ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জ্বালানি সাশ্রয়ে বুধ-বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারকাজ চলবে ভার্চুয়ালি Logo এনসিপিতে যোগদানের হিড়িক Logo ৫ দফা দাবী সহ শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের মানববন্ধন কর্মসূচি Logo পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াবে বাংলাদেশ Logo পাম্প থেকে তেল নিতে অগ্রাধিকার চায় পুলিশ Logo খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পদক নিলেন জাইমা রহমান Logo ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর-এর মমতাময়ী মায়ের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে সরকার Logo মাদক ও মানব পাচার নির্মূলে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ বরণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৪:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 28
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এশার নামাজের পর বিতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। বিতর মূলত আরবি ‘আল-বিতরু’ শব্দ থেকে উদ্ভুত। এর শাব্দিক অর্থ বেজোড়। বিতর নামাজ যেহেতু বেজোড়, তাই তাকে বিতর বলা হয়। বর্ণনাভেদে বিতর নামাজ তিন বা এক রাকাত। 

হানাফি মাজহাব মোতাবেক বিতর নামাজ তিন রাকাত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, ‘রাসুল (সা.) বিতরের নামাজ তিন রাকাত আদায় করতেন।’ (সুনানে দারুকুতনি, হাদিস : ১৬৫৯)

হানাফি মাজহাব অনুযায়ী এক সালামে দুই বৈঠকে ৩ রাকাত বিতরের নামাজ পড়া ওয়াজিব। তবে অন্য মাজহাবে এক রাকাত বিতর পড়ারও অবকাশ রয়েছে। হানাফি মাজহাব মেনে চলা ব্যক্তির জন্য তিন রাকাত বিতর নামাজ পড়তে হবে। যেসব মাজহাবে এক রাকাত বিতর আদায় করা হয়, এমন কোনো মাজহাবের ইমামের পেছনে হানাফি মাজহাব মেনে চলা মুক্তাদি ইক্তিদা করলে তার নামাজ হবে কি না?

এ বিষয়ে হানাফি মাজহাবের গ্রহণযোগ্য মতামত হলো, এই মুক্তাদির বিতরের নামাজ সহীহ হবে না। (মুসনাদে আবি হানিফা হাদিস :৭৬, রদ্দুল মুহতার ৮/২, মারাকিল ফালাহ শরহে নূরুল ইযাহ পৃ: নং ১৩৯,)

তবে দুইটি শর্ত পাওয়া গেলে হানাফি মাজহাবের মুক্তাদি অন্য মাজহাবের ইমামের ইক্তিদা করলে তার বিতর নামাজ সহিহ হয়ে যাবে। শর্তগুলো হলো—

১. ইমামের সঙ্গে বিতরের নামাজ পড়ার সময় দুই রাকাতের পর বৈঠক করে সালাম ফেরানো যাবে না।
২.  ইমাম শুধু বিতরের নিয়ত করবেন, নিয়তের মধ্যে নফল বা সুন্নতের উল্লেখ করা যাবে না। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। (মাআরিফুস সুনান শরহে সুনানুত তিরমিজি, ৪/১৭৪, ইমদাদূল আহকাম ১/৫৯৭)

আমাদের জানামতে হারাম শরিফের ইমামগণ বিতরের নামাজে ২ রাকাতের পর উভয় দিকে সালাম ফিরিয়ে নেন। এরপর বিতর হিসেবে ১ রাকাত যুক্ত করেন। এজন্য হানাফি মাজহাবের অনুসারী যে মুসল্লিরা রমজান মাসে ওমরাহ করার জন্য হারাম শরিফে যান তাদের জন্য উচিত হলো মসজিদে বা বাসায় এসে হানাফি পদ্ধতিতে আলাদাভাবে বিতরের নামাজ আদায় করা। (ফাতাওয়ায়ে হাবীবিয়্যাহ ৩/৩৮৩, নাজমুল ফাতাওয়া ২/৫৩৮,)

তবে প্রয়োজনের কারণে বিশৃঙ্খলা এড়াতে হানাফি মাযহাবের অনুসারী মুক্তাদিদেরও হারাম শরীফের ইমাম বা অন্য মাজহাবের ইমামদের পেছনে ইক্তিদা করার অবকাশ দিয়েছেন কোন কোন মুফতি সাহেব। সেক্ষেত্রে হানাফি মুক্তাদি ওয়াজিব বিতরের নিয়ত করবে না বরং শুধু বিতরের নিয়ত করবে এবং দুই রাকাতের পর ইমামের সাথে সালাম ফিরাবে না বরং ইমাম যখন তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন তখন তার সাথে দাঁড়িয়ে নামাজ পূর্ণ করবে এবং দোয়ায়ে কুনুতের সময় তাদের সাথে হাত উঠাবে না। এই মত অনুযায়ী এই পদ্ধতিতে তার বিতরের নামাজ সহিহ হয়ে যাবে।

