ন্যাটোর দুই মিত্রকে একহাত নিতে চায় পেন্টাগন!
- আপডেট সময় : ০২:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
- / 37
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযানে মিত্র দেশগুলোর অসহযোগিতা পেন্টাগনকে চরম ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, পেন্টাগনের শীর্ষ নীতি নির্ধারক এলব্রিজ কোলবি একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে ন্যাটো জোটের বেশ কিছু সদস্য দেশকে ‘শাস্তি’ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই তালিকায় ব্রিটেন ও স্পেনের মতো শক্তিশালী মিত্রদের নাম উঠে আসায় আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের তোলপাড় শুরু হয়েছে।
পেন্টাগনের ওই ইমেইল অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের জন্য আকাশপথ ব্যবহার, সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশাধিকার এবং রিফুয়েলিংয়ের মতো মৌলিক সুবিধাগুলো দিতে অনীহা প্রকাশ করেছে কিছু দেশ। কোলবি একে ন্যাটোর ‘ন্যূনতম ভিত্তি’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, বিপদের সময় যারা পাশে থাকে না, তাদের জোটে থাকার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি।
বিশেষ করে স্পেন ও ব্রিটেনের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন সবচেয়ে বেশি বিরক্ত, কারণ তারা সরাসরি এই যুদ্ধে জড়াতে বা তাদের ভূমি ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
পেন্টাগনের প্রস্তাবিত নীতিমালায় স্পেনকে ন্যাটো জোট থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার মতো কঠোর পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। স্পেনের বামপন্থী সরকার তাদের আকাশপথ ও ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে বাধা দেয়ায় ওয়াশিংটন এই প্রতীকী শাস্তির কথা ভাবছে।
অন্যদিকে, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে বারবার ‘ভীরু’ বলে কটাক্ষ করা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন আরও একধাপ এগিয়ে গেছেন। ইমেইলটিতে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে বিতর্কিত ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ’ ইস্যুতে আমেরিকা তার দীর্ঘদিনের অবস্থান পরিবর্তন করে আর্জেন্টিনার দাবিকে সমর্থন করতে পারে। আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হ্যাভিয়ের মিলেই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় এই বিষয়টি লন্ডনের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলি উইলসন সরাসরি এই ইমেইল নিয়ে মন্তব্য না করলেও বলেছেন, আমেরিকা বছরের পর বছর ধরে ন্যাটোর জন্য যা করেছে, তার বিনিময়ে সংকটের সময় মিত্রদের পাশে পাওয়া যায়নি। তিনি মিত্র দেশগুলোকে ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে এখন বেশ কিছু কঠোর বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে।
যদিও ন্যাটোর চুক্তিতে কোনো সদস্যকে বহিষ্কার বা স্থগিত করার স্পষ্ট বিধান নেই, তবুও ওয়াশিংটনের এমন অবস্থান ৭৬ বছরের পুরনো এই জোটের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ব্রিটেন ও ফ্রান্সের দাবি, আমেরিকার এই নৌ-অবরোধে যোগ দেয়া মানে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া, যা তারা এই মুহূর্তে চায় না। এর ফলে ইউরোপে এক ধরণের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, ভবিষ্যতে তারা আক্রান্ত হলে আমেরিকা হয়তো আর রক্ষাকর্তা হিসেবে এগিয়ে আসবে না। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এবং জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন মিত্রদের ওপর চাপ আরও বাড়াচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন কেবল রণক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বে ফাটল ধরিয়েছে। মিত্রদের ‘শাস্তি’ দেওয়ার এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে বিশ্বরাজনীতির মেরুকরণ সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।

























































