানান দিচ্ছেন প্রার্থীরা। দলটির নেতাকর্মীদের মতে, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনই তাদের প্রধান কৌশল।

অন্যদিকে এবার জামায়াতের প্রচারণা অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও এক্সে সক্রিয় তাদের ডিজিটাল টিম। ইশতেহার, প্রার্থীদের পরিচিতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সংস্কার ভাবনা নিয়ে তৈরি গ্রাফিক্স-ভিডিও তরুণদের লক্ষ্য করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজপথের চেয়ে মোবাইল স্ক্রিনে পৌঁছানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বিএনপি দৃশ্যমান শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ‘উইনিং সেন্টিমেন্ট’ তৈরি করতে চায়। অন্যদিকে জামায়াত নিজেদের আধুনিক ও প্রযুক্তিবান্ধব রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে ডিজিটাল কৌশল নিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ভোটারের বড় একটি অংশ ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই তরুণ ভোটাররা ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিএনপির মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি এবং জামায়াতের ডিজিটাল প্রচারণা—কোনটি তরুণদের বেশি আকৃষ্ট করবে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

শেষ পর্যন্ত পোস্টার-মিছিল নাকি ভার্চুয়াল কনটেন্ট—কোনটি ব্যালট বাক্সে বেশি প্রভাব ফেলবে, তার উত্তর মিলবে ভোটের দিনেই।