ঢাকা ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একাধিক ফ্লাইট বাতিল Logo অগ্নিঝরা মার্চ স্বাধীনতার মাস মার্চ Logo সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নিবন্ধন সম্পন্ন, রেজিস্ট্রেশন নম্বর S-14517 Logo নরসিংদী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশ্ন হাসনাত আবদুল্লাহ-র Logo তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত কর‌তে আগ্রহী পা‌কিস্তা‌নের প্রধানমন্ত্রী Logo বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ Logo ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না যে ৬ শ্রেণির মানুষ Logo পালিত হবে ‘শহীদ সেনা দিবস’ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo প্রশ্নপত্রের একটি অংশে ওসমান হাদির দুইটি উক্তি

শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমানো উপকার না ক্ষতি ?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬৩৫ বার পড়া হয়েছে
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
শীত পড়লেই রাতের ঘুমে স্বস্তি পেতে অনেকেই পায়ে মোজা পরেন। কারও কাছে এটি আরামের অভ্যাস, আবার কারও কাছে প্রয়োজন। ছোটবেলা থেকে শোনা ‘মোজা পরে ঘুমাও’ কথাটিও অনেকের মনে গেঁথে আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই অভ্যাসটি কি সত্যিই শরীরের জন্য উপকারী, নাকি অজান্তেই ডেকে আনে স্বাস্থ্যঝুঁকি?
চিকিৎসকদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে মোজা পরে ঘুমানো আরামদায়ক হলেও ভুল ধরনের মোজা বা নিয়ম না মেনে এই অভ্যাস বজায় রাখলে ঘুমের ব্যাঘাত থেকে শুরু করে ত্বক ও রক্ত সঞ্চালনজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাহলে শীতের রাতে মোজা পরা কখন উপকারী, আর কখন ক্ষতির কারণ তা জানা জরুরি।
রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে
অনেকে মনে করেন, মোজা পায়ে থাকলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। কিন্তু মোজা যদি আঁটসাঁট হয়, তাহলে উল্টো ফল হতে পারে। দীর্ঘ সময় চাপ পড়লে পায়ের শিরা ও স্নায়ুর ওপর প্রভাব পড়ে, যা অস্বস্তি বা ঝিনঝিনে ভাব তৈরি করতে পারে। তাই ঠান্ডা লাগলে সব সময় ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক মোজা বেছে নেওয়াই নিরাপদ।
ত্বকে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা
সব ধরনের মোজা ঘুমের জন্য উপযোগী নয়। বিশেষ করে সিনথেটিক বা নাইলনের মোজা বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত করে। ফলে পায়ে ঘাম জমে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঘটে। এর ফল হিসেবে চুলকানি, ফাঙ্গাল সংক্রমণ কিংবা দুর্গন্ধের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমানো উপকার না ক্ষতি?
শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ব্যাহত হয়
ঘুমের সময় শরীর ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে বিশ্রামের উপযোগী অবস্থায় যায়। কিন্তু মোজা পরে ঘুমালে পায়ের তাপ বের হতে না পেরে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে উঠতে পারে। এতে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয় এবং গভীর ঘুম হয় না।
ঘুমের আরাম নষ্ট হতে পারে
অস্বস্তিকর বা টাইট মোজা পায়ে থাকলে ঘুমের মধ্যে অজান্তেই পা নাড়াচাড়া করতে হয়। এতে বারবার ঘুম ভেঙে যেতে পারে। নিয়মিত এমন হলে ঘুমের মান কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে অনিদ্রার সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হয়
দিনভর ব্যবহৃত বা অপরিষ্কার মোজা পরে ঘুমানো স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এতে পায়ের জীবাণু বিছানায় ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা ত্বকের সমস্যা ও দুর্গন্ধের কারণ হতে পারে। ঘুমানোর সময় মোজা পরতেই হলে তা অবশ্যই পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
তাহলে কি মোজা পরে ঘুমানো একেবারেই নিষেধ?
