ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

নামাজে উৎসাহিত করতে ৩১৭ শিশুকে সাইকেল উপহার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • / 62
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পবিত্র রমজান মাসে শিশুদের মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। মাসব্যাপী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করায় মিরপুর এলাকার ৩১৭ জন কোমলমতি শিশুর হাতে পুরস্কার হিসেবে নতুন সাইকেল তুলে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মিরপুর বাংলা স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিশুদের হাতে এই উপহার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল হক বলেন, “সাইকেল উপহারটি বড় বিষয় নয়, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো ছোট ছোট শিশুদের নামাজের প্রতি অভ্যস্ত করা। এই বয়সে তারা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নামাজে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তবে ভবিষ্যতে তারা আর নামাজ ছাড়বে না।”

তিনি আরও জানান, তাঁর নির্বাচনী এলাকার ৪টি ওয়ার্ডের ৬টি মসজিদের মোট ৩১৭ জন শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিপূর্বে একটি পর্ব সম্পন্ন হয়েছে এবং আজ শেষ ধাপে ২৪৫ জন শিশুকে সাইকেল প্রদান করা হলো। শিশুদের এই অভ্যাস শুধু রমজান মাসেই সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর ধরে রাখার জন্য তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা এবং খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়নের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “আগামী ৩০শে মার্চ দেশের জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হবে।” এছাড়া এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।

সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা চাঁদাবাজ, মাদক ও দখলদার মুক্ত সমাজ গড়তে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। যারাই এসব অপরাধে জড়িত থাকবে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে।” গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাটিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় মসজিদের ইমাম, খতিব, অভিভাবক এবং বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শিশুদের এই সুন্দর আয়োজনে সহযোগিতা করার জন্য প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নামাজে উৎসাহিত করতে ৩১৭ শিশুকে সাইকেল উপহার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ১১:৫১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

পবিত্র রমজান মাসে শিশুদের মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। মাসব্যাপী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করায় মিরপুর এলাকার ৩১৭ জন কোমলমতি শিশুর হাতে পুরস্কার হিসেবে নতুন সাইকেল তুলে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মিরপুর বাংলা স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিশুদের হাতে এই উপহার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল হক বলেন, “সাইকেল উপহারটি বড় বিষয় নয়, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো ছোট ছোট শিশুদের নামাজের প্রতি অভ্যস্ত করা। এই বয়সে তারা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নামাজে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তবে ভবিষ্যতে তারা আর নামাজ ছাড়বে না।”

তিনি আরও জানান, তাঁর নির্বাচনী এলাকার ৪টি ওয়ার্ডের ৬টি মসজিদের মোট ৩১৭ জন শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিপূর্বে একটি পর্ব সম্পন্ন হয়েছে এবং আজ শেষ ধাপে ২৪৫ জন শিশুকে সাইকেল প্রদান করা হলো। শিশুদের এই অভ্যাস শুধু রমজান মাসেই সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর ধরে রাখার জন্য তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা এবং খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়নের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “আগামী ৩০শে মার্চ দেশের জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হবে।” এছাড়া এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।

সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা চাঁদাবাজ, মাদক ও দখলদার মুক্ত সমাজ গড়তে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। যারাই এসব অপরাধে জড়িত থাকবে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে।” গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাটিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় মসজিদের ইমাম, খতিব, অভিভাবক এবং বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শিশুদের এই সুন্দর আয়োজনে সহযোগিতা করার জন্য প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।