ঢাকা ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

ডিজিটালে জামায়াত, রাজপথে দৃশ্যমান বিএনপি: শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ভিন্ন কৌশল

আবির মোহাম্মদ
  • আপডেট সময় : ০৫:২৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 160

ছবি : দেশবর্ন গ্রাফিক্স ।

দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আর মাত্র কিছু ঘণ্টা বাকি। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় উত্তাল সারা দেশ।

জনসভা, মিছিল, পোস্টার, ব্যানার থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন নির্বাচনী আমেজ। তবে এবারের প্রচারণায় প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কৌশলে স্পষ্ট ভিন্নতা চোখে পড়ছে।

মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দৃশ্যমান ও সনাতন প্রচারমাধ্যম—ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, মাইকিং ও শো-ডাউনে বিএনপি এগিয়ে। বিপরীতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ভার্চুয়াল অঙ্গনে কার্যত শক্ত অবস্থান নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

দুটি জোটের স্লোগানও ভোটের মাঠে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং জামায়াত জোটের ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’—দুই আহ্বানই ভিন্ন আবেগ ও বার্তা নিয়ে ভোটারদের সামনে হাজির হচ্ছে। পাশাপাশি দুই পক্ষের নির্বাচনী গানও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিএনপির ‘ভোট দেবেন কিসে, ধানের শীষে’ গানটি ইতোমধ্যে ফেসবুক-ইউটিউবসহ নানা মাধ্যমে ভাইরাল। দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা গানটি প্রচার করছেন অনলাইনে, আবার পথসভা ও মাইকিংয়েও এটি বাজানো হচ্ছে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর জনসভা ও প্রচারণায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের গান গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ‘জিতবে এবার দাঁড়িপাল্লা’ শিরোনামের গানটি বেশ আলোচিত। ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান ও প্রতীকের প্রতি সমর্থনের বার্তা থাকায় এটি সমর্থকদের মুখে মুখে ঘুরছে। আরও কয়েকটি গান ও ভিডিও কনটেন্ট সামাজিক মাধ্যমে ভালো সাড়া ফেলেছে।

নির্বাচন ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপও নতুন মাত্রা যোগ করেছে আলোচনায়। সম্ভাব্য ফলাফল ও ভোটের প্রবণতা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে চলছে তর্ক-বিতর্ক ও বিশ্লেষণ।
রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা—ধানের শীষের পোস্টার ও বিলবোর্ডে চোখে পড়ে বিএনপির শক্ত উপস্থিতি। মিছিল, পথসভা ও বড় সমাবেশের মাধ্যমে সাংগঠনিক সক্ষমতার জানান দিচ্ছেন প্রার্থীরা। দলটির নেতাকর্মীদের মতে, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনই তাদের প্রধান কৌশল।

অন্যদিকে এবার জামায়াতের প্রচারণা অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও এক্সে সক্রিয় তাদের ডিজিটাল টিম। ইশতেহার, প্রার্থীদের পরিচিতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সংস্কার ভাবনা নিয়ে তৈরি গ্রাফিক্স-ভিডিও তরুণদের লক্ষ্য করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজপথের চেয়ে মোবাইল স্ক্রিনে পৌঁছানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বিএনপি দৃশ্যমান শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ‘উইনিং সেন্টিমেন্ট’ তৈরি করতে চায়। অন্যদিকে জামায়াত নিজেদের আধুনিক ও প্রযুক্তিবান্ধব রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে ডিজিটাল কৌশল নিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ভোটারের বড় একটি অংশ ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই তরুণ ভোটাররা ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিএনপির মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি এবং জামায়াতের ডিজিটাল প্রচারণা—কোনটি তরুণদের বেশি আকৃষ্ট করবে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

