কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসীদের আতংকে খিলগাঁও বাসী, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের নীরব ভূমিক
- আপডেট সময় : ১০:৪৭:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 46
নাদিম শেখ আদর (ক্রাইম রিপোর্টার)
গত ৫ আগস্টের পর থেকে রাজধানীর খিলগাঁও থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মনে করেন, অলিগলি জুড়ে কিশোর গ্যাং ও অস্ত্রধারীদের প্রকাশ্য মহড়া এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়মিত আড্ডা এখন নিত্যদিনের সাধারণ চিত্রে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার থানায় অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নীরব। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতির কোনো সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঢাকা-৯ আসনের এমপি হাবিবুর রশিদ হাবিব একাধিকবার এসব অপরাধী চক্র নির্মূলের কথা বললেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। অভিযোগ রয়েছে, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কিছু সদস্যকে আর্থিকভাবে প্রভাবিত করে নিজেদের নিরাপদ রেখেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাই মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে হয়। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তিনি আরও বলেন, এ জন্য ডিবি ও র্যাবের কার্যকর পদক্ষেপ আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
এদিকে, গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে খিলগাঁও থানাধীন আদর্শবাগ এলাকার রজনীগন্ধা রোডে খিলগাঁও প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক পাপ্পু চৌধুরীর ওপর কিশোর গ্যাংয়ের হামলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, থানায় বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করলে দ্রুত সাড়া পাওয়া যায়—যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। উক্ত সাংবাদিকের লিখিত দুটো জিডি ( সাধারণ ডায়েরি) পড়ে আছে আইনি টেবিলে কিন্তু কোন সূরাহা না হওয়ার কারণে কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসীদের উৎপাত আরোও বেড়ে গেছে বলে ভুক্তভোগী জানায়।
এলাকাবাসী ও সাংবাদিক মহল দাবি করেন যে, উক্ত কিশোর গ্যাং গ্রুপ এবং তাদের ইন্ধনদাতাগন ফেইক ভিডিও তৈরি করে ব্লগার দিয়ে মিথ্যা বিভ্রান্ত মূলক অপবাদ ছড়িয়ে দিয়ে যে সম্মানহানি করেছেন তার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং এর বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে এবং সাধারণ মানুষ ও বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তারা আরও অভিযোগ করেন কিছু অসাধু কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে অভিযোগকারীদের তথ্য ফাঁস করে দেন, যা ভুক্তভোগীদের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ করে সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
উল্লেখ্য, খিলগাঁও থানা এলাকার বিভিন্ন কিশোর গ্যাং ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।



























