মুফতী মনসুরুল হক : প্রধান মুফতী ও শাইখুল হাদীস, জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া ও জামিআতুল আবরার রাহমানিয়া, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আপডেট সময় : ০১:৫৪:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

এশার নামাজের পর বিতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। বিতর মূলত আরবি ‘আল-বিতরু’ শব্দ থেকে উদ্ভুত। এর শাব্দিক অর্থ বেজোড়। বিতর নামাজ যেহেতু বেজোড়, তাই তাকে বিতর বলা হয়। বর্ণনাভেদে বিতর নামাজ তিন বা এক রাকাত। 

হানাফি মাজহাব মোতাবেক বিতর নামাজ তিন রাকাত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, ‘রাসুল (সা.) বিতরের নামাজ তিন রাকাত আদায় করতেন।’ (সুনানে দারুকুতনি, হাদিস : ১৬৫৯)

হানাফি মাজহাব অনুযায়ী এক সালামে দুই বৈঠকে ৩ রাকাত বিতরের নামাজ পড়া ওয়াজিব। তবে অন্য মাজহাবে এক রাকাত বিতর পড়ারও অবকাশ রয়েছে। হানাফি মাজহাব মেনে চলা ব্যক্তির জন্য তিন রাকাত বিতর নামাজ পড়তে হবে। যেসব মাজহাবে এক রাকাত বিতর আদায় করা হয়, এমন কোনো মাজহাবের ইমামের পেছনে হানাফি মাজহাব মেনে চলা মুক্তাদি ইক্তিদা করলে তার নামাজ হবে কি না?

এ বিষয়ে হানাফি মাজহাবের গ্রহণযোগ্য মতামত হলো, এই মুক্তাদির বিতরের নামাজ সহীহ হবে না। (মুসনাদে আবি হানিফা হাদিস :৭৬, রদ্দুল মুহতার ৮/২, মারাকিল ফালাহ শরহে নূরুল ইযাহ পৃ: নং ১৩৯,)

তবে দুইটি শর্ত পাওয়া গেলে হানাফি মাজহাবের মুক্তাদি অন্য মাজহাবের ইমামের ইক্তিদা করলে তার বিতর নামাজ সহিহ হয়ে যাবে। শর্তগুলো হলো—

১. ইমামের সঙ্গে বিতরের নামাজ পড়ার সময় দুই রাকাতের পর বৈঠক করে সালাম ফেরানো যাবে না।
২.  ইমাম শুধু বিতরের নিয়ত করবেন, নিয়তের মধ্যে নফল বা সুন্নতের উল্লেখ করা যাবে না। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। (মাআরিফুস সুনান শরহে সুনানুত তিরমিজি, ৪/১৭৪, ইমদাদূল আহকাম ১/৫৯৭)

আমাদের জানামতে হারাম শরিফের ইমামগণ বিতরের নামাজে ২ রাকাতের পর উভয় দিকে সালাম ফিরিয়ে নেন। এরপর বিতর হিসেবে ১ রাকাত যুক্ত করেন। এজন্য হানাফি মাজহাবের অনুসারী যে মুসল্লিরা রমজান মাসে ওমরাহ করার জন্য হারাম শরিফে যান তাদের জন্য উচিত হলো মসজিদে বা বাসায় এসে হানাফি পদ্ধতিতে আলাদাভাবে বিতরের নামাজ আদায় করা। (ফাতাওয়ায়ে হাবীবিয়্যাহ ৩/৩৮৩, নাজমুল ফাতাওয়া ২/৫৩৮,)

তবে প্রয়োজনের কারণে বিশৃঙ্খলা এড়াতে হানাফি মাযহাবের অনুসারী মুক্তাদিদেরও হারাম শরীফের ইমাম বা অন্য মাজহাবের ইমামদের পেছনে ইক্তিদা করার অবকাশ দিয়েছেন কোন কোন মুফতি সাহেব। সেক্ষেত্রে হানাফি মুক্তাদি ওয়াজিব বিতরের নিয়ত করবে না বরং শুধু বিতরের নিয়ত করবে এবং দুই রাকাতের পর ইমামের সাথে সালাম ফিরাবে না বরং ইমাম যখন তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন তখন তার সাথে দাঁড়িয়ে নামাজ পূর্ণ করবে এবং দোয়ায়ে কুনুতের সময় তাদের সাথে হাত উঠাবে না। এই মত অনুযায়ী এই পদ্ধতিতে তার বিতরের নামাজ সহিহ হয়ে যাবে।

মুফতী মনসুরুল হক : প্রধান মুফতী ও শাইখুল হাদীস, জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া ও জামিআতুল আবরার রাহমানিয়া, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা