ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেলের রেশনিং সীমা তুলে নিয়েছে সরকার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • / 2
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গণপরিবহনের জন্য জ্বালানি তেলের রেশনিং সীমা তুলে নিয়েছে সরকার। যার ফলে শনিবার রাত থেকে বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন ইচ্ছামতো জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম শনিবার রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী বলেন, “আগে শহর ও দূরপাল্লার রুটে চলা বাসের জন্য জ্বালানি সরবরাহের ওপর যে বিধিনিষেধ ছিল, তা আর থাকছে না।”

মন্ত্রী জানান, আজ রাত থেকে গণপরিবহনগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাবে এবং দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থার জন্য রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে জ্বালানিখাতে বাড়তি চাপ দেখা দিয়েছিল। ফিলিং স্টেশনগুলোতে বাড়তি জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা দেয়। এই অবস্থায় সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে জ্বালানি রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে দরকার।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনকে নির্দেশনা দিয়েছিল যাতে তারা বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে বিক্রি করা জ্বালানি পরিমাণ সীমিত করে।

এই নির্দেশনার অধীনে, মোটরসাইকেলগুলো দৈনিক সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রোল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারত। ব্যক্তিগত গাড়ি ১০ লিটারের বেশি পেত না।

বড় ব্যক্তিগত যানবাহন যেমন স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল এবং মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার ফুয়েল সংগ্রহের অনুমতি ছিল। পিকআপ ট্রাক এবং স্থানীয়ভাবে চলা বাসগুলো ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল সংগ্রহ করতে পারত।

ভারী যানবাহন এবং দূরপাল্লার পরিবহন, যার মধ্যে আন্তঃজেলা বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং কনটেইনার ক্যারিয়ার ছিল, তাদের জন্য দৈনিক ফুয়েল সীমা ২০০ থেকে ২২০ লিটার নির্ধারিত ছিল।

গণপরিবহনের জন্য রেশনিং তুলে নেওয়া হলেও ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য জ্বালানি সংগ্রহের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে মোটরসাইকেল এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য পূর্ববর্তী বিধিনিষেধ কার্যকর থাকতে পারে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থিতিশীল বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পরিবহন ব্যবসায়ীরা মনে করেন, পাবলিক ট্রান্সপোর্টের জন্য রেশনিং তুলে নেওয়া হলে বাস পরিষেবার কার্যক্রমে চাপ কমবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জ্বালানি তেলের রেশনিং সীমা তুলে নিয়েছে সরকার

আপডেট সময় : ১১:৩৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

গণপরিবহনের জন্য জ্বালানি তেলের রেশনিং সীমা তুলে নিয়েছে সরকার। যার ফলে শনিবার রাত থেকে বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন ইচ্ছামতো জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম শনিবার রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী বলেন, “আগে শহর ও দূরপাল্লার রুটে চলা বাসের জন্য জ্বালানি সরবরাহের ওপর যে বিধিনিষেধ ছিল, তা আর থাকছে না।”

মন্ত্রী জানান, আজ রাত থেকে গণপরিবহনগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাবে এবং দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থার জন্য রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে জ্বালানিখাতে বাড়তি চাপ দেখা দিয়েছিল। ফিলিং স্টেশনগুলোতে বাড়তি জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা দেয়। এই অবস্থায় সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে জ্বালানি রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে দরকার।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনকে নির্দেশনা দিয়েছিল যাতে তারা বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে বিক্রি করা জ্বালানি পরিমাণ সীমিত করে।

এই নির্দেশনার অধীনে, মোটরসাইকেলগুলো দৈনিক সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রোল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারত। ব্যক্তিগত গাড়ি ১০ লিটারের বেশি পেত না।

বড় ব্যক্তিগত যানবাহন যেমন স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল এবং মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার ফুয়েল সংগ্রহের অনুমতি ছিল। পিকআপ ট্রাক এবং স্থানীয়ভাবে চলা বাসগুলো ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল সংগ্রহ করতে পারত।

ভারী যানবাহন এবং দূরপাল্লার পরিবহন, যার মধ্যে আন্তঃজেলা বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং কনটেইনার ক্যারিয়ার ছিল, তাদের জন্য দৈনিক ফুয়েল সীমা ২০০ থেকে ২২০ লিটার নির্ধারিত ছিল।

গণপরিবহনের জন্য রেশনিং তুলে নেওয়া হলেও ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য জ্বালানি সংগ্রহের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে মোটরসাইকেল এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য পূর্ববর্তী বিধিনিষেধ কার্যকর থাকতে পারে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থিতিশীল বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পরিবহন ব্যবসায়ীরা মনে করেন, পাবলিক ট্রান্সপোর্টের জন্য রেশনিং তুলে নেওয়া হলে বাস পরিষেবার কার্যক্রমে চাপ কমবে।