শবে কদরের মহিমান্বিত রাতের অপেক্ষায় মুসলিম বিশ্ব, বাড়ছে ইবাদত ও দোয়ার আমেজ
- আপডেট সময় : ০৩:৫৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
- / ৫২৪ বার পড়া হয়েছে
মোঃ আইনুল ইসলাম
দিনাজপুর প্রতিনিধি, দেশবর্ণ নিউজ ।
রমাজান মাসের শেষ দশক মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় সময়। এই সময়ে মুমিনরা বিশেষভাবে একটি মহিমান্বিত রাতের সন্ধান করেন—যে রাতটি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম, সেই পবিত্র শবে কদর। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে এই মহিমান্বিত রাতের সন্ধান করতে বলা হয়েছে।
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মুসলমানদের এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেছেন,
“তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর তালাশ করো।”(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
ইসলামী শিক্ষায় বর্ণিত হয়েছে, রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলো হলো ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমাজান। এই রাতগুলোর যেকোনো একটিতে শবে কদর হতে পারে বলে আলেমরা উল্লেখ করেছেন। তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত এই রাতগুলোতে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেকে নিয়োজিত রাখা।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা শবে কদরের মর্যাদা বর্ণনা করে বলেন—“নিশ্চয়ই আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি শবে কদরে। আর আপনি কি জানেন শবে কদর কী? শবে কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” (সূরা আল-কদর: ১–৩)
হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি শবে কদরের রাতে ঈমান ও সওয়াবের আশায় ইবাদত করে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি: ১৯০১)
এই রাতগুলোতে মুসলমানদের জন্য বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে—নফল নামাজ আদায়, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, দোয়া, তওবা এবং দান-সদকা করার জন্য। কারণ এ রাতগুলোতে আল্লাহ তাআলার রহমত, বরকত ও মাগফিরাত বিশেষভাবে নাজিল হয়। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, শবে কদরের সঠিক রাত নির্দিষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়নি—এতে করে মুসলমানরা যেন শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই আন্তরিকভাবে ইবাদত করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করে।
রমজানের এই বরকতময় সময়ে মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহ্বান—
নিজেকে গুনাহ থেকে দূরে রেখে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া ও মানবকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করা। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শবে কদরের ফজিলত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।




























