সব ক্ষেত্রেই নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের পা অত্যধিক ঠান্ডা হয়ে যায় বা যাদের রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা রয়েছে, তারা নির্দিষ্ট শর্তে মোজা পরে ঘুমাতে পারেন। সেক্ষেত্রে মোজাটি হতে হবে ঢিলেঢালা, তুলার তৈরি এবং পরিষ্কার।
শীতের রাতে আরাম পাওয়ার জন্য অভ্যাস তৈরি করা দোষের নয়, তবে তা যেন স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। মোজা পরে ঘুমানোর আগে তাই বুঝে নিন, এটি আপনার শরীরের জন্য সত্যিই উপকারী কি না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমানো উপকার না ক্ষতি ?

আপডেট সময় : ০১:০৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
শীত পড়লেই রাতের ঘুমে স্বস্তি পেতে অনেকেই পায়ে মোজা পরেন। কারও কাছে এটি আরামের অভ্যাস, আবার কারও কাছে প্রয়োজন। ছোটবেলা থেকে শোনা ‘মোজা পরে ঘুমাও’ কথাটিও অনেকের মনে গেঁথে আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই অভ্যাসটি কি সত্যিই শরীরের জন্য উপকারী, নাকি অজান্তেই ডেকে আনে স্বাস্থ্যঝুঁকি?
চিকিৎসকদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে মোজা পরে ঘুমানো আরামদায়ক হলেও ভুল ধরনের মোজা বা নিয়ম না মেনে এই অভ্যাস বজায় রাখলে ঘুমের ব্যাঘাত থেকে শুরু করে ত্বক ও রক্ত সঞ্চালনজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাহলে শীতের রাতে মোজা পরা কখন উপকারী, আর কখন ক্ষতির কারণ তা জানা জরুরি।
রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে
অনেকে মনে করেন, মোজা পায়ে থাকলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। কিন্তু মোজা যদি আঁটসাঁট হয়, তাহলে উল্টো ফল হতে পারে। দীর্ঘ সময় চাপ পড়লে পায়ের শিরা ও স্নায়ুর ওপর প্রভাব পড়ে, যা অস্বস্তি বা ঝিনঝিনে ভাব তৈরি করতে পারে। তাই ঠান্ডা লাগলে সব সময় ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক মোজা বেছে নেওয়াই নিরাপদ।
ত্বকে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা
সব ধরনের মোজা ঘুমের জন্য উপযোগী নয়। বিশেষ করে সিনথেটিক বা নাইলনের মোজা বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত করে। ফলে পায়ে ঘাম জমে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঘটে। এর ফল হিসেবে চুলকানি, ফাঙ্গাল সংক্রমণ কিংবা দুর্গন্ধের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমানো উপকার না ক্ষতি?
শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ব্যাহত হয়
ঘুমের সময় শরীর ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে বিশ্রামের উপযোগী অবস্থায় যায়। কিন্তু মোজা পরে ঘুমালে পায়ের তাপ বের হতে না পেরে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে উঠতে পারে। এতে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয় এবং গভীর ঘুম হয় না।
ঘুমের আরাম নষ্ট হতে পারে
অস্বস্তিকর বা টাইট মোজা পায়ে থাকলে ঘুমের মধ্যে অজান্তেই পা নাড়াচাড়া করতে হয়। এতে বারবার ঘুম ভেঙে যেতে পারে। নিয়মিত এমন হলে ঘুমের মান কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে অনিদ্রার সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হয়
দিনভর ব্যবহৃত বা অপরিষ্কার মোজা পরে ঘুমানো স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এতে পায়ের জীবাণু বিছানায় ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা ত্বকের সমস্যা ও দুর্গন্ধের কারণ হতে পারে। ঘুমানোর সময় মোজা পরতেই হলে তা অবশ্যই পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
তাহলে কি মোজা পরে ঘুমানো একেবারেই নিষেধ?
সব ক্ষেত্রেই নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের পা অত্যধিক ঠান্ডা হয়ে যায় বা যাদের রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা রয়েছে, তারা নির্দিষ্ট শর্তে মোজা পরে ঘুমাতে পারেন। সেক্ষেত্রে মোজাটি হতে হবে ঢিলেঢালা, তুলার তৈরি এবং পরিষ্কার।
শীতের রাতে আরাম পাওয়ার জন্য অভ্যাস তৈরি করা দোষের নয়, তবে তা যেন স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। মোজা পরে ঘুমানোর আগে তাই বুঝে নিন, এটি আপনার শরীরের জন্য সত্যিই উপকারী কি না।