শেষ পর্যন্ত পোস্টার-মিছিল নাকি ভার্চুয়াল কনটেন্ট—কোনটি ব্যালট বাক্সে বেশি প্রভাব ফেলবে, তার উত্তর মিলবে ভোটের দিনেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তের কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ, রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ কৃষি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুপম চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ প্রধান, এলজিইডির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় সীমান্ত এলাকার ৮০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি ব্রি জাতের রোপা আমন ধানের বীজ এবং ২৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাট, আখ ও ভুট্টার মতো অধিক উচ্চতার ফসলের পরিবর্তে ধানসহ অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। উপস্থিত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিজিটালে জামায়াত, রাজপথে দৃশ্যমান বিএনপি: শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ভিন্ন কৌশল

আপডেট সময় : ০৫:২৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আর মাত্র কিছু ঘণ্টা বাকি। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় উত্তাল সারা দেশ।

জনসভা, মিছিল, পোস্টার, ব্যানার থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন নির্বাচনী আমেজ। তবে এবারের প্রচারণায় প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কৌশলে স্পষ্ট ভিন্নতা চোখে পড়ছে।

মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দৃশ্যমান ও সনাতন প্রচারমাধ্যম—ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, মাইকিং ও শো-ডাউনে বিএনপি এগিয়ে। বিপরীতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ভার্চুয়াল অঙ্গনে কার্যত শক্ত অবস্থান নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

দুটি জোটের স্লোগানও ভোটের মাঠে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং জামায়াত জোটের ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’—দুই আহ্বানই ভিন্ন আবেগ ও বার্তা নিয়ে ভোটারদের সামনে হাজির হচ্ছে। পাশাপাশি দুই পক্ষের নির্বাচনী গানও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিএনপির ‘ভোট দেবেন কিসে, ধানের শীষে’ গানটি ইতোমধ্যে ফেসবুক-ইউটিউবসহ নানা মাধ্যমে ভাইরাল। দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা গানটি প্রচার করছেন অনলাইনে, আবার পথসভা ও মাইকিংয়েও এটি বাজানো হচ্ছে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর জনসভা ও প্রচারণায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের গান গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ‘জিতবে এবার দাঁড়িপাল্লা’ শিরোনামের গানটি বেশ আলোচিত। ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান ও প্রতীকের প্রতি সমর্থনের বার্তা থাকায় এটি সমর্থকদের মুখে মুখে ঘুরছে। আরও কয়েকটি গান ও ভিডিও কনটেন্ট সামাজিক মাধ্যমে ভালো সাড়া ফেলেছে।

নির্বাচন ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপও নতুন মাত্রা যোগ করেছে আলোচনায়। সম্ভাব্য ফলাফল ও ভোটের প্রবণতা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে চলছে তর্ক-বিতর্ক ও বিশ্লেষণ।
রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা—ধানের শীষের পোস্টার ও বিলবোর্ডে চোখে পড়ে বিএনপির শক্ত উপস্থিতি। মিছিল, পথসভা ও বড় সমাবেশের মাধ্যমে সাংগঠনিক সক্ষমতার জানান দিচ্ছেন প্রার্থীরা। দলটির নেতাকর্মীদের মতে, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনই তাদের প্রধান কৌশল।

অন্যদিকে এবার জামায়াতের প্রচারণা অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও এক্সে সক্রিয় তাদের ডিজিটাল টিম। ইশতেহার, প্রার্থীদের পরিচিতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সংস্কার ভাবনা নিয়ে তৈরি গ্রাফিক্স-ভিডিও তরুণদের লক্ষ্য করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজপথের চেয়ে মোবাইল স্ক্রিনে পৌঁছানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বিএনপি দৃশ্যমান শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ‘উইনিং সেন্টিমেন্ট’ তৈরি করতে চায়। অন্যদিকে জামায়াত নিজেদের আধুনিক ও প্রযুক্তিবান্ধব রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে ডিজিটাল কৌশল নিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ভোটারের বড় একটি অংশ ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই তরুণ ভোটাররা ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিএনপির মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি এবং জামায়াতের ডিজিটাল প্রচারণা—কোনটি তরুণদের বেশি আকৃষ্ট করবে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

শেষ পর্যন্ত পোস্টার-মিছিল নাকি ভার্চুয়াল কনটেন্ট—কোনটি ব্যালট বাক্সে বেশি প্রভাব ফেলবে, তার উত্তর মিলবে ভোটের দিনেই